স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ১২ জুন : প্রথমবার ১১ বছর বয়সী এক শিশুর মেরুদন্ড জনিত জটিল অস্ত্রপাচার হয় এজিএমসি এবং জিবি হাসপাতালে। শিশুটির নাম রূপম ভৌমিক। বাড়ি রাজধানীর রেশম বাগান এলাকায়। গত ২৮ মার্চ তাকে শিশু বিভাগে ভর্তি করানো হয়েছিল। দুইজন তার অস্ত্রোপচার হয়। বৃহস্পতিবার এজিএমসি -র কাউন্সিল রুমে সাংবাদিক সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান জি বি হাসপাতালের মেডিকেল সুপার ডঃ শংকর চক্রবর্তী, নিউরোসার্জন বিভাগের ইনচার্জ ডাক্তার সিদ্ধারেড্ডি অঙ্কিরেড্ডিপল্লি। তারা জানান, শিশুটি হিল্ড স্পাইনাল টিবি-র কারণে সিবিআর কাইফোসিসে ভুগছিল।
চিকিৎসকরা জানান শিশুটি -র মেরুদন্ডে নকেল ডিফমিটি তৈরি হয়েছিল। যার ফলে সামনে ঝুঁকে পড়া ও ঘুমের অসুবিধা সহ দৈনন্দিন কাজ করতে সমস্যা হতো। শুধু তাই নয় সে ঘুমানোর সময় অসুবিধায় পড়তো। সঠিক সময়ে তার চিকিৎসা না হলে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার দিকে যেতে পারত। নিউরো সার্জারি টিম পি এস ও নামক জটিল অস্ত্র প্রচার পরিচালনা করে মেরুদন্ড সোজা করে এবং স্নায়ু রক্ষা করে।
এই সাফল্য শুধুমাত্র চিকিৎসা জগতের দক্ষতার ফল নয়। বরং হাসপাতাল প্রশাসনের সমন্বয় ও সহায়তার কারণে সম্ভব হয়েছে। হাসপাতালে মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সার্জিক্যাল সামগ্রিক সংগ্রহ করে এই চিকিৎসার ব্যবস্থা শিশুটির জন্য করা হয়। অস্ত্রোপচারে ছিলেন নিউরোসার্জন বিভাগের ইনচার্জ ডাক্তার সিদ্ধারেড্ডি অঙ্কিরেড্ডিপল্লি, তিনি এই অস্ত্রোপচরে প্রধান সার্জনের দায়িত্ব পালন করেছেন। সঙ্গে ছিলেন সরকারি নিউরো সার্জন ডাঃ সুমন ধর, ডাঃ দেবদত্ত সাহা, শিশু বিভাগের চিকিৎসক এবং অধ্যাপক সঞ্জীব দেববর্মা, ডাক্তার রিপন দেববর্মা, ডাক্তার চয়ন সরকার সহ অন্যান্যরা। তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় শিশুটির মেরুদন্ডের ভারসাম্য পুনঃস্থাপন হয়েছে। বর্তমানে শিশুদের মেরুদন্ডে কোন জটিলতা নেই। শিশুটি বর্তমানে পিঠের উপর স্বাচ্ছন্দে ঘুমাতে পারে। চিকিৎসকের প্রতিনিধি দল আরও জানিয়েছেন, যক্ষা কেবল ফুসফুসে নয়, মেরুদন্ডও আক্রান্ত করতে পারে। আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিশুটি মা-বাবা এবং শিশুকে। শিশুটির মা জানান, উনার ছেলে মেরুদন্ডের সমস্যায় উঠে দাঁড়াতে এবং বসতে পারত না। চিকিৎসকদের কারণে উনার ছেলে এই কঠিন যুদ্ধে জয়ী হতে পেরেছেন।

