স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২০ জুন : আবারো সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে আনন্দনগর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা। কর্তব্যরত অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স চালক হাসপাতালের ভেতর ঘুমাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, মদমত্ত অবস্থায় তলমলে হয়েছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাতের বেলা একজন রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক দেখেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন কাঁপছেন রোগী। রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসার পর জিবি হাসপাতালে রেফার করে দেন চিকিৎসক। ১১ টা ৪৫ মিনিটে রেফার করার পরেও রাত প্রায় সাড়ে বারোটা পর্যন্ত হাসপাতলে রোগীকে নিয়ে অপেক্ষা করতে হয় পরিবার-পরিজনের।
তারা জানতে পারে অ্যাম্বুলেন্স চালক হাসপাতালে আছেন, অথচ তিনি পুরোপুরি মদমত্ত অবস্থায় ঘুমাচ্ছেন। তারপর রোগীর পরিবারের লোকজনেরা হাসপাতালের মধ্যেই উত্তেজিত হয়ে ওঠে। অ্যাম্বুলেন্স চালককে ঘুম থেকে ডেকেও তুলে। তারপর কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে যান রোগীর পরিবারের লোকজন। চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা করা হয় তিনি ইনচার্জ হওয়ার সত্বেও কেন অ্যাম্বুলেন্স চালক এভাবে মদমত্ত অবস্থায় থাকে? ইনচার্জ জানিয়ে দেন এ বিষয়টি তিনি শুক্রবার উদ্বোধন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আনবেন। যাতে অভিযুক্ত এম্বুলেন্স চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রোগীর পরিবারে প্রশ্ন যদি অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে কোন রোগীর মৃত্যু হয় তাহলে এর দায়ভার হাসপাতালের চিকিৎসক এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক নেবে কিনা? এর সঠিক জবাব দিতে পারেননি দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক। রোগীর পরিবারের অভিযোগ গত কয়েকদিন আগেও একজন সংকটাপন্ন রোগীকে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক রেফার করেছিলেন। সেই রোগীর ক্ষেত্রেও একই অবস্থা হয়েছিল। অ্যাম্বুলেন্স থাকার সত্বেও চালক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকায় জিবি হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত দমকল কর্মীরা হাসপাতালে পৌঁছে সংকটাপন্ন রোগীকে জিবি হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এমন পরিস্থিতি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। পরবর্তী সময়ে অটো দিয়ে রোগীকে জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে আনতে শ্রীনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।

