Friday, May 31, 2024
বাড়িরাজ্য২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে দেশ থেকে হটাতে প্রস্তুতি নিতে বললেন মানিক সরকার

২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে দেশ থেকে হটাতে প্রস্তুতি নিতে বললেন মানিক সরকার

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২৯ সেপ্টেম্বর : বিজেপি সরকার থাকবে, আর বেকার সমস্যার সমাধান হবে ভাবলে ভুল হবে। তাই এই সমস্যা সমাধান করতে ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে পরাস্ত করতে হবে। এবং বিজেপিকে পরাস্ত করার মধ্যে দিয়ে ত্রিপুরার ফ্যাসিসুলভ সন্ত্রাস ও লুঠের রাজত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার রাস্তা খুজে বের করে নিতে হবে।

শুক্রবার বাম যুব সমাবেশে বেকার যুব সমাজের কর্মসংস্থান এবং নেশার বিরুদ্ধে কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বললেন পলিটব্যুরোর সদস্য মানিক সরকার। ওরিয়েন্ট চৌমনী স্থিত এলাকায় আয়োজিত এদিনের সমাবেশে তিনি বিজেপি সরকারকে দেশ থেকে উৎখাতের স্লোগান তুলে আরো বলেন, ২০২৪ সালে কেন্দ্রে থেকে বিজেপি সরকারকে সরানো যে লড়াই সে ক্ষেত্রে ত্রিপুরা মানুষ কিন্তু আলাদা নয়। আর চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কাকে দেশে সরকার হিসেবে পাঠানো হবে সেটা জনগণকে বুঝতে হবে। মানিক সরকার আরো বলেন দেখার সমস্যার সমাধান পুঁজিবাদী ব্যবস্থা দিতে পারে না। শ্রেণীহীন ও শোষণমুক্ত সমাজই পারে বেকার সমস্যার সমাধান করতে।

তাই কাজের দাবি ও নেশার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন ঘোষণা করেছে বাম ছাত্র যুব সমাজ তা শুধু বাম যুব সংগঠনের আন্দোলন নয়। এই আন্দোলন বেকার যুবক-যুবতী, কৃষক শ্রমিক থেকে শুরু করে সম্মিলিত মানুষের আন্দোলন। এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে অগ্রসর হতে না পারলে সমস্যা থেকে বেরোনো সম্ভব নয়। এদিনের সমাবেশে জিতেন্দ্র চৌধুরী বক্তব্য বক্তব্য রাখতে গিয়ে মানুষের আর্থিক অভাব অনটনের বিষয় নিয়ে সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার খোয়াই জেলায় একজন মা অভাবে তাড়নায় তার সন্তানকে বিষ খাইয়ে নিজে বিষ পান করে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। এটা শুধু ত্রিপুরা রাজ্যে নয়, গোটা দেশে এই বিজেপি সরকারের জন্য কৃষক শ্রমিক থেকে শুরু করে সব বংশের মানুষের জন্য সমস্যা হিমালয় পর্বতে আঁকার ধারণ করেছে। এবং এই শাসক দল সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যুবসমাজের। এ সরকারকে সরাতে না পারলে আগামী দিনেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে যুবসমাজ। ২০১৪ সালে সবচেয়ে ক্ষতিকারক স্লোগান ছিল বছরে দুই কোটি চাকরির। এখন ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি সরকার আবারো বেকারদের বিভ্রান্ত করতে চাকরি মেলার। সি পি আই এম -এর রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী এদিন কটাক্ষ করে আরো বলেন, গত ৯ থেকে সাড়ে ৯ বছরে রাজ্যে ১৯ থেকে ২০ কোটি চাকরি হওয়ার কথা। সে জায়গায় এখন দেখা যাচ্ছে চাকরি মেলায় মাত্র ৫১ হাজার চাকরি দিচ্ছে। এবং ত্রিপুরা থেকেও ছাপ্পা ভোটের সংসদ পশ্চিমবঙ্গের গিয়ে খড়গপুর, দিল্লি এবং মুম্বাই আই.আই.টি -র অফার বিলি করছেন। কিন্তু হাসির বিষয় হলো সেইসব ছেলেমেয়েদের চাকরির জন্য সরকারের কাছে হাত পাততে হয়।

 কিন্তু তারপরেও সরকার এগুলি করে বেকার যুবক-যুবতীদের লোভ দেখাতে চাইছে। তিনি সরকারের আরো সমালোচনা করে বলেন, আগরতলা শহরে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে যে ডিসপ্লে ঝুলিয়ে সরকারের প্রচার করছে, সেগুলিতে নেই বেকার যুবক যুবতীদের সমস্যা। জিতেন্দ্র চৌধুরী কটাক্ষ করে বলেন, গত ২৫ বছরে যা হয়নি সেটা বর্তমানে হচ্ছে বলে দাবি করছে সরকার। সেটা ঠিকই বলছে রাজ্যের মন্ত্রীরা। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তার প্রতিশ্রুতি ভেসে উঠছে বলে জানান শ্রী চৌধুরী। বিজেপি সরকারের মুষ্টিমেয় নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন, কাজের লক্ষ্য কত কম সময়ের মধ্যে কোটিপতি হওয়া যায়। এবং যুবকরা নেশার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে না, সরকার তাদের ডুবিয়ে দিচ্ছে। এবং যৌবনের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিচ্ছি এই সরকার। আর নির্বাচন আসলে কিছু কালো টাকা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকছে সরকার। আর এটাই হলো বিজেপি ও আইপিএফটি জোট সরকারের প্রজেক্ট। এভাবেই পরিকল্পনা মাফিক যৌবন শেষ করে দিচ্ছে সরকার বলে সমালোচনা করলেন শ্রী চৌধুরী। এদিন প্যারাডাইস চৌমুহনি থেকে বের স্লোগান সোচ্চার মিছিল। শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। মিছিলে প্রচুর যুবক- যুবতী অংশ নেন। পরে সভায় উপস্থিত ছিলেন সর্বভারতীয় যুব নেতা এ এ রহিম, যুব নেতা নবারুণ দেব সহ অন্যরা। প্রত্যেক বক্তাই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য