Thursday, February 5, 2026
বাড়িরাজ্যইশতেহার প্রকাশ করলো তৃণমূল কংগ্রেস

ইশতেহার প্রকাশ করলো তৃণমূল কংগ্রেস

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ৫ ফেব্রুয়ারি :  বাংলার উন্নয়নের মডেল ত্রিপুরার রোল মডেল করতে চায় তৃণমূল কংগ্রেস। তাই চমক ভরা ইস্তেহার নিয়ে নির্বাচনের আগে জনসম্মুখে ঘাসফুল শিবির। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, সামাজিক প্রকল্প এবং জনজাতিদের উন্নয়ন সহ একাধিক বিষয়কে ইশতেহারে স্থান দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী শশি পূজা ঘোষণা দিয়ে জানান, ত্রিপুরা রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস সুশাসন আনতে চাইছে। সেদিকে বিশেষ নজর দিয়ে ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনতে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হবে রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীদের। ২ লক্ষ কর্মসংস্থানের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ তৃণমূল কংগ্রেস। প্রথম বছরেই ৫০ হাজার কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। ১,০০,০০০ কর্মহীন যুবককে প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। চাকুরিচ্যুত ১০,৩২৩ জন শিক্ষকদেরও এই উদ্যোগের মাধ্যমে সহায়তা করা হবে। সমস্ত সরকারি শূন্য পদ মিশন মোডে পূরণ করা হবে। সমস্ত বাড়়িতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। প্রতিটি মানুষের মাথার ওপর ছাদের ব্যবস্থা করা হবে। আগরতলায় একটি পুলিশ কমিশনারেট স্থাপন করা হবে। ভাষা সংরক্ষণ এবং ভাষাগত ক্ষমতায়নের জন্য একটি ককবরক ভাষা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। নারী শিক্ষার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কন্যাশ্রী যোজনা চালু করা হবে। এতে নারী ক্ষমতায়ন হবে। এর পাশাপাশি ২৫ বছর থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত যেসব মহিলারা রয়েছেন তাদের জন্য লক্ষী ভান্ডার প্রকল্প চালু করা হবে। যারা সাধারণ ক্যাটাগরির রয়েছেন তারা বছরে ৬,০০০ টাকা এই সুযোগ পাবে। তপশিলি জাতি উপজাতি ভুক্ত বছরে ১২ হাজার টাকা পাবে।

এক কোটি আশি হাজারে বেশি মহিলারা এর সাথে যুক্ত হয়ে উপকৃত হচ্ছে। ইশতেহারে স্থান দেওয়া হয়েছে রুপশ্রী প্রকল্পের। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা বিয়ের সময় ২৫ হাজার টাকা পাবে। এদিকে দলে রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ত্রিপুরায় যেহেতু পর্যটন শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে তাই বৈদেশিক মুদ্রা যাতে অর্জন করা যায় তার জন্য বদ্ধপরিকর তৃণমূল কংগ্রেস। এর পাশাপাশি ত্রিপুরা রাজ্যের গ্রাম, পাহাড় সর্বত্র দেখা যায় নোংরা জল মানুষ পান করছে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হবে। ৯,৯০৬ কিলোমিটার রাস্তা পাকা করা হবে। চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত এস সি, এস টি এবং ও বি সি সম্প্রদায় ভুক্ত পড়ুয়াদের ১ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি ককবরক ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার তৈরি করা হবে। টেকনিক্যাল স্কিম ইউনিভার্সিটি করা হবে ত্রিপুরায়। প্রত্যেক কৃষক পরিবারকে বছরে দশ হাজার টাকা করে পেনশন দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, সরকারে আসলে এই প্রতিশ্রুতি গুলি তৃণমূল কংগ্রেস অক্ষরের অক্ষরে পালন করবে। এবং ২০১৮ সালে বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সেগুলো ভাওতাবাজি ছিল বলে জানান। এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানান, দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তলানিতে নিয়ে ঠেকেছে। দীর্ঘ পাঁচ বছরের ত্রিপুরা রাজ্যের মানুষকে অভাব অনটন গ্রাস করেছে। চাকুরী হয়নি। কৃষকদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সুযোগ সুবিধা পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

এই ইসতেহারে যে বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছে তাতে ত্রিপুরা আগামীদিনে স্বনির্ভর হয়ে উঠবে বলে আশা ব্যক্ত করেন শ্রী বসু। আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এদিন এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি পীযূষ কান্তি বিশ্বাস, সাংসদ সুস্মিতা দেব।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য