Tuesday, February 7, 2023
বাড়িরাজ্যভোট মুখি রাজ্য সফরে ভারতের নির্বাচন কমিশনের দুই প্রতিনিধি দল

ভোট মুখি রাজ্য সফরে ভারতের নির্বাচন কমিশনের দুই প্রতিনিধি দল

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২১ ডিসেম্বর : ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যে এসেছেন ভারতের নির্বাচন কমিশনের দুজনের এক প্রতিনিধি দল। ভোটমুখী এই নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি দলটি রাজ্যে এসে ত্রিপুরা নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের সাথে কথা বলে বিভিন্ন খোঁজখবর নেন। ভারতের নির্বাচন কমিশন ত্রিপুরা বিধানসভার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশেষ অধিকারী রণবীর সিং ও অধিকত্তা সন্তোষ আজমেরাকে সিস্টেমেটিক ভোটার এডুকেশন এন্ড ইলেক্টোরাল পার্টিসিপেশন পর্যালোচনা করতে নিযুক্ত করা হয়েছে।

দুই সদস্যের প্রতিনিধি দলটি ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে দিব্যাঙ্গজন ও বয়স্ক ভোটারদের সুবিধাও খতিয়ে দেখেন। প্রতিনিধি দলটি রাজ্য সফরে এসে ত্রিপুরার মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক কিরণ গিত্যে, সকল জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের সাথে এসভিইইপি পরিকল্পনা এবং তার বিদ্যমান সুবিধা গুলি নিয়েও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পর্যালোচনা করেছেন। এই ভিডিও কনফারেন্সে অতিরিক্ত সি ই ও, জেলা নোডাল আধিকারিক ও নির্বাচন দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিক অংশ নেন। এদিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তাদের প্রস্তুতি উপস্থাপন করা হয়। রাজ্যের ভোটার সচেতনতা কর্মসূচি উন্নতির জন্য কিছু নির্দেশ ও পরামর্শ দিয়েছেন। ২০১৩ সালে বিধানসভা নির্বাচনে ৯১.৮২ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ২০১৮ সালে বিধানসভা নির্বাচনে তা কমে দাঁড়ায় ৮৯.৩৮ শতাংশ। তাই ভারতের নির্বাচন কমিশনের দল জেলা শাসকদের কম ভোট পড়ার এলাকা গুলি চিহ্নিত করে কারণ খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন। ২০১৩ সালের মধ্যে অধিক ভোটের হার পরিলক্ষিত করার জন্য মানুষের মধ্যে সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণ করার পরামর্শ দেন। জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের ভোট কেন্দ্রে রেম্প, হুইল চেয়ার, সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ স্বেচ্ছাসেবক, ব্রেইল ব্যালট পেপার ইত্যাদির মাধ্যমে যাতে দিব্যাঙ্গন ব্যক্তিদের সুবিধা মতো তাদের ভোট দিতে পারে তার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক প্রতিনিধিদের জানান কিছু বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন ক্যুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন, সুসজ্জিত ভোটকেন্দ্র স্থাপন, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে যুব পরিচালিত, মহিলা পরিচালিত এবং পি ডব্লিউ ডি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করার কথা বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই প্রতিনিধি দলটি রাজ্য থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে আবার রওনা হবেন। তবে এদিকে আরো একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিগত নির্বাচন গুলিতে দেখা যেত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা দৃষ্টিহীন বা দিবাঙ্গনদের বাড়ি থেকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার জন্য সহযোগিতা করত। কিন্তু তাতে ভোটের নিরাপত্তা কতটা থাকছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যারা শারীরিক দুর্বল রয়েছে তাদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা করা হবে কিনা সে বিষয়টি অনেকে মনে প্রশ্ন হিসেবে দানা বাঁধতে শুরু করেছে। এদিকে সূত্রের খবর রাজ্যে ভোটের যাবতীয় প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে ত্রিপুরা নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের যাবতীয় নির্দেশিকা দিয়ে গেছেন। গত ২২ এবং ২৩ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি দল ত্রিপুরা সফর করে যাওয়ার পর যে সব দায়িত্ব প্রশাসনিক ভাবে দেওয়া হয়েছিল সেগুলি কতটা সম্পূর্ণ হয়েছে সে বিষয়টিও দুজনে প্রতিনিধি দল খতিয়ে দেখেন। এর পাশাপাশি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরায় কি পরিমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা করতে হবে এবং ভোটাররা যাতে নিরাপদে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে তার জন্য কি কি ব্যবস্থা করা রয়েছে সে বিষয়টাও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ভোটের দিন কি পরিমানে নিরাপত্তা বাহিনী কর্মী প্রয়োজন, বুথ ভিত্তিক কতজন নিরাপত্তা বাহিনী জোয়ান থাকবে এ বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পায় বলে সূত্রের খবর। সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখার পর আগামী কিছুদিনের মধ্যে নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার সবুজ সংকেত দেবে বলে মনে করছে রাজ্য প্রশাসন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য