Wednesday, May 18, 2022
বাড়িরাজ্যরাজ্যে ফরেন্সিক বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভূমি পূজা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজ্যে ফরেন্সিক বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভূমি পূজা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ৮ মার্চ : রাজ্যের নয়া ফলক যুক্ত হলো মঙ্গলবার। উত্তর পূর্বাঞ্চলের মধ্যে প্রথম ত্রিপুরাতে জাতীয় ফরেন্সিক সায়েন্স বিশ্ব বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নির্মাণ করা হচ্ছে। এ বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে বের হলে চাকুরি তাদের জন্য নিশ্চিত ভাবে অপেক্ষা করছে। তার প্রমান রয়েছে। গুজরাটে জাতীয় ফরেন্সিক বিশ্ব বিদ্যালয় রয়েছে। আর তার মাধ্যমে দেশের অন্যান্য প্রান্তের ছেলে মেয়েরাও যাতে সুবিধা নিতে পারে সেজন্য বিভিন্ন রাজ্যে ফরেন্সিক বিশ্ব বিদ্যালয় নির্মাণ করা হচ্ছে। উত্তর পূর্বাঞ্চল সন্ত্রাসবাদ সমস্যা, নারকোটিক্স, অনুপ্রবেশ, সাইবার অ্যাটাকের মতো সমস্যায় ঝুজছে।

 সেই সময় ফরেন্সিক বিস্ব বিদ্যালয় স্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মঙ্গলবার আনন্দনগরে ফরেন্সিক বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভুমি পূজন ও শিলান্যাস এবং আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। ড্রোন ফরেন্সিক, ডি এন এ, ফিঙ্গার প্রিন্টস, ওয়াইল্ড লাইফ ফরেন্সিক, সাইবার অ্যাটাক, নারকোটিক ফরেন্সিক, ড্রাগ এনালাইসিস, অপরাধ বিজ্ঞান, ফরেন্সিক ফুড ইনভেসটিগেশন সহ আরও কিছু বিষয়ের উপর কোর্স এই বিশ্ব বিদ্যালয়ে চালু হবে। আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ও পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি নিয়ে ছেলে মেয়েরা বাইরে বের হবে। একই সঙ্গে তারাই হয়ে উঠবে আগামী দিনের এই বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এই ফরেন্সিক বিশ্ব বিদ্যালয়ের সুবিধা ত্রিপুরা সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি পাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি। এই বিশ্ব বিদ্যালয়ে আগামী দিনে তিন থেকে চার হাজার ছাত্র ছাত্রী পড়াশুনা করতে পারবে। এই অঞ্চলের বিকাশ ঘটবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন। জাতীয় ফরেন্সিক সায়েন্স বিশ্ব বিদ্যালয়ে কোন মেয়ে পড়তে গিয়ে ঋন নিতে হলে তাতে ৩ শতাংশ সুদের ছাড় দেবে ভারত সরকার।

এছাড়া যে সমস্ত শপিং মল ও মার্কেট সরকারী ভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে তাতে ৫০ শতাংশ দোকান মহিলাদের জন্য বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকার নিয়েছে বলে ঘোষণা দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। মহিলা স্টার্ট আপকে উৎসাহিত করতে ঋনের ৫০ শতাংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ জি এম সি- তে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট একটি  মাতা এম সি সি ইউনিট স্থাপন করা হবে। গৃহহীন মহিলাদের জন্য তিনটি আশ্রয় স্থল নির্মাণ করা হবে। নির্মাণ করা হবে দুটি নেশা মুক্তি কেন্দ্রের। মহিলাদের কল্যাণে রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের সুযোগ সমস্ত মহিলারা পাবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি। ত্রিপুরাতে ৫৪ টি এস্টেট আছে। চা ফ্যাক্টরি আছে ৩১ টি। এই সমস্ত বাগানে ৭ হাজার পরিবারের ৩৫ হাজার মানুষ থাকেন। এতে মহিলা শ্রমিকদের সংখ্যা ৭৫ শতাংশ। চা বাগানে কর্মরত ভুমিহীন শ্রমিকদের জন্য কোপারেটিভ সোসাইটির মাধ্যমে লিজ দিয়ে ভুমির ব্যবস্থা করার নীতি আনা হচ্ছে। এই সমস্ত পরিবার গুলিকে রেশন কার্ড প্রদানের সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার। সমস্ত সুবিধা চা শ্রমিকদের কলোনীতে প্রদান করা হবে। এর সমস্ত খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার। তাদের পেনশন ও স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আনার কাজ রাজ্য সরকার করবে বলে জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্যবাসী সব প্রতিশ্রুতি পালন করে আবার এক বছর পর মানুষের কাছে যাওয়া হবে। মানুষ ভারতীয় জনতা পার্টিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হতে আশীর্বাদ করবে। পুনরায় ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার ত্রিপুরাতে প্রতিষ্ঠা হবে, বিকাশে দিশায় কাজ করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন অমিত শাহ। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের প্রশংসা করে বলেন নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব দীর্ঘ ৫০ বছরের ইতিহাস পরিবর্তন করেছেন। আরো বলেন তিনি যতবারই ত্রিপুরা রাজ্য সফরে এসেছেন ততোবারই মাতা বাড়িতে পুজো দিয়ে প্রার্থনা করেছেন যাতে ত্রিপুরা রাজ্যে এমনই একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় যে সরকার ত্রিপুরার জঙ্গী এবং নেশা মুক্ত করতে পারবে। এবং ত্রিপুরাকে বিকাশ রাস্তায় নিয়ে যেতে পারবে। ২০১৮ সালে সেই সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার রাজ্য সফরে এসে সাব্রুম কাঁটাতারের বেড়া পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এর জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন ত্রিপুরাতে ফরেনসিক সায়েন্স বিশ্ব বিদ্যালয় খোলা সম্ভব হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর জন্য। এই বিশ্ব বিদ্যালয় নির্মাণে প্রথম দুই বছরে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। পরবর্তী তিন বছরে ৩০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের পাশপাশি পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলি থেকেও এই বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়ার জন্য আসবে। এই অঞ্চলের আমূল পরিবর্তন ঘটবে। গোটা বিশ্ব ত্রিপুরাকে চিনবে বলে জানান তিনি।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক, উপ মুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা, সাংসদ বিনোদ সোনকর, মন্ত্রী শান্তনা চাকমা, মন্ত্রী রাম প্রসাদ পাল, মনোজ কান্তি দেব সহ অন্যান্যরা। এদিন মহিলা স্ব সহায়ক দলের সদস্যাদের সংবর্ধিত করা হয়।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য