স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৯ আগস্ট : কথায় আছে বন্ধু বন্ধুর শত্রু। বাংলার এই প্রবাদ বাক্যটি যেন অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল। বন্ধুকে হত্যার দায়ে এক ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডের সাজা ঘোষণা করল বিশালগড়স্থিত সিপাহীজলা জেলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালত। ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর কমলাসাগর চা বাগানে। জানা যায় ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর ভক্ত মুন্ডা ও জনেস মুন্ডা দুই বন্ধু এক বিয়ে বাড়িতে কাজ করতে যায়। তারপর জনেস মুন্ডা আর বাড়িতে ফিরে আসে নি।
পরের দিন অর্থাৎ ২৪ নভেম্বর জনেস মুন্ডার শ্যালক থানায় একটি মামলা দায়ের করে। পুলিশ ভক্ত মুন্ডাকে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ চালালে সে স্বীকার করে বিয়ে বাড়িতে থেকে বাড়িতে ফিরে আসার সময় ভক্ত মুন্ডা ও জনেস মুন্ডার মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়। তখন ভক্ত মুন্ডা ইট দিয়ে জনেস মুন্ডার মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। এবং মৃতদেহ জঙ্গলে ফেলে দেয়। পরবর্তী ভক্ত মুন্ডা পুলিশকে মৃতদেহ দেখিয়ে দেয়। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত করে। তারপর মধুপুর থানার পুলিস ভক্ত মুন্ডার বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করে।
মামলার তদন্তকারি অফিসার তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে আদালতে চার্জসিট জমা দেন। তারপর বিশালগড়স্থিত সিপাহীজলা জেলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আদালতে বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন সময় মোট ২১ জন সাক্ষির সাক্ষ্য বাক্য গ্রহণ করা হয়। ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট বিশালগড়স্থিত সিপাহীজলা জেলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক অভিযুক্ত ভক্ত মুন্ডাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। শুক্রবার বিচারক আসামি ভক্ত মুন্ডার সাজা ঘোষণা করেন। আসামি ভক্ত মুন্ডাকে ভারতীয় দন্ড বিধির ৩০২ নং ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড সহ ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদন্ডের সাজা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভারতীয় দণ্ড বিধির ২০১ নং ধরায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ড সহ ২ হাজার টাকা জরিমানা আনাদায়ে আরও দুই মাসের সাজা ঘোষণা করা হয়। আদালতের এই রায়ের বিষয়ে জানান সরকার পক্ষের আইনজীবী রিপন সরকার। জনেস মুন্ডার হত্যার পর থেকে তাঁর পরিবারের লোকজন ন্যায় বিচারের অপেক্ষায় আদালতের দিকে তাকিয়ে ছিল। এইদিন আদালতের রায় বের হওয়ার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মৃত জনেস মুন্ডার পরিবারের লোকজন।

