Sunday, June 23, 2024
বাড়িরাজ্যঘুষের টাকা ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে স্পেশাল নার্সদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া গাইনো ওয়ার্ডে

ঘুষের টাকা ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে স্পেশাল নার্সদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া গাইনো ওয়ার্ডে

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ৭ মে : শিক্ষাগত ডিগ্রি নিয়ে মানুষের সেবা করার জন্য নার্সের চাকরি পেয়ে হাসপাতালের মধ্যে মূর্খতার পরিচয় দিল গোমতী জেলা হাসপাতালের গাইনো ওয়ার্ডের স্পেশাল নার্সরা। প্রতিমাসে মোটা টাকা বেতন পাওয়ার পরেও তাদের মোটা কামাই ধান্দা রণক্ষেত্রে পরিণত করেছে গাইনো ওয়ার্ড। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গাইনো ওয়ার্ডে রোগী নিয়ে গেলে প্রথমে আগে তাদের ঘুষ দিতে হয় ৫০০ টাকা করে।

না হলে তারা রোগীকে চিকিৎসার জন্য হাত লাগাবে না। বিপদে পড়ে রোগী পরিবার সেই মুহূর্তে ধার দেনা ৫০০ টাকায় দিতে বাধ্য হয়। তারপর থেকে রোগী যতদিন হাসপাতালে মধ্যে থেকে পরিষেবা নেয় ততদিনেই তাদের দিতে হয় দৈনিক ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত। এবং এটা শুধু কতিপয় নার্স নয় গাইনো ওয়ার্ডে যারা কর্তব্যরত রয়েছেন তারা সকলে এভাবে রোগীর পরিবারের কাছ থেকে প্রতি দিন বাঁকা পথে মোটা কামাই করছে। এর সাথে জড়িত রয়েছে কিছু চিকিৎসক বলেও সূত্রে খবর। এরই মধ্যে মঙ্গলবার সকালে এক অদ্ভুত ঘটনা সংগঠিত হবে ওয়ার্ডের ভেতর। যা সমস্ত নার্সদের কলঙ্কিত হয়েছে। অভিযোগ মঙ্গলবার সকালে তারা দৈনিক হিসেব নিকেশ নিয়ে প্রথমে রোগীদের সাথে বাকবিতণ্ডা করে টাকা তুলেছে। সে টাকা নিয়ে ওয়ার্ডের ভেতর হিসেব নিকেশে মধ্যে গরমিল হয়। তারপর ১০ থেকে ১২ জন নার্স তুমুল ঝগড়া শুরু করে ওয়ার্ডের ভেতর। এবং সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো শিক্ষিত নার্সের ডিগ্রি প্রাপ্ত তারা অশ্লীল ভাষায় একে অপরকে গালিগালাজ শুরু করে। আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়ে নবজাতক শিশুরা।

এদিকে এত চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পেয়ে অন্য ওয়ার্ড থেকে রোগীর পরিবার পরিজন ছুটে আসে। পরিস্থিতি এতটাই মারমুখী ছিল যে হাতাহাতির রূপ নেওয়ার মত অবস্থা। তখন সংঘবদ্ধ হয়ে যায় রোগীর পরিবার পরিজন। শেষ পর্যন্ত তারা গিয়ে নার্সদের কেলোর কীর্তি থামাতে কোর্টে পড়ে লাগে। এমনটাই অভিযোগ রোগীর পরিবার পরিজনদের। তাদের আরো অভিযোগ, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ওয়ার্ডের প্রতি শয্যায় ঘুরে এভাবে টাকা তোলেন স্পেশাল নার্সরা। তারা শুধু টাকা তোলার ক্ষেত্রেই স্পেশাল। পরিষেবা নামে ঠুস আর ঠাস। টাকা না দিলে ইনজেকশন, স্যালাইন পর্যন্ত তারা দিতে চায় না। যদিও নার্সদের এ ধরনের হতাশামূলক পরিষেবা শুধু গোমতির জেলা হাসপাতালে নয়, রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতাল এবং দ্বিতীয় রেফারেল হাসপাতাল সহ অন্যান্য হাসপাতালের একই অবস্থা। সরকারি হাসপাতালে মানুষ ছুটে যায় আর্থিক ক্ষমতা অচল হওয়ার কারণে এবং সঠিকভাবে পরিষেবা পাওয়ার জন্য। কিন্তু সেখানে গিয়ে রোগীকে ভর্তি করিয়ে দেখে পরিষেবা সরকারি হাসপাতালের মত হলেও ব্যয়ভার প্রাইভেট হাসপাতালের মতই। এদিকে নজর নেই দপ্তরের আধিকারিকদের। কারণ এ বিষয়ে অবগত রয়েছে তারা সকলেই। কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে যে কোন কিছুই আর সরকারি থাকছে না। মানুষের মৌলিক চাহিদা পর্যন্ত সরকারি হাসপাতাল থেকে কেড়ে নিতে বসেছে তথাকথিত কতিপয় নার্সরা। খবর লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত নার্সদের বিরুদ্ধে গোমতী জেলা হাসপাতালের এম এস -এর কোন ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি। এভাবে চলতে থাকলে মুখ্যমন্ত্রী তথা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা স্বচ্ছ ভাব মূর্তি কালিমালিপ্ত হবে বলে মনে করছে অনেকে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য