Thursday, May 19, 2022
বাড়িরাজ্য১৩ দফা দাবিতে বিক্ষোভ বামেদের

১৩ দফা দাবিতে বিক্ষোভ বামেদের

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১২ মে : পরিবহন শ্রমিকদের সাথে কোনরকম আলোচনা না করে সরকার সময়ে সময়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে। যাতে শ্রমিকদের সাথে মানুষের একটা বিরোধ সৃষ্টি হয়। তাই সরকারকে দেরি না করে শ্রমিক সাথে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। বৃহস্পতিবার অল ইন্ডিয়া রোড ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের উদ্যোগে বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রেখে এ কথা বলেন  সি আই টি ইউ রাজ্য সভাপতি মানিক দে।

 গায়ের জোরে সব কিছু চলে না। কোন একটি আইন লাগু করতে গেলে সে বিষয়ে সকলকে বুঝাতে হবে। সরকার এবং মানুষের এই সম্পর্কটা আজ খারাপ জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে। পরিবহন শিল্প দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। এতে মানুষ বেকার হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মানিক দে। আরবানে ১৭৩ টি বাস ছিল পূর্বতন সরকারের আমলে। এখন ৪০ টি বাসও চলে না। টি আর টি সি’ র আবস্হাও বেহাল। কিন্তু সরকার পরিষেবার কোন উন্নতি না করে অবস্থার ক্রমাগত বেহাল দশা ঘটাচ্ছে বর্তমান সরকার। নরেন্দ্র মোদি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দেশে পেট্রোল, ডিজেল, যানবাহনের যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্য কয়েকশ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবিকা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। তাই জীবিকা রক্ষার জন্য রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছে। এমনকি পরিবহন শ্রমিকদের অবস্থা দিন দিন পাহাড় গড়ে তুলছে বর্তমান আইনি ব্যবস্থা। মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ শ্রমিকদের জরিমানা করছে।

 নয়তো জেলে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। দেশে ৩০ শতাংশ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। ১০ কোটি মানুষ পরিবহন শিল্পের সাথে জড়িত। কিন্তু বর্তমানে এই শিল্পটাকে ঘরে বসে দিচ্ছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার। একই পথে হাঁটছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর রোড ট্যাক্স বাড়িয়ে দিয়েছে, ইন্সুরেন্স গোটা দেশে বেড়েছে। এক অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে আছে গোটা দেশে। এর বিরুদ্ধে রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোনো পথ নেই বলে জানান মানিক দে। অটোতে মিটার বসানো নিয়ে বলেন, দেশে মিটার অটো পরিষেবা নেই বলে চলে। কিন্তু ত্রিপুরা এভাবে মিটার অটো পরিষেবা চালুর ফলে ক্ষতি হচ্ছে পরিবহন শ্রমিকদের। তাই সরকারকে শ্রমিক সংগঠন গুলির সাথে বসে আলোচনা করা দরকার। কারণ গোটা রাজ্যে পরিবহন শ্রমিকদের সাথে একটা অরাজগতা চলছে। প্রতিবাদ করলে শ্রমিকদের মারধর করা হচ্ছে, শ্রমিকদের সেন্টিগ্রেড থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে। আমজনতা বিরোধী, শ্রমিক বিরোধী সরকারের বিরুদ্ধে আগামী দিনেও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানান শ্রী দে। এদিন মিছিলটি শুরু হয় সি আই টি ইউ রাজ্য কার্যালয়ে সামনে থেকে। শহরে বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে পরে পরিবহন দপ্তরের প্রধান সচিবের কাছে গণ ডেপুটেশন প্রদান করা হয়। দাবি গুলি মূলত পেট্রোল ডিজেল এবং দেশের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ করে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করতে হবে, শ্রমিকদের মিথ্যা মামলায় জড়ানো বন্ধ করা সহ ১৩ দফা দাবিতে এদিন সরব হয় ত্রিপুরা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন, ত্রিপুরা অটোরিকশা ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, ত্রিপুরা ই রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন, ত্রিপুরা রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন এবং ত্রিপুরা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য