Tuesday, July 23, 2024
বাড়িরাজ্যছাত্র সংগঠনের অস্বচ্ছতায় দুদিন ধরে লাটে উঠেছে স্কুলের পড়াশোনা

ছাত্র সংগঠনের অস্বচ্ছতায় দুদিন ধরে লাটে উঠেছে স্কুলের পড়াশোনা

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১৯ জুন : যারা বিগত দিনে স্বচ্ছ ভারত অভিযানের আয়োজন করে স্বচ্ছতার ছাপ রেখেছিল তাদের হাত ধরেই এবার অস্বচ্ছ পরিবেশ। তারা উল্লাসের পাটি করে স্কুলের সুষ্ঠু পরিবেশকে দূষিত করে তুলেছে। তারা আর কেউ নয়, তারা অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের নেতা কর্মীরা। তাদের দরুণ দুদিন ধরে বিশালগড় স্থিত অফিসটিলা দ্বাদশ শ্রেণী স্কুলে হচ্ছে না ক্লাস। ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে এসে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। জানা যায়, বিশালগড় মহকুমার অফিস টিলা দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে ১৫ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ.বি.ভি.পি -র সাথে যুক্ত ছাত্ররা এক কর্মসূচির আয়োজন করে। সঙ্গে চলে তাদের উল্লাসের পার্টি।

 খাওয়া দাওয়া হয় ভালো মন্দ। তারপর স্কুলটি পরিস্কার করার কোন প্রয়োজন মনে করেনি তারা। মঙ্গলবার ও বুধবার সকালে অফিসটিলা দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের প্রাতঃ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে এসে নোংরা পরিবেশ লক্ষ্য করে। চারিদিকে পচা খাবারের দুর্গন্ধ। এই অবস্থা প্রত্যক্ষ করে স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। এবং ক্লাসের মধ্যেও আবর্জনার স্তূপ। শুধু তাই নয় বিভিন্ন স্থানে নেশা জাতীয় দ্রব্যের প্যাকেটও পরিলক্ষিত হয়। পাশাপাশি আশ্চর্যজনক বিষয় হলো বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চগুলো পর্যন্ত বাইরে এলোমেলো ভাবে পড়েছিল। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার ও বুধবারের জন্য বিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ রাখেন।

তবে বিদ্যালয় চত্বরে একটি ছাত্র সংগঠনের এমন উশৃংখল আচরণের সমালোচনা হচ্ছে অভিভাবক মহলে। তাছাড়া বিদ্যালয়ের পঠন পাঠনে ব্যাঘাত ঘটিয়ে একটি ছাত্র সংগঠনের এরকম রাজ্যভিত্তিক অনুষ্ঠানের আয়োজনকে ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়েছে। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অভিভাবক মহলের প্রশ্ন তারাই কি ভাববে রাজ্যের ছাত্রদের স্বার্থ? তবে বলার অপেক্ষা রাখে না, পতাকার নিচে আসতে পারলেই সংগঠনের বড় নেতা হওয়া যায়, কিন্তু তাদের মধ্যে কতটা শিক্ষার চরম অভাব থাকে সেটা হয়তো জানেনা সাধারণ মানুষ। তাই হয়তো রাষ্ট্রবাদী দলের অনুগামী বলে দাবি করল দলের অন্দরে কত ঘাটতি থাকতে পারে সেটা প্রমাণ করে দিয়েছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের নেতা কর্মীরা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য