স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১০ জুলাই : সরকার নেশা মুক্ত ত্রিপুরা গড়ার যে স্লোগানটি তুলেছে তা বাস্তবায়নে বড় গলদ রয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে রাজ্যের যুবক যুবতীদের মধ্যে নেশার ব্যাপকতা বাড়ছে। অপরদিকে নেশা কারবারিরা সরকারের প্রশ্রয়ে ত্রিপুরা রাজ্যকে নেশার স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে।
সোমবার প্রদেশ মহিলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রাজধানীর অরিয়েন্ট চৌমহনি এলাকায় চার ঘন্টার গণ অবস্থানে উপস্থিত হয়ে এই কথা বলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা। তিনি বলেন কংগ্রেস রাজ্যের বিরোধীদল হিসেবে নেশার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে রাজ্যের মানুষকে অবগত করতে চায়। এবং বিরোধী দল হিসেবে সরকারকে জাগ্রত করে নেশা সাম্রাজ্য রুখতে চায়। সরকার যদি ভূমিকা না নেয় তাহলে রাজ্যের সব অংশের মানুষকে এগিয়ে এসে প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলা খুব জরুরি। এবং অপরদিকে শাসকদলে মদতপুষ্টদের দ্বারা নারীদের উপর অন্যায় অবিচার চলছে। ২০১৮ সালে রাজ্যে বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর নারী নির্যাতন বেড়েছে।
এগুলির সাথে শাসক দলের বহু সক্রিয় কর্মী জড়িত থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যরোর তথ্য অনুযায়ী নারী নির্যাতনে দেশের মধ্যে ত্রিপুরা শীর্ষস্থানে রয়েছে। কিন্তু যারা এ ধরনের নেশা কারবারি ও নারী সংক্রান্ত অপরাধের সাথে জড়িত তারা সকলের শাসক দলের হওয়ায় যে কঠোর পদক্ষেপ তাদের বিরুদ্ধে হওয়ার কথা, তা হচ্ছে না। আরক্ষা প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত দুর্বল। ফলে দিন দিন এই ধরনের ঘটনা বাড়ছে। আজ মহিলারা ঘর থেকে বের হয়ে এসেছে। আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে বলে জানান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। আয়োজিত ধর্না মঞ্চে এসে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন সরকারের সমালোচনা করে বলেন আগে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক তফাৎ ছিল। এখন সমানে সমানে এসে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ বিজেপি সরকারের আমলে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশবাসী। কারণ রেল বিমানবন্দর সহ সবকিছুই আজ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে পুঁজিপতিদের হাতে। আর এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভারতবর্ষের অবস্থা আগামী দিনে শ্রীলঙ্কার মত হতে বেশি সময় লাগবে না। তিনি বিধানসভা থেকে বরখাস্ত হওয়ার বিষয়ে বলেন, যখন প্রশ্ন করা হয়েছিল বাজারে নিত্য প্রয়োজন এর সামগ্রিক মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কেন বেড়ে চলেছে, সরকার কালোবাজারি বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন, জে.আর.বি.টি এবং এস.টি.জি.টি -র ফলাফল কবে প্রকাশিত হবে? তখনই তাকে বহিষ্কৃত করা হয়েছে বলে দাবি করেন এদিন ধর্না মঞ্চে। আরো বলেন, তিনি অন্যায়ের সহ্য করতে পারেন না। একটু মাথা নত করলে শাসক দলের সাথে থাকতে পারতেন। রাজ্যের মানুষের সাথে ঠগবাজি এবং বাটপারি চলছে। তাই সহ্য করতে না পেরে শাসক দল ছেড়েছেন বলে জানান তিনি। সবকিছুই এই সরকার গায়ের জোর, পেশি জোডর এবং রাষ্ট্রীয় জোড়ের মাধ্যমে অবজ্ঞা করে চলেছে। তাদের কাছে যুক্তি তর্কে কোন মূল্য নেই। এর থেকে বের হয়ে আসতে মহিলাদের হবে বলে জানান দাবি করেন সুদীপ রায় বর্মন। আয়োজিত ধর্না দীর্ঘ চার ঘন্টা ধরে চলে। উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য কংগ্রেস নেতৃত্ব ও কর্মী সমার্থক।

