আগরতলা, ৭ জুলাই (হি.স.) : ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে মূলধনী ব্যয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। আজ বিধানসভার অফিসকক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা । এদিন তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আজ বিধানসভায় বিরোধী দলের সদস্যগণ যে অশোভন আচরণ করেছেন তা অত্যন্ত দুঃখের বিষয়।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৩-২৪ অর্থবষের বাজেটে প্রধানমন্ত্রীর সবকা সাথ সবকা বিকাশের মন্ত্র প্রকাশ পেয়েছে। ত্রিপুরার অর্থমন্ত্রী ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের জন্য মোট ২৭৬৫৪.৪০ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন। বাজেটে মূলধনী ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩৫৮.৭০ কোটি টাকা।
সাথে তিনি যোগ করেন, এবারের বাজেটে উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রগুলির মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে বরাদ্দ করা হয়েছে ৪৯৩৯ কোটি টাকা, সড়ক উন্নয়ন ক্ষেত্রে ১৩৬০ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ১৭৫৬ কোটি টাকা এবং কৃষি ও কৃষি সম্বন্ধীয় বিভিন্ন ক্ষেত্রের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৪৩৬ কোটি টাকা।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের বাজেটে ১৩টি নতুন প্রকল্পের ঘোষণা রয়েছে।এই নতুন প্রকল্পের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগা যোজনার জন্য বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছে ৫৯ কোটি টাকা, মুখ্যমন্ত্রী ইন্টিগ্রেটেড গ্রুপ ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে করা হয়েছে ১০ কোটি টাকা, মুখ্যমন্ত্রী ক্রীড়া উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৮ কোটি টাকা, মুখ্যমন্ত্রী জনজাতি কল্যাণ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৩০ কোটি টাকা, রাজ্যের যুব সমাজকে কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ করে তুলতে মুখ্যমন্ত্রী দক্ষতা উন্নয়ণ প্রকল্পের জন্য বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা, মুখ্যমন্ত্রী নগর উন্নয়ণ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১২০ কোটি টাকা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সি এম-সাথ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৩ কোটি টাকা।
তাঁর কথায়, এবারের বাজেটে রাজ্যে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্র স্থাপনের সংস্থান রাখা হয়েছে। যা রাজ্য সরকারকে জন পরিষেবা ও সুশাসন প্রদানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে সহায়তা করবে। এবারের বাজেট তৈরী করা হয়েছে বিগত ৫ বছরে রাজ্য সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ড ও পরিকল্পনার উপর। বিভিন্ন সামাজিক, অর্থনৈতিক পরিকাঠামোতে বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবারের বাজেটে মূলধনী ব্যয় জোর দেওয়া হয়েছে।
এদিন তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আজ বিধানসভায় বিরোধী দলের সদস্যগণ যে অশোভন আচরণ করেছেন তা অত্যন্ত দুঃখের ও পরিতাপের বিষয়। পবিত্র বিধানসভায় এধরণের আচরণকে ত্রিপুরাবাসী ভালোভাবে মেনে নেবেন না।হিন্দুস্হান সমাচার/তানিয়া

