Tuesday, July 23, 2024
বাড়িরাজ্য১ জুলাই থেকে সারাদেশে মতো ত্রিপুরায় তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন লাগু হবে

১ জুলাই থেকে সারাদেশে মতো ত্রিপুরায় তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন লাগু হবে

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২৯ জুন : সারা দেশের সাথে ১ জুলাই থেকে রাজ্যেও লাগু হবে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-২০২৩, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা-২০২৩ ও ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম-২০২৩ নামে তিনটি নতুন আইন। নারী, শিশু এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধ দূরীকরণে অগ্রাধিকার দিয়ে ফৌজদারি বিচারের সংস্কার সাধন করা হয়েছে।

নতুন আইনের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, বিচার প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। শনিবার সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই কথা জানান রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব পি.কে চক্রবর্তী। তিনি জানান জুলাই মাস থেকে লাগু হওয়া ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-২০২৩, ভারতীয় দণ্ড বিধি-১৮৬০ কে প্রতিস্থাপন করেছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা-২০২৩, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৯৭৩ কে প্রতিস্থাপন করে। এবং ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম-২০২৩, ভারতীয় সাক্ষ্য আইন-১৮৭২ কে প্রতিস্থাপন করেছে। নতুন আইনের ১৭৩ ধারা মুলে একজন নাগরিক নির্ধারিত থানা এলাকার বাইরেও যে কোন স্থান থেকে এফআইআর করতে পারবে। যা জিরো এফআইআর নামে এই আইনে উল্লেখ রয়েছে। নতুন এই আইনে নাগরিকদের ই-এফআইআর করার সংস্থান রয়েছে। নতুন আইনে ছোট ছোট অপরাধের ক্ষেত্রে বিশেষ করে শারীরিক ভাবে অক্ষম বা প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার থেকে রক্ষা পাওয়ার সংস্থান রয়েছে। মামলা নথিভুক্ত হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে ক্ষতিগ্রস্ত মামলাকারিকে জানাতে হবে।

বিএনএস-এর ৬৫(২) ধারা মুলে ১২ বছরের কম বয়সী মেয়েদের ধর্ষণ অপরাধের দোষীদের মৃত্যু দণ্ডের বিধান চালু করা হয়েছে বলে জানা স্বরাষ্ট্র সচিব পি.কে চক্রবর্তী।রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সচিব আরো জানান, নতুন ফৌজদারি আইনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সাক্ষী সুরক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। এই তিনটি নতুন আইন কার্যকর করার জন্য এখনো পর্যন্ত বিভিন্ন দপ্তর যেমন পুলিশ, জেল পুলিশ, আইন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, প্রসিকিউশন দপ্তর, স্টেট ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটোরি সহ মোট ৩ হাজার ১০ জনকে অন লাইন ও অফ লাইনে দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নতুন সংশোধিত সিসিটিএনএস অ্যাপ্লিকেশন পরিচালনার জন্য ২৮২ জন পুলিশ কর্মীকেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, নতুন নিয়োগ, রুলস, এসওপি প্রণয়ন এবং সংশোধন ইত্যাদি সরকারের বিদ্যমান নির্দেশিকাসমূহ প্রয়োজন অনুসারে রাজ্যে পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে। রাজ্যের নাগরিকদের নতুন আইন সম্পর্কে সচেতনতা করতে সকল জেলার পুলিশ সুপাররা ব্যাপক সচেতনতা মূলক প্রচার অব্যাহত রেখেছে। এছাড়াও নতুন তিনটি আইন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে গুগল প্লেস্টোর থেকে সংকলন মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করা যেতে পারে বলে জানান স্বরাষ্ট্র সচিব পি.কে চক্রবর্তী। এই দিনের সাংবাদিক সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সচিব পিকে চক্রবর্তী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আইন সচিব সঞ্জয় ভট্টাচার্য এবং আইজি এল ডারলং।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য