স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১২ জানুয়ারি : নির্বাচনের আগে শহরে বাড়ছে পুলিশ প্রশাসনের নজরদারি। চোর এবং নেশা কারবারিদের জালে তুলতে মরিয়া পুলিশ। বুধবার রাতে রাজ্যের প্রধান বাজার মহারাজগঞ্জ বিপণী বিতান থেকে বিপুল পরিমাণে ফেনসিডিল আটক করতে সক্ষম হয়। এ বিষয়ে সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জানান, বুধবার রাতে পুলিশ পেট্রোলিং করার সময় মহারাজগঞ্জ বাজারের বিপণী বিতানের মৎস ব্যবসায়ীদের একটি দোকানের সামনে এক ব্যক্তিকে রহস্যজনক ভাবে দারিয়ে থাকতে দেখে।
পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় দারিয়ে থাকা দোকানের মালিককে ফোন করা হয়। কিন্তু ফোন তোলেননি দোকান মালিক। বাধ্য হয়ে পুলিশ দোকানের তালা ভেঙ্গে প্রবেশ করে ফেন্সিডিল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। মহারাজগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ আধিকারিককে দোকান মালিকের বাড়িতে পাঠানো হয়। সেই মোতাবেক দোকানের সামনে আসে দোকান মালিক অজিত দাস। তার বাড়ি পূর্ব প্রতাপগড় সুকান্ত পল্লী এলাকায়। দোকান মালিক আসলে তার সামনেই অপর গোডাউনে তল্লাশী চালায় পুলিশ। সেখান থেকে উদ্ধার হয় ৬৮৪ বোতল কফসিরাপ। আটক কফসিরাপের বাজার মূল্য প্রায় ৬ লক্ষ টাকা। এদিকে সন্দেহ ভাজন ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আটক করা হয় দোকান মালিককে। তার বিরুদ্ধে এন ডি পি এস অ্যাক্টে মামলা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার আটক অজিত দাসকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পূর্ব থানায় সাংবাদিকদের এই বিষয়ে অবগত করেন সদর এস ডি পি ও- অজয় কুমার দাস।
এদিকে মহারাজগঞ্জ বাজার সংলগ্ন চিত্তরঞ্জন রোড এলাকায় এক বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় মামলা হাতে নিয়ে এক ব্যক্তিকে জালে তুলেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম বিশ্বজিৎ দেবনাথ। বিশ্বজিৎ দেবনাথ নিজেকে আইনজীবী বলে পরিচয় দিয়ে আগরতলা আদালত চত্বরে ঘোরাফেরা করত। গত ১৮ ডিসেম্বর আইনজীবী সেজে কৃষ্ণনগর একবাড়ি থেকে গিয়ে চুরির ঘটনা সংঘটিত করে। পরবর্তী সময় পূর্ব থানায় মামলা দেয় করেন সেই বাড়ির লোকজন। পুলিশ তদন্তি নেমে ভুয়া আইনজীবী বিশ্বজিৎ দেবনাথ কে আটক করে বলে পুলিশ জানায়। এই বিশ্বজিৎ দেবনাথ এর কাছ থেকে চুরি যাওয়া ছয় লক্ষাধিক টাকা স্বর্ণালংকার পুলিশ উদ্ধার করেছে। অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ দেবনাথকে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে তার সাথে আরও কে কে জড়িত রয়েছে এবং সে আরো কোন কোন চুরির কাণ্ডে জড়িত রয়েছে সে বিষয়গুলি উঠে আসবে। অভিযুক্ত চোরের বাড়ি আগরতলা কৃষ্ণনগর এলাকায়। চোর এবং নেশা কারবারিকে জালে তুললেও মূল মাস্টারমাইন্ডদের পুলিশ কতটা জালে তুলতে পারবে সেটাই বড় বিষয়। কারণ স্মার্ট সিটি বাসীর অভিযোগ পুলিশ মাস্টারমাইন্ডদের জালে তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় আগরতলা শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। মূল মাস্টারমাইন্ডেরা প্রতিনিয়ত জন্ম দিচ্ছে নেশা কারবারি, চোর এবং ছিনতাইবাজ। উদ্বেগ জনক ভাবে বাড়ছে ঘটনা।