স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৩ আগস্ট : আগামী ৯ আগস্ট বিশ্ব আদিবাসী দিবস। প্রদেশ আদিবাসী কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রাজ্যের নয়টি সাংগঠনিক জেলায় বিভিন্নভাবে বিশ্ব আদিবাসী দিবস উদযাপন করা হবে। ২৩ আগস্ট এডিসি দিবস পালন করা প্রত্যেকটি ব্লক এলাকায়। জন জাতীয় অংশের মানুষকে বুঝানো হবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন কিভাবে ঠকিয়েছে, সেটা আলোপাত করা হবে। রবিবার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা করেন প্রদেশ আদিবাসী কংগ্রেসের চেয়ারম্যান শব্দকুমার জমাতিয়া। তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে তিপরা মথার নাম না করে বলেন ২০২১ সাল থেকে একটি রাজনৈতিক দল টিটিএএডিসি-তে ক্ষমতায় আসার পর থেকে জনজাতি এলাকায় গুলির উন্নয়ন হয়নি।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানীয় জল, রাস্তাঘাট এবং কর্মসংস্থান কোন কিছুই হয়নি রাজ্যের জনজাতি এলাকাগুলোতে। এই সমস্যাগুলির জন্য প্রতিদিন জনজাতি অংশের মানুষ রাস্তা রুখে দাঁড়াচ্ছে। অথচ কোনরকম উন্নয়ন নেই। সুতরাং বর্তমান ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলটি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। আর এই ব্যর্থতা ঢাকার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছে। ৯ আগস্ট এবং ২৩ আগস্ট কর্মসূচি মধ্যে দিয়ে জনজাতি অংশের মানুষকে সচেতন করা হবে বলে জানান তিনি। আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী। তিনি বলেন, গত কয়েক বছর যাবত কেন্দ্রীয় সরকারের স্বীকৃত সমীক্ষক সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী দেশের সব কয়টি রাজ্যের আর্থিক পরিকাঠামো, আর্থিক সমৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে সমৃদ্ধির হার, মুদ্রাস্ফীতি ও বিনিয়োগ প্রধানত এই বিষয় সমূহের রাজ্যগুলির অবস্থা বিচার বিশ্লেষনের নিরিখে কেন্দ্রীয় সরকারকে রিপোর্ট দাখিল করে। ২০২৫ সালের রিপোর্টে ১০০ পয়েন্টের স্কোর নির্ধারিত করে রাজ্যগুলিকে দুটো ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। এ ক্যাটাগরি বড় রাজ্য গুলি ৪ ক্যাটাগরিতে আমাদের রাজ্য সহ ছোট ১১ টি রাজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এর মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যের অবস্থা ১০০ পয়েন্টের মধ্যে রাজ্যের স্কোর ৩৪.২ পয়েন্ট। ১১ টির মধ্যে সর্বশেষ ১১ তম রাজ্য ত্রিপুরা। কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর উন্নয়ন দপ্তরের ২০২৪-২৫ সালের ভারতের ছোট বড় সবকটি রাজ্যের মান নির্ণয়ে উন্নয়নমূলক কাজের নিরিখে বেছে নেওয়া হয় ৩ টি ক্যাটাগরিতে। যেমন স্বচ্ছলিনা শহর, স্বচ্ছ শহর বা প্রমিসিং স্বচ্ছ শহরের বিচারে বেছে নেওয়া দেশের একাত্তরটি শহরের মধ্যে গর্বের স্মার্ট সিটি আগরতলার স্থান নেই, শুধু প্রমিসিং স্বচ্ছ শহর হিসাবে খোয়াই স্থান করে নিয়েছে। ২০২৪ মার্চে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন স্মার্ট সিটির বরাদ্দ ৫৪১ কোটি টাকার ৬৫ টি প্রকল্পের ৫৮ টি সম্পন্ন হওয়ায় ৪৫৯ কোটি টাকা ব্যয় এবং এবছর এপ্রিলে জানায় এই প্রকল্পে ৯৫% শতাংশ শতাংশ কাজই সম্পন্ন। প্রশ্ন উন্নয়নের টাকা কোথায় গিয়েছে? প্রধানমন্ত্রীর বহুল প্রচারিত লুক ইস্ট পলিসি, ভোকাল ফর লোকাল, বা মেইক ইন ইন্ডিয়া এর অন্ত লক্ষ্মী উত্তর পূর্বের হাল, বিশেষত উন্নয়নের ধজা উড়ানো লাখপতি দিদিদের গল্প বলা ত্রিপুরার হাল উঠে এসেছে সম্প্রীতি কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্প মন্ত্রণালয় এবং উত্তর পূর্বের প্রাইম মিনিস্টার এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন প্রোগ্রাম রিপোর্ট থেকে। এই প্রোগ্রামে ২০২৩-২৪ সালে উত্তর পূর্বাঞ্চলে মোট বরাদ্দ ২৬৬ কোটি ৬০ লক্ষ্য ৬০০০ টাকার মধ্যে ত্রিপুরা ২৬ কোটি ৬৮ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা পায়। এতে ১৪ কোটি ৪৪ লক্ষ ২১ হাজার টাকার ৫৮৮ টি ইউনিট গড়ে ওঠে। কর্মসংস্থান হয় ৪ হাজার ৭০৪ জনের বাকি টাকা এখনো খরচ করতে পারেনি। এই প্রকল্পে উত্তর পূর্বের ন্যায় রাজ্যেও এই প্রকল্পে আনিহাদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে ১৪-১৯ সালে ১১৭৯ ইউনিট ছিল ১৯-২০ তে ৯৬৩ টি, ২০-২১ তে ৮৪২২১-২২এ ৯৫৮টি, ২২-২৩ এ৫৮৮ টি। মুখপাত্র আরো বলেন, দেশে বর্তমানে আদিবাসী মানুষের সংখ্যা ১২ কোটি। যা মোট জনসংখ্যা ৮.৬% জনগণনাতে কারচুপি করায় আদিবাসীদের মুসলিম, জৈন, শিখদের সাথে না রেখে অন্যান্যদের সাথে রাখা হয়েছে। ২০ বছর পূর্বে বনধিকার আইনের ২৩ সালে সংশোধন করার ফলে ৬৮,০০০ পরিবার সংরক্ষিত এলাকা থেকে উচ্ছেদ হয়ে যাবে, দেশের ৭০ শতাংশ খনি প্রকল্প আদিবাসী এলাকায় থাকার ফলে এদের জীবনে গভির সংকট দেখা দিয়েছে। ন্যাশানেল ক্রাইম বিউরো রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতিদিন দেশে গড়ে প্রতিদিন ১১ জন আদিবাসী মহিলা ধর্ষিতা বা গণধর্ষণের শিকার হচ্ছে। এগুলি নিয়ে সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন প্রবীর চক্রবর্তী।

