স্যন্দন ডিজিটাল ১৫ ফেব্রুয়ারি :- ম্যাচ বয়কট জারি রাখলেই কি ভালো হত? টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের কাছে দুরমুশ হওয়ার পর ভাবতেই পারেন পাকিস্তানের ক্রিকেটভক্তরা। শ্রীলঙ্কায় সলমন আলি আঘারা গেলেন, নামলেন এবং হারলেন। পাকিস্তানের বয়কট নাটকের জবাব ব্যাটে-বলে দিলেন সূর্যকুমার যাদবরা। কখনও ঈশান কিষানের ব্যাটে ঝড় তো কখনও ভারতীয় স্পিনারদের নাগপাশ। সব মিলিয়ে পাকিস্তান হারল ৬১ রানে। আর ভারত পৌঁছে গেল বিশ্বকাপের সুপার এইটে। ও, ‘এইট’ থেকে মনে পড়ল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই নিয়ে আটবার পাকিস্তানকে হারাল ভারত।
টসে জিতুক বা হারুক, সূর্যদের জয়ের পরিসংখ্যান বদলায় না। পাক অধিনায়ক সলমন টসে জিতে আশা করেছিলেন, রান তাড়া করা তুলনায় সহজ হবে। বাস্তবটা যে কতটা কঠিন, তা প্রথমে বোঝালেন ঈশান কিষান। পরে জশপ্রীত বুমরাহ-অক্ষর প্যাটেলরা। কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামের স্লো, স্পিন-সহায়ক পিচে ১৭৬ রান তাড়া করা মানে যে পাহাড়প্রমাণ চাপ মাথায় নেওয়া, সেটা হাড়ে হাড়ে বুঝলেন বাবর আজমরা। ম্যাচের প্রথম ওভারে অভিষেক শর্মার উইকেট তুলে সেলিব্রেশনে মেতেছিলেন সলমনরা। আর শেষে এসে শুধুই হতাশা। ঠিক এশিয়া কাপের তিনটে ম্যাচের মতো।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অভিষেকের উইকেট হারালেও চাপে পড়েনি টিম ইন্ডিয়া। সেটা হতে দিলেন না ঈশান কিষান। পাকিস্তানের বোলারদের যেভাবে তিনি মাঠের বাইরে ফেললেন, তাতে মনেই হবে না দু’মাস আগেও টিম ইন্ডিয়ার র্যাডারে ছিলেন না। মাত্র ২৭ বলে হাফসেঞ্চুরি করলেন। শাদাব খান, শাহিন আফ্রিদি এক-একটা করে বল করছেন, আর ভারতের ভক্তরা অপেক্ষা করছেন সেই বলটা ঈশান মাঠের কোনদিকে পাঠান। এভাবেই ১০টা চার ও ৩টি ছক্কায় ৪০ বলে ৭৭ রান করে ফেলেন। সাইম আয়ুবের বলে যখন তিনি আউট হচ্ছেন, তখন ভারতের ইনিংস শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে গিয়েছে।
কিন্তু পরপর আউট হয়ে টিম ইন্ডিয়াকে বিপাকে ফেলে দিয়েছিলেন তিলক বর্মা ও হার্দিক পাণ্ডিয়া। সূর্য ধরে খেললেন, কিন্তু দরকারের সময় রানের গতি বাড়াতে পারলেন না। ৩২ রান করে উসমান তারিকের বলেই ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন ভারতের অধিনায়ক। পাকিস্তানের অদ্ভুত অ্যাকশনের এই স্পিনারকে নিয়ে কম চর্চা হয়নি। তাঁকে সামলাতে ভারতীয় ব্যাটারদের একটু সমস্যা হল ঠিকই। তবে পাক অধিনায়কের দুই সিদ্ধান্তে ভারতের কাজ সহজ হয়ে যায়। এক, ঈশানের ব্যাটিংয়ের সময় উসমানকে বল করতে আনেননি। দুই, শেষ ওভারে শাহিন আফ্রিদিকে বোলিংয়ে নিয়ে এলেন। যে ওভারে রিঙ্কু সিং-শিবম দুবেরা তুললেন ১৬ রান। ভারতের রান দাঁড়াল ১৭৫।
বিশ্বকাপে আগের দু’টি ভারতকে একেবারেই বেগ দিতে পারেনি আমেরিকা ও নামিবিয়া। এত নাটকের পর অন্তত পাকিস্তান লড়াই দেবে, এটা তো আশা করাই যায়। কোথায় কী? প্রথম দুই ওভারেই পাক ব্যাটিংয়ের কোমর ভেঙে গেল। তার জন্য স্পিনারদের ডাকার প্রয়োজনই পড়েনি। প্রথম ওভারেই সাহিবজাদা ফারহানকে আউট করেন হার্দিক। এশিয়া কাপে পাক ব্যাটার ব্যাট দিয়ে স্টেনগান সেলিব্রেশন করেছিলেন। এদিন গোলাবারুদ সবই জলে গেল। পরের ওভারে মিসাইল ছুড়লেন জশপ্রীত বুমরাহ। সাইম আয়ুব ও সলমন আলি আঘার জন্য দু’টো ‘বুম বুম’ এবং দুই পাক ব্যাটার সোজা ড্রেসিংরুমে। ম্যাচের ভাগ্য ওখানেই ঠিক হয়ে যায়। এরপর বাবর আজম ‘টেস্ট ব্যাটিং’য়ের ধারা বজায় রাখলেন। অক্ষর প্যাটেলের বলটা যেন তাঁর উইকেট ভাঙল না, ছুরির মতো সোজা গিয়ে বিঁধল।
সেখান থেকে কিছুটা মরিয়া মনোভাব দেখিয়েছিলেন উসমান খান। কিন্তু তা যেন একা কুম্ভের লড়াই। কারণ বিপরীতে শাদাব খান, মহম্মদ নওয়াজরা মাঠে আসা ও ড্রেসিংরুমে ফেরার ধারা বজায় রেখেছিলেন। তিলক বর্মা ফেরালেন শাদাবকে এবং কুলদীপের শিকার নওয়াজ।

