স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২১ জুলাই :যারা টেট পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষক হয়েছেন তারা অত্যন্ত ভাগ্যবান। সকলে শিক্ষক হওয়ার সুযোগ পায় না। তাই এই শিক্ষকতা সঠিকভাবে পালন করে গুণগত শিক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের গড়ে তুলতে হবে। কারণ ছাত্র-ছাত্রীদের এই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের হাতেই থাকবে দেশ এবং রাজ্য। রাজ্যের শিক্ষক শিক্ষিকাদের উদ্দেশ্যে এই কথাগুলি বললেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা।
সোমবার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে চলতি বছর ১০০ শতাংশ মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হওয়া বিদ্যালয় গুলির সম্বর্ধনা প্রদান করার শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। তিনি বলেন, চলতি শিক্ষা বর্ষে যেসব বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকে ১০০ শতাংশ পাশ করেছে সেসব বিদ্যালয় প্রশংসারযোগ্য। নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ এবং গুণগত শিক্ষা সেসব স্কুলে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসের মধ্যে মনোযোগের ফোকাস কমিয়ে পাইভেট টিউশনের দিকে ফোকাস করানো হচ্ছে। যার ফলে ছাত্রছাত্রীরা ক্লাসের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত থাকলেও মানসিকভাবে তারা প্রাইভেট শিক্ষকদের বাড়িতে থাকে। এর থেকে ছাত্রছাত্রীদের বের করে আনতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের এমন মানসিকতা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে যা শিখতে হবে সেটা সেই জায়গায় বসে শিখতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন রাজ্যের ছেলে মেয়েরা দেশের অন্যান্য রাজ্যের ছেলেমেয়েদের থেকে কোন অংশে কম নয়। এটাই প্রমাণ করে এ বছরের মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল। কিন্তু এতে আত্ম সন্তুষ্টিতে ভুগলে চলবে না।
আগামী দিন ছেলেমেয়েদের আরো কিভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ বর্তমান সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে চলেছে শিক্ষা ক্ষেত্রে। রাজ্যের ছেলেমেয়েরা চাকরির জন্য কোচিং সেন্টারে দৌড়ায়। এ বিষয়টির উপর গুরুত্ব দিয়ে অর্থমন্ত্রীর সাথে কথা বলা হয়েছে। তারপর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান ও ইংরেজি বিষয়ের উপর কোচিং সেন্টার চালু করা হবে। একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণীর ১০০ জন করে শিক্ষার্থীকে কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া হবে। এর জন্য সদর মহকুমায় তিনটি কোচিং সেন্টার স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে আরো গুরুত্ব দিয়ে আমবাসা, কাকড়াবন এবং করবুকে তিনটি সাধারণ ডিগ্রী কলেজ স্থাপন করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী ১০০ শতাংশ উত্তীর্ণ হওয়া বিদ্যালয় গুলির প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকাদের হাতে সর্মনানা তুলে দেন।

