স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৬ আগস্ট : যেন মনে হয় সবকিছুই মগের মুল্লুক! যখন যা খুশি তাই হবে রাজ্যে, প্রতিবাদ জানাবে না কেউ। প্রসঙ্গ, মঙ্গলবার রাতে বিশ্রামগঞ্জ মোটর স্ট্যান্ড এলাকায় এক যাত্রীবাহী বাসে যুবতীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মারধর এবং ভাঙচুরের ঘটনা। এই ঘটনার জেরে এবার প্রতিবাদে সরব হয়েছে বাস চালকরা। বুধবার সকাল থেকে সোনামুড়া – আগরতলা বাস পরিষেবা বন্ধ রেখেছে পরিবহন শ্রমিকরা।
তাদের বক্তব্য, মঙ্গলবার রাতে টি আর ০৭ ১২২৬ নম্বরের বাস আগরতলা থেকে সোনামুড়া আসার সময় এক যুবতীকে শ্লীলতাহানি করেছে বলে অভিযোগ তুলে যাত্রীদের মারধর এবং গাড়ি ভাংচুর চালানো হয়। পুলিশ কোনরকম নিরাপত্তা দিতে পারে নি গাড়ি চালক এবং সহজ চালককে। বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে গাড়ি চালকরা। তাই মালিকপক্ষকে না জানিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য যাত্রী পরিষেবা বন্ধ রেখেছেন গাড়ি চালকরা। শেষ পর্যন্ত মালিকপক্ষ সোনামুড়া স্ট্যান্ডে এসে জানতে পারে কেন তারা বাস পরিষেবা বন্ধ রেখেছে। তারপর ছুটে আসেন নাগেরজেলা বাসস্ট্যান্ডে। বিষয়টি নিয়ে সমাধানের পথ খুঁজতে। কিন্তু বাস চালক ও সহ চালকদের দাবি যারা গাড়ি চালক, সহ চালক এবং যাত্রীদের মারধর করেছে তাদের গ্রেফতার করতে হবে।
পাশাপাশি নিরাপত্তার সুনিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই তারা গাড়ি চালিয়ে পরিষেবা দেবে, না হলে পরিষেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা। এদিকে বিশ্রামগঞ্জ স্ট্যান্ডে দুর্বৃত্তরা তীর্থ ভ্রমণে যাওয়া বাস ভাঙচুর করে। নরসিংগড় দক্ষিণ বগাদী এলাকার বাস গাড়ির মালিক সাধনা বর্মন জানান, তিনি তার দেব গোপাল বাস গাড়িটি বিশ্রামগঞ্জ তার আপন দুই ভাই দিলীপ বর্মন এবং প্রদীপ বর্মনের কাছে দিয়ে রেখেছেন। প্রত্যেক বছর তীর্থযাত্রীদের দ্বারা তীর্থ ভ্রমণে নিয়ে যান। মঙ্গলবার রাতে তাদের বাস গাড়িটি ভাঙচুর করে। বুধবার দুপুরে তারা বিশ্রামগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। সংবাদ লেখা পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় পুলিশ প্রশাসন কাউকে গ্রেফতার করে নি। কাঠ পুতুল সেজে মঙ্গলবার সেদিন সুরক্ষা দিয়েছে গুন্ডাবাহিনীদের। সেখানে পুলিশ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। অথচ গুন্ডাবাহিনীকে পুরোপুরিভাবে নিরাপত্তা দিয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে সাধারণ পথচারীদের কাছ থেকে।

