বাড়িরাজ্যলরি চালকদের ধর্মঘট জাতীয় সড়কে

লরি চালকদের ধর্মঘট জাতীয় সড়কে

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২ জানুয়ারি : রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদে শামিল লরি চালকরা। একাধিক ট্রাক সংগঠন গোটা দেশে হরতাল শুরু করেছে। প্রভাব পড়েছে এরাজ্যেও। জাতীয় সড়কগুলিতে ট্রাক থামিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন চালাকরা। যদিও এখনও পর্যন্ত সরকার পক্ষের তরফে কোনও রকম প্রতিক্রিয়া মেলেনি। গোটা দেশে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পরিবহন ব্যবস্থা। এরকম চলতে থাকলে আগামী কয়েকদিনে জ্বালানির ব্যাপক সংকট দেখা দেবে বলেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।কেন হঠাৎ দেশজুড়ে প্রতিবাদে শামিল হলেন গাড়ি ও ট্রাক চালকরা?

এর নেপথ্যে রয়েছে ভারতীয় দণ্ড সংহিতার নয়া আইন। ব্রিটিশ আমলে তৈরি ইন্ডিয়ান পেনাল কোড বাতিল করে এবার কার্যকর হবে দণ্ড সংহিতা। পথ দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে নতুন সাজার ব্যবস্থা করা হয়েছে সেখানে। বলা হয়েছে, হিট এন্ড রানের ক্ষেত্রে কারোওর মৃত্যুর পর যদি গাড়ির চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান, তাহলে ৭ থেকে ১০ বছরের সাজা হবে। ৭ লক্ষ টাকা জরিমানাও গুনতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে না জানালেও এই সাজার মুখে পড়বেন গাড়ি চালকরা। মঙ্গলবার কুমারঘাটে জাতীয় সড়কের পাশে লরি দাঁড় করিয়ে রেখে আন্দোলনে নামে তারা। লরি চালকদের অভিযোগ সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার রাস্তায় গাড়ী চালানোর ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম লাগু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যাতে বলা হয়েছে রাস্তায় বের হয়ে কোন গাড়ি দূর্ঘটনার কবলে পরলে তাকে গুনতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা সাথে যেতে হবে জেলেও। এর পাশাপাশি আরো জুড়ে দেওয়া হয়েছে একাধিক নিয়ম। সরকারের এই সিন্ধান্তেই চরম আপত্তি গাড়ি চালকদের। এই আইন কার্যকর হবার আগেই এর বিরুদ্ধে রাস্তায় লরি চালকরা। মঙ্গলবার কুমারঘাটের ৯১ মাইল এলাকায় আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়কের পাশে সমস্ত লরি চালকরা আচমকাই গাড়ী থামিয়ে আন্দোলন শুরু করে। তাদের বক্তব্য সরকার এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসলে অবরোধ থেকে হটবেন না তারা। তারা জানান, সরকার যে আইন আনতে চলেছে সেটা কালো কানুন। এই সাজা তারা গ্রহণ করতে পারবে না।

 প্রয়োজনে লাইসেন্স সরকারের কাছে জমা দিয়ে দেবে বলে জানান। পরে ঘটনার খবর পেয়ে পৌঁছায় কুমারঘাট থানায়৷ পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শেষে কুমারঘাট মহকুমা শাসক অফিসে গিয়ে ডেপুটেশন প্রদান করে লরি চালকরা৷ প্রতিনিধি দল মহকুমা শাসক সুব্রত দাসের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন৷ লরি চালকদের এই ধর্মঘটের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রির মূল্যের দিকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে প্রশাসনের।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য