Tuesday, February 7, 2023
বাড়িরাজ্য"আমার ভোট, আমার অধিকার" স্লোগান তুলে গণতান্ত্রিক দলসমূহ নির্বাচন কমিশনের শরণাপন্ন

“আমার ভোট, আমার অধিকার” স্লোগান তুলে গণতান্ত্রিক দলসমূহ নির্বাচন কমিশনের শরণাপন্ন

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২১ জানুয়ারি : “আমার ভোট, আমার অধিকার” স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার আগরতলা শহরে রাজপথ কাঁপিয়ে পদযাত্রা করল পরোক্ষভাবে এক মঞ্চে আসা বামফ্রন্ট, কংগ্রেস এবং পিপলস পার্টি। মিছিলের সামনে ব্যানারে যার নাম দেওয়া হয়েছিল ধর্ম নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক দলসমূহ। গত পাঁচ বছরে লোকসভা নির্বাচন, পুর নির্বাচন সহ বিভিন্ন নির্বাচনের ভোটদানে বাধা প্রাপ্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে বিরোধীরা “আমার ভোট, আমার অধিকার” স্লোগানটি আসন্ন বিধানসভায় নির্বাচনে হাতিয়ার করে আম জনতাকে নিয়ে ময়দানে নেমেছে।

এদিন নির্বাচন কমিশনের কাছে গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি করে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সামনে থেকে মিছিল করে নির্বাচন কমিশনের কাছে ডেপুটেশন প্রদান করতে যায় তারা। এদিন প্রচারে অভিমুখে ছিলেন একই ফ্রেমে ছিলেন বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সমীর রঞ্জন বর্মন, কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন, সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী, বামফ্রন্টের আহবায়ক নারায়ন কর, কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক ড. অজয় কুমার, সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদিকা জারিতা লাইফ্রাং, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিনহা, কংগ্রেস নেতা আশীষ কুমার সাহা, প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গোপাল রায় সহ কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং পিপলস পার্টির অন্যান্য নেতৃত্ব। বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদল গত ১১ এবং ১২ জানুয়ারি রাজ্য সফরে এসে রাজনৈতিক দলগুলির সাথে কথা বলে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কমিশনের প্রতিনিধি দল বলেছেন ত্রিপুরায় নির্বাচনের পরিবেশ পরিমন্ডল নেই। পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি দলটি বলেছেন তারা সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে চাইছে।

 কিন্তু যখন এ কথাগুলি নির্বাচন কমিশন বলছে তখনই দেখা যায় বিরোধীদলের কর্মীরা বিভিন্ন জায়গা আক্রান্ত হচ্ছে। তখন বিরোধী দলের নেতৃত্বরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্মীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে যাবে। কারণ নির্বাচন কমিশনের স্বীকার করেছে ত্রিপুরা সন্ত্রাস রয়েছে। তাই এবার নির্বাচন কমিশনের কাছে সন্ত্রাসমুক্ত শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার জন্য দাবি জানিয়ে ডেপুটেশনে যাওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি এদিন বিরোধী দলনেতা সম্প্রতি জিরানিয়ায় কংগ্রেসের মিছিলের উপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, সেদিন কংগ্রেসের ৩২-৩৩ জন কর্মী সমর্থক দৈহিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন। পুলিশ সেখানে কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি।

অপরদিকে কমলপুরে তিপ্রা মথার কর্মীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে খুন করা হয়েছে। তারপর দু’ঘণ্টা পর্যন্ত কোন হদিস ছিল না তার। পরবর্তী সময়ে উদ্ধার করে হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেছেন মৃত। এছাড়াও প্রতাপগড় বিধানসভা কেন্দ্র সহ অন্যান্য এলাকায় বুথ অফিস ভাঙছে, পুড়াচ্ছে দুর্বৃত্তরা। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে নির্বাচন করা যাবে না। এই অবস্থায় পরিবর্তন করতে এবং সুষ্ঠুভাবে শান্তির পূর্ণ নির্বাচন করার জন্য নির্বাচন কমিশনের যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিরোধী দলনেতা। তিনি আরো বলেন আশা করা হচ্ছে নির্বাচন কমিশন আজকের ডেপুটেশনের পর কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি তিনি আরো বলেন জিরানীয়ার ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারদের কর্তব্যের গাফিলতির কারণে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তা ইতিবাচক সংকেত দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এখানেই থেমে গেলে চলবে না।

 নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন রাজ্য থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করে কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি সকলে যাকে নিবিঘ্নে ভোট দিতে পারে সে পরিবেশ আনবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন এদিন বিরোধী দলনেতা। এদিকে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন বিজেপির বিরুদ্ধে একটি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ পাঁচ বছরে যতগুলি নির্বাচন হয়েছে সবগুলি নির্বাচনে প্রকাশ্যে ভোট লুট হয়েছে রাজ্যে। মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পায়নি। মানুষ নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি করছে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে যাতে স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। মানুষ যদি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তাহলে জনগণ যা চাইবে সেটাই হবে। অর্থাৎ মানুষের রায়ে চূড়ান্ত হবে সরকার। পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, শাসক দলের বুকে ব্যাথা শুরু হয়ে গেছে। তারা আর কয়েক দিনের অতিথ বলে কটাক্ষ করলেন সুদীপ রায় বর্মন। মিছিলে উপস্থিত সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন ত্রিপুরা রাজ্যে জঙ্গলে রাজত্বের অবসানের বার্তা আজকের মিছিলের মধ্য দিয়ে ঘোষিত হয়ে গেছে। এবং আজকের এই মিছিলের মধ্যে দিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাজার হাজার মানুষ সাড়া দিয়েছে বলে জানান তিনি।রাজ্যের মানুষ বাধ্য করেছে সমস্ত গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ দল একজোট হওয়ার জন্য। মিছিল থেকে এ কথা বললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিনহা। তিনি বলেন ধর্মনিরপেক্ষ পুনরুদ্ধার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং শান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি করে নিজের ভোট দেওয়ার অধিকারের জন্যই মিছিল সংঘটিত করা হয়। এবং দাবি জানানো হবে নির্বাচন কমিশনের কাছে যাতে জিরো ভায়োলেন্সে নির্বাচন সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে মিছিলটি শেষ হয় পশ্চিম জেলা অফিসে সামনে।

 তারপর তার জন্য নির্বাচন কমিশনের রাজ্য মুখ্য আধিকারিক কিরণ গিত্যের কাছে ডেপুটশন প্রদান করে সবকটি রাজনৈতিক দলের একটি প্রতিনিধি দল। উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিনহা, কংগ্রেস নেতা  সুদীপ রায় বর্মন সহ বামফ্রন্ট এবং পিপলস পার্টির নেতৃত্ব। এদিন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সাথে ছিলেন পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার শংকর দেবনাথ। দাবি করা হয় যাতে সুষ্ঠুভাবে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সংঘটিত করতে প্রশাসনিক সমস্ত ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করে প্রশাসন। এদিন ডেপুটেশনের পর কংগ্রেস নেতা সুদীপ রায় বর্মন জানান, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে বলা হয়েছে বিজেপি কিভাবে কারচুপি করতে পারে। এবং আসন্ন নির্বাচনকে আবারো প্রহসনে পরিণত করতে যে প্রচেষ্টা শুরু করেছে সে বিষয়ে অবগত করা হয়। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আশ্বস্ত করেছেন মানুষ যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে তার সমস্ত ব্যবস্থা করা হবে। আর কোন সন্ত্রাসের ঘটনা সংঘটিত করলে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে দাবি জানানো হয়েছে গত ১৮ জানুয়ারি জিরানিয়া যে ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে এর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। এ বিষয়েও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আশ্বস্ত করেছেন এর তদন্ত চলছে। এদিকে ডেপুটেশনের পর সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে জনগণ তার অধিকার প্রয়োগের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে কয়েক হাজার কর্মী সমর্থক জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। এবং সবচেয়ে আলোচ্য বিষয় হলো মিছিলে একটা বড় অংশ ১০,৩২৩ চাকরিচ্যুত শিক্ষক শিক্ষিকারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য