Tuesday, July 23, 2024
বাড়িরাজ্যকিডনি প্রতিস্থাপনে সফলতা পেল জিবি হাসপাতাল

কিডনি প্রতিস্থাপনে সফলতা পেল জিবি হাসপাতাল

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ৮ জুলাই : সোমবার প্রথমবার জিবি হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। এদিন মুন্না সাহা সূত্রধর নামে রামনগরের বাসিন্দা তার কুড়ি বছর বয়সী ছেলেকে কিডনি দান করেছেন। এই কিডনি প্রতিস্থাপনে সহযোগিতা করেছে সিজা হাসপাতাল। কিডনি প্রতিস্থাপনে এদিন দায়িত্ব পালন করেছে ১২ জনের একটি টিম। তাদের আত্মবিশ্বাসে আজকে এই সফলতা আসে।

বর্তমানে রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল। সোমবার বিকেলে জিবি হাসপাতালেল কনফারেন্স হলে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে এই কথা জানান হাসপাতালের এম এস শংকর চক্রবর্তী। রোগীর পরিবারকেও ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তারা জিবি হাসপাতালে চিকিৎসকের টিমের উপর আস্থা রাখার কারণে আজ জিবি হাসপাতালের ডাক্তারদের সফলতা এসেছে। তিনি আরো বলেন, কুড়ি বছর পুরনো এজিএমসি এবং ৬৫ বছর পুরনো এই জিবি হাসপাতালে এ ধরনের পরিষেবা থাকা অত্যন্ত জরুরী। এবং দিন দিন সফলতার সাথে জিবি হাসপাতালে বিভিন্ন সুপার স্পেশালিটি চালু হচ্ছে। এর মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপন হল অন্যতম একটি সিদ্ধান্ত। যা আজ সফল হয়েছে জিবি হাসপাতালে চিকিৎসকরা। তিনি বলেন, বিগত বছর আগস্ট মাসে ২১ তারিখ এ ধরনের একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেদিন কাউন্সিল রুমে এই বৈঠকে চিকিৎসকরা বলেছিলেন আগামী এক বছরের মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপন পরিষেবা জিবি হাসপাতালে চালু করা গেলে অত্যন্ত উপকৃত হবে রাজ্যের মানুষ। এর দুদিন পর একটি কমিটি তৈরি করা হয়। সেই কমিটির মধ্যে ছিলেন যারা মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপন করেন। তারপর একটি প্রটোকল তৈরি করে গত জানুয়ারি মাসের চার তারিখ জমা দেওয়া হয়। সেই প্রটোকল মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহাকে পাঠানো হয়।

তারপর মুখ্যমন্ত্রী গত জানুয়ারি মাসের ১৮ তারিখ অনুমোদন দিয়ে দেয়। তারপর সেই ছাড়পত্র পেয়ে সৃজা হাসপাতালের সাথে মৌস্বাক্ষর হয়। বিভিন্ন পর্যায়ক্রমে এগিয়ে আজকে এই সফলতা এসেছে বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান কিডনি প্রতিস্থাপন করার আগে কিছু শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হয় রোগীর। এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা গুলি সমস্ত কিছু ত্রিপুরা রাজ্যের ল্যাবে হয় না। এগুলো রোগীর বাইরে থেকে পরীক্ষা করে আনা হয়। জি বি হাসপাতালের এম এস আরো জানান, রোগীদের জন্য জিবি হাসপাতালে এই পরিষেবা পুরোপুরি বিনামূল্যে। আজকে যে রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপন করেছে, তার আয়ুষ্মান কার্ডও ছিল। আজকে যারা কিডনির প্রতিস্থাপনে সহযোগিতা করতে মণিপুর থেকে এসেছেন তাদের সমস্ত আর্থিক খরচ বহন করবে সরকার। এবং তারা জিবি হাসপাতালের কাছ থেকে কোন অর্থ না নিলেও তাদের একটি অর্থ আসে প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আগামী দিনে এ ধরনের কিডনি প্রতিস্থাপন করার চিকিৎসা পরিষেবা আগরতলার জিবি হাসপাতালে আরও বেশি পরিমাণে ত্বরান্বিত হবে। এখানে দক্ষ নিউরোলজিস্ট ও রয়েছে। মনিপুর থেকে যে ১২ জনের চিকিৎসকদের দলটি এসেছে তাদের সংগঠন সৃজা ফাউন্ডেশন এর সঙ্গে পাঁচ বছরের মৌ স্বাক্ষরিত হয়েছে। মনিপুরের চিকিৎসকরা নিয়মিত এখানে আসবেন। এই কিডনি প্রতিস্থাপন করতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগবে। এদিনের আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জিবি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক সহ সার্জারিতে অংশ নেওয়া গোটা টিম।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য