Monday, April 15, 2024
বাড়িরাজ্যটানা চতুর্থবার আগরতলা বইমেলায় শ্রেষ্ঠ মণ্ডপসজ্জার পুরস্কার জিতে জয়ের সুপার হ্যাটট্রিক পারুল...

টানা চতুর্থবার আগরতলা বইমেলায় শ্রেষ্ঠ মণ্ডপসজ্জার পুরস্কার জিতে জয়ের সুপার হ্যাটট্রিক পারুল প্রকাশনীর

আগরতলা ৫ মার্চ: পর পর চতুর্থবার আগরতলা বইমেলায় শ্রেষ্ঠ মণ্ডপসজ্জার পুরস্কার জিতে নিয়ে প্রকাশনা জগতে পারুল প্রকাশনী গড়ল সুপার হ্যাটট্রিকের সেই অনন্য নজির।

হাঁপানিয়া ময়দান প্রাঙ্গণে আয়োজিত ৪২ তম বইমেলার সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা পারুল প্রকাশনীর ডিরেক্টর জয়জিৎ সাহার হাতে তুলে দিলেন শ্রেষ্ঠ মণ্ডপসজ্জার এই পুরস্কার। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি হরিদুলাল আচার্য, আগরতলা পৌর নিগমের ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, ত্রিপুরা সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব পি কে চক্রবর্তী এবং বিশিষ্ট লেখিকা এস গম্ভানী।  

‘বিকশিত ভারত’-এর ব্যঞ্জনাবাহী চন্দ্রযান ৩ থিমের আধুনিক মণ্ডপটি এবারের বইমেলার প্রথম দিন থেকেই সকলের মন জয় করে নিয়েছিল। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণার অগ্রদূত বিক্রম সারাভাইয়ের প্রতিকৃতি এবং চন্দ্রযান ও রোভার ল্যান্ডার-এর ছবিতে সজ্জিত হয়েছিল পারুল প্রকাশনীর স্টলটি। মুগ্ধ দর্শকরা  অনিন্দ্যসুন্দর এই থিম স্টলের মধ্যে নবজাগ্রত, বিকশিত ভারতের প্রতিফলনই খুঁজে পেয়েছেন। পারুল প্রকাশনীর ‘ভব্য ভারত’ স্টলটি হয়ে উঠেছিল বইমেলার অন্যতম সেরা আকর্ষণ।  তরুণ-তরুণী, ছাত্রছাত্রী, নানান বয়সের পাঠক-পাঠিকা— বইমেলার সবচেয়ে পছন্দের ‘সেলফি জোন’-এ পরিণত হয়েছিল স্টলটি।  শুধু বাইরের সজ্জা নয়, পারুল প্রকাশনীর স্টলের ভিতরের শিল্পনির্দেশনাও শিল্পমোদী দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে। এবার বইমেলার মাননীয় বিচারকদের রায়ে জনগণের সেই অভিমতই মান্যতা পেল।

পারুল প্রকাশনীর ডিরেক্টর জয়জিৎ সাহার নেতৃত্বে শিল্পনির্দেশক, গ্রাফিক ডিজাইনার ও মণ্ডপসজ্জাকারীদের একটি বিশেষ দল দিন রাত নিরলস পরিশ্রম করে নির্মাণ করেছেন ভিতরে-বাইরে সর্বাধুনিক এই স্টলটি। পারুল প্রকাশনীর এই জয়ে আনন্দে উদ্বেলিত সমগ্র ত্রিপুরার পাঠক-লেখক মহল। খুশির ঢেউ পৌঁছে গেছে প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেও। সেখানেও পারুল প্রকাশনী একটি শীর্ষ প্রকাশনা সংস্থা।  এই জয়ে উচ্ছসিত পারুল পরিবারের কর্ণধার বিশিষ্ট প্রকাশক তথা শিক্ষাবিদ গৌরদাস সাহা। কলকাতা থেকে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানালেন, ‘আগরতলা বইমেলায় আমরা পর পর তিন বার শ্রেষ্ঠ মণ্ডপসজ্জার পুরস্কার জিতে জয়ের হ্যাটট্রিক করেছিলাম। এবার সুপার হ্যাটট্রিক করে সেই রেকর্ডও আমরাই ভেঙে দিলাম! জয়জিৎ-এর পরিচালনায় যেভাবে পারুল প্রকাশনীর আগরতলা অফিসের সকল কর্মী এবং আমাদের কলকাতা অফিসের ডিজাইনিং ও আর্ট ডিরেকশন বিভাগ কাজ করেছে, তা দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করল। ডেকরেটর বন্ধুদেরও ধন্যবাদ!’ আগরতলার শিক্ষাজগতে পরিচিত মুখ বিশিষ্ট সমাজসেবী জয়জিৎবাবু। এই জয় তিনি উৎসর্গ করেছেন নতুন ভারতের যুবশক্তিকে। ‘২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে বিকশিত ভারত নির্মাণের যে পরিকল্পনা ভারত সরকার গ্রহণ করেছেন, এই স্টল সেই উদ্যোগকে অভিবাদন জানানোর এক ক্ষুদ্র প্রয়াস!’ জয়জিৎবাবুর গলায় ধ্বনিত হল আশাবাদ, ‘আশা করি, বিজ্ঞান চেতনা বৃদ্ধির মাধ্যমে ও পারম্পরিক জ্ঞানের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা ২০৪৭-এর অনেক আগেই জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লাভ করব।’

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য