Sunday, February 15, 2026
বাড়িরাজ্যঘোলা জলে মাছ ধরতে চাইছে, মথাকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর

ঘোলা জলে মাছ ধরতে চাইছে, মথাকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৫ ফেব্রুয়ারি : মহারাণী তুলসীবতী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ষষ্ট বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় আগরতলা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী টাউন হলে। প্রদীপ প্রজ্জলনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সুচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। পরে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে জিএসডিপি ও মাথা পিছু গড় আয়ের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা রাজ্য দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। জনজাতিদের জন্য কে কাজ করছে, তাদের জন্য কে কথা বলছে তা বুঝতে হবে।

বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠার পর জনজাতি সমাজপতিদের জন্য সাম্মানিক ভাতা প্রদান শুরু করা হয়েছে। জনজাতিদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, পরম্পরাকে বাচিয়ে রাখার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ২৩ বছর ধরে রাজ্যে ব্রু-রিয়াং শরণার্থীরা দুর্বিষহ জীবন যাপন করে আসছিল। বর্তমান সরকার তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছে। ১২ টি স্থানে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধুমাত্র পুনর্বাসন নয়। তারা যেন সঠিক ভাবে জীবন যাপন করতে পারে তারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। জনজাতি ছেলে মেয়েরা বর্তমানে সর্ব ক্ষেত্রে ভাল ফলাফল করছে। বর্তমান সরকার সকলকে নিয়ে এক সাথে থাকতে চায়। কিন্তু কেউ কেউ ঘোলা জল করার চেষ্টা করছে।

 আইন না মেনে ১২৩ টি এডিসি ভিলেজ করে ফেলেছে। বর্তমানে আবার সুপ্রিমকোর্টে গিয়েছে। জনজাতি কল্যাণ দপ্তর থেকে বলা হয়েছে এইটা আইন সম্মত নয়। এখন তারা বলছে ভুল করেছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ড্রাগস দিয়ে জনজাতি যুবক যুবতীদের পঙ্গু করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তার জন্য সচেতনতার প্রয়োজন। শিরা পথে ড্রাগস নেওয়ার ফলে এইডসে আক্রান্ত হচ্ছে। এই বিষয় গুলি নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। বর্তমান সরকারের সময় মহারাজাদের সম্মান দেওয়া হয়েছে। জনজাতি এলাকার উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থ বর্ষে বাজেট বরাদ্দের চেয়ে বেশি অর্থ জনজাতি এলাকার উন্নয়নের জন্য দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার মানেই উন্নয়ন। উন্নয়ন ছাড়া কোন কথা হবে না। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী দেশকে শক্তিশালী করছেন। তার সাথে ত্রিপুরাও শক্তিশালী হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারতের জন্য সময় সীমা বেঁধে দিয়েছেন। বিকশিত ত্রিপুরা ২০৪৭ এর জন্য ত্রিপুরা রাজ্যও রূপ রেখা ঠিক করে নিয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘ দিন ধরে ত্রিপুরা রাজ্যে বিভাজনের নীতি করে আগামিদিনের ভবিষ্যতকে বিপথে পরিচালিত করা হয়েছে। ১৯৭০ এর দশকে স্কুল কলেজে যাওয়া একটা বিপদ জনক অবস্থা ছিল। এতে করে কয়েকটি প্রজন্ম শেষ হয়ে গেছে। কখন কোন জায়গায় বোমা পড়বে কেউই বলতে পারত না। জনজাতিদের নিয়ে দীর্ঘ বছর ভোট বাক্সের খেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর জনজাতিদের উন্নয়নের জন্য পৃথক দপ্তর চালু করেন। নরেন্দ্র মোদী প্রধান মন্ত্রী হওয়ার পর এক্ট ইস্ট পলিসির কথা বলেছেন। কারন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন না হলে দেশের উন্নয়ন হবে না। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বেশিরভাগ জনজাতি অংশের মানুষের বসবাস। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংসদ রাজিব ভট্টাচার্য, মন্ত্রী সান্তনা চাকমা ও মহারাণী তুলসীবতী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বিপিন দেববর্মা সহ অন্যান্যরা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য