Sunday, December 4, 2022
বাড়িরাজ্যনেতিবাচক দিক নয়, ইতিবাচক ভূমিকা নিতে হবে : মানিক

নেতিবাচক দিক নয়, ইতিবাচক ভূমিকা নিতে হবে : মানিক

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১১ জানুয়ারি : দেশের একের পর এক আন্দোলন চলছে। কারণ একটা স্বৈরাচারী ও একনায়কতন্ত্র কায়েম করবার চেষ্টা করছে সরকার। এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা শুধু নেতিবাচক দিক বললে চলবে না, এটা ইতিবাচক দিকও। সুতরাং প্রতিবাদ করতে হবে। এবং সরকারকে ঘুরে দাঁড়াতে বাধ্য করাতে হবে। মঙ্গলবার টাউন হলে ত্রিপুরা ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের একাদশ রাজ্য সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই কথা বলেন বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার।

দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং তার সহযোগী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ত্রিপুরা রাজ্যে বিজেপি সরকারকে বসিয়েছে। রাজ্যের মানুষ বুঝতে পারছে ভোটের আগে সরকারটা বিভিন্ন কথা বলেছিল, এখন তারা কোনো কাজই করছে না। ফলে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে আগরতলা পুর নিগমের সাড়ে চার লক্ষাধিক ভোটারের উপর তাদের বিশ্বাস ছিল না। বলতে শুরু করে নতুন বিজেপি, পুরান বিজেপি। আসলে তারা কোনো প্রতিশ্রুতি পালন করতে না পেরে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। এতে বোঝা যাচ্ছে পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। তাই তারা সন্ত্রাস করে মানুষকে আটকাতে চাইছে। আন্দোলন করে সরকারের নিকাম্মা চেহারা মানুষের সামনে তুলে আনতে হবে। কর্মীদের প্রতি এমনটাই বার্তা দিলেন বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার।

তিনি বলেন রাজ্যে চার বছরে একটা নতুন কাজ হয়নি। শুধু ফিতা কাটতে কাটতে তাদের নাভিশ্বাস উঠছে। এগুলি বামফ্রন্ট সরকারের সময় কেন্দ্র সরকার থেকে আদায় করা হয়েছিল। আর এইগুলি এখন রাজ্যে এসে বুক চাপড়ে বলছেন এটা নাকি ডাবল ইঞ্জিনের সুফল। আসলে ডাবল ইঞ্জিন মুখ থুবড়ে পড়েছে। এটা তাদের সুফল নয় বলে জানান বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার। রাজ্যে দীর্ঘ দুই বছর ধরে স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসক, ল্যাব টেকনিশিয়ান আন্দোলন করে চলেছে। হাসপাতালগুলিতে কর্মী সংকটের পরেও নিয়োগ করা হচ্ছে না। বর্তমান সরকারের একটি হাসপাতাল করার মুরোদ নেই, তারা শুধু বিয়োগ শূন্যে দাঁড়িয়ে আছে। রাজ্য শিক্ষা নিয়ে ছেলে খেলা চলছে। শিক্ষা বেসরকারিকরণ করে গরিব ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে চাইছে। এটা আসলে তাদের শ্রেনী ঘৃণা। শুধু শিক্ষা ক্ষেত্রে নয়, রাজ্যে গরিব মধ্যবিত্তরা ভ্যাকসিন এবং চিকিৎসা পর্যন্ত সঠিক ভাবে পাচ্ছে না। ফলে জিবি হাসপাতালে এখন মানুষ যেতে চায় না। শুধু চলছে দিল্লির সরকারের মতো ভাষন আর বিজ্ঞাপন। সরকার ধনী গরিবের মধ্যে বিভাজন তৈরী করতে চাইছে। তাই শুধু পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করলে চলবে না। পরিস্থিতি ঊর্ধ্বে উঠে ভূমিকা নিতে হবে। রাস্তায় নামতে হবে।

দেশে কৃষক আন্দোলন পাত্তা দিচ্ছিল না। বরং পাকিস্তান, খালিস্তানের মদতে হচ্ছে আন্দোলন বলে বিকৃত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময় হাতজোড় করে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক আন্দোলন। একইভাবে ব্যাংকের উপর আঘাত আনতে মার্জার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ব্যাংক কর্মীরা যখন আন্দোলন শুরু করে তখন এক্ষেত্রেও সাফল্য আসে। ব্যাংক মার্জার বিল পাস করার জন্য সমস্ত কিছু প্রস্তুত থাকলেও পার্লামেন্টে বিল পাস করতে পারেনি চাপে পড়ে। তাই শ্রমিকদের উপর যে আঘাত আনার চেষ্টা করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে ফেব্রুয়ারি মাসে দু’দিন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। তাই সরকারের চোখ-কান বেঁধে চাবুক চালানো নীতির বিরুদ্ধে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে বলে জানান বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার। এবং বর্তমান পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গিয়ে যদি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তা হলে সম্মুখীন হতে হবে। কিন্তু স্বৈরশাসন এবং একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। কারণ সরকার দেশের সংবিধানকে বগলদাবা করতে চাইছে। রাজ্য বিচারব্যবস্থা বগলদাবা করার চেষ্টা করছে। তাই তারা বিরোধীদের কথা বলতে দিচ্ছে না বলে অভিমত ব্যক্ত করেন শ্রী সরকার। এদিন সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন খেতমজুর ইউনিয়নের নেতা ভানু লাল সাহা, সিপিআইএম রাজ্য কমিটির সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী সহ অন্যান্যরা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য