স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১ ফেব্রুয়ারি : রাজ্যের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে বহুমুখী কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যটন ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও রূপরেখা নিয়ে এগিয়ে চলেছে তার প্রভাব হবে সুদূর প্রসারী। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।
রাজ্য সরকার পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে যে পরিকল্পনা গুলি গ্রহণ করেছে সেগুলোর বিস্তারিত আলোচনা করে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ বান্ধব গন্তব্যস্থলে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে ৫১ টি লগ হাট নির্মানের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যে মোট ৪১ টি লগ হাট পর্যটকদের জন্য চালু করা হয়েছে। এবং ছবিমুড়া বাকি ১০ টি লগ হাটের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। এবং খুব সহসাই পর্যটকদের জন্যে এগুলি চালু করা হবে।
তিনি বলেন, রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে আরও আকর্ষনীয় করে তুলতে ‘হোম স্টে’ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারকেল কুঞ্জের পার্শ্ববর্তী এলাকায় ১১ টি ‘হোম স্টে’ এবং জম্পুই হিলে ৪ টি ‘হোম স্টে’ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের পর্যটন পরিকাঠামো বিকাশের লক্ষ্যে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে ছবিমুড়া, কৈলাশহরের সোনামুখী এলাকা, চতুদর্শ দেবতা মন্দির এবং কসবা কালী মন্দির চত্বরের পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। ছবিমুড়া, ফটিক সাগর এবং অমর সাগর উন্নয়ন ৬৭ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা, উনকোটির সোনামুখী এলাকা ৬৯ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা, চতুদর্শ দেবতা মন্দিরের ১২ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা, কসবা কালী মন্দিরের জন্য ১৭ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা ব্যয় হবে। মন্ত্রী আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী আরো জানান, স্পেশাল অ্যাসিস্টেন্স ফর ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট প্রকল্পে রাজ্য পরিকল্পনা দপ্তরের মাধ্যমে উদয়পুরের মহাদেব দীঘির উন্নয়নের জন্য ৮ কোটি টাকা এবং ব্রহ্মকুন্ড পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য ১৫ কোটি মঞ্জুরী পাওয়া গেছে।
ইতিমধ্যে মহাদেব দীঘির উন্নয়নের জন্য ১ কোটি টাকা এবং ব্রহ্মকন্ডের উন্নয়নের জন্য ১ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। মিনিস্ট্রি অফ ডোনারের আওতাধীন এন.ই.এস.আই.ডি.এস প্রকল্পে নারকেল কুঞ্জের আশে-পাশে আরও ৪ টি দ্বীপ পর্যটকদের জন্য সাজিয়ে তোলার লক্ষ্যে পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ৩০ কোটি টাকা প্রাথমিকভাবে অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং ডি পি আর তৈরীর কাজ চলছে। এছাড়াও এন.ই.এস.আই.ডি.এস প্রকল্পে উদয়পুরের অমরসাগরের উন্নয়নের জন্য ৪০ কোটি এবং উদয়পুর ও ছবিমুড়ায় ১৫ টি মনুমেন্টের উন্নতির জন্য ২৫ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব ভারত সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। খুব সহসাই অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ডম্বুর জলাশয়ের জন্য অত্যাধুনিক হাউস বোট ক্রয় করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে। স্বদেশ দর্শন ১০ প্রকল্পের মাধ্যমে আগরতলা, সিপাহীজলা, মেলাঘর, উদয়পুর, অমরপুর, মন্দিরঘাট, তীর্থমূম, নারকেল কুঞ্জ, ডুম্বুর, আমবাসা, বড়মুড়া ইত্যাদি পর্যটন কেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ হয়েছে। এই প্রকল্পে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৯১ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। ১৬ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। রাজ্যের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র উদয়পুরের ‘মাতা ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির’কে একটি আধ্যাত্বিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং দেশ বিদেশের পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষনীয় করে তোলার লক্ষ্যে ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রক কর্তৃক ‘প্রসাদ’ প্রকল্পে ৩৭ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করেছে এবং মাতা ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির চত্বরের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। এই প্রকল্পে ইতিমধ্যে ২৫ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা পাওয়া গেছে ও এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পর্যটন দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিকরা।

