Monday, February 6, 2023
বাড়িরাজ্যসিপিআইএম এবং বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষ চড়িলামে, নিক্ষেপ বহু বোমা, নিহত ১, আহত...

সিপিআইএম এবং বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষ চড়িলামে, নিক্ষেপ বহু বোমা, নিহত ১, আহত প্রাক্তন মন্ত্রী ভাললাল সাহা সহ আহত ১৮,

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ৩০ নভেম্বর : বুধবার সেই এক ভয়াবহতার এক চিত্র ফুটে চড়িলাম বাজারে। সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকটি বোমা ছোড়া হয়। আতঙ্ক ছড়ায় চরিলাম বাজারে। মুহূর্তের মধ্যে জনমানব শূন্য হয়ে যায় চরিলাম বাজার। সিপিএম কর্মীদের লক্ষ্য করা যায় ইট নিক্ষেপ করতে। এমনকি ফ্ল্যাগের লাঠি নিয়েও আক্রমণ করার দৃশ্য ধরা পড়ে। রাজ্যের শাসক দল বিজেপি এবং বিরোধী দল সিপিআইএমের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত প্রায় ১৮ জন।

 নিহত হয় ১ জন। আহত হন সাংবাদিক এবং বিশালগড় মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সহ টি এস আর জওয়ানও। এই সংঘর্ষের ঘটনায় শহীদ মিয়া নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। জিবিতে আনার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে। নিহত শহিদ মিয়ার বাড়ি চড়িলাম আড়ালিয়া এক নাম্বার ওয়ার্ডের উত্তর মুড়া এলাকায়। বয়স ৭৫ বছর। আহত হন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধায়ক ভানু লাল সাহা। তবে বিশালগড় হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও গুরুতর আহত হয় পরেশ রায়, চান মিয়া, প্রানগোপাল দাস, সিদ্দিক মিয়া, স্বপন মজুমদার। এদিনের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আহত হয় এস ডি পি ও রাহুল দাস সহ এক টি এস আর জওয়ান।

 এস ডি পি ও-র পায়ে, বুকে ও মাথায় আঘাত লাগে। এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে চড়িলাম মণ্ডল সভাপতি রাজকুমার দেবনাথ অভিযোগ করেন সুতার মুড়াতে জনজাতি মোর্চার এক জন সভা ছিল। সেই জনসভায় যাওয়ার পথে জনজাতি মোর্চার কর্মীদের গাড়ির উপর আক্রমণ চালায় সিপিএম কর্মীরা। এই ঘটনার পর বিজেপি কর্মীরা একত্রিত হয়। কিন্তু এর পরেও সিপিএম-র আক্রমণে আহত হয়েছে ৮ জন কর্মী। সিপিএম কর্মীরা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে বোমা নিক্ষেপ করে। তাদের প্রত্যেকের কাছে ছিল পিস্তল। প্রশাসন থাকায় অল্পেতে রক্ষা পায় বিজেপি কর্মীরা। অন্যথায় বিজেপি কর্মীদের হত্যা করা হত বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিধায়ক ভানু লাল সাহা এবং সিপিএম নেতা পার্থ প্রতিম মজুমদারের নেতৃত্বে বিশালগড় থেকে বহিঃরাগতদের নিয়ে আসেন। চড়িলাম থেকে এই হামলার নেতৃত্ব দেন প্রদীপ দাস। আহতদের কেউ জিবি বা হাপানিয়া হাসপাতালে রয়েছে বলে জানান তিনি।

এই ঘটনার প্রসঙ্গে উপ মুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা বলেন বিশালগড় থেকে সমাজ বিরোধীদের একত্রিত করে চড়িলাম নিয়ে আক্রমণ চালালে বিজেপি-র  কার্যকরতারা তা প্রতিহত করবেই। একজন প্রাক্তন মন্ত্রী গুন্ডাদের নিয়ে চড়িলামে প্রবেশ করে পরিবেশকে উত্তপ্ত করছে। তিনি আগেও চড়িলামে নাক গলাতেন। এখন বিজেপি আসার পর তা কমে আসে। চরিলাম শান্তিপূর্ণ জায়গা। সেখানে এই ধরনের ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। নির্বাচনের আগে শান্তি বিঘ্নিত করতে সিপিএম মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে জানান উপ মুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা।

বিশালগড়ের বিধায়ক ভানু লাল সাহার অভিযোগ পুলিশের অনুমতি নিয়ে চড়িলাম বাজারে এদিন জনস্বার্থমূলক দাবি নিয়ে শুরু হয়েছিল বামেদের কর্মসূচি। কিন্তু পুলিশের নিরাপত্তার মধ্য দিয়েও বিজেপি আশ্রিত দুর্বৃত্তরা বামেদের সভা ঘেরাও করে বিজেপি অফিস থেকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আক্রমণ শুরু করে। তারপর প্রতিরোধ গড়ে তুললে মারমুখী হয়ে এ আক্রমণ সংঘটিত করে বিজেপি কর্মীরা। তিনি নিজের কথা তুলে বলেন এদিন তাকে বিজেপি কর্মীরা ঘিরে ধরে যখন মার ধরে চেষ্টা করছিল তখন তাঁর নিরাপত্তা কর্মী পিস্তল তুললে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিরাপত্তা কর্মীকে ফাঁকা গুলি চালাতে বাধা দেয়।

এদিনের ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে একজন সাংবাদিকও। তার নাম কুমার গৌরব রায়। খবর সংগ্রহ করার সময় তাকে পেছনদিক থেকে এসে আক্রমণ করে বিজেপির দুর্বৃত্তরা। সে পালিয়ে ব্যাংকে গিয়ে প্রবেশ করলেও তাকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ তাঁর।

ঘটনার খবর পেয়ে জিবি হাসপাতালে আহত কর্মীদের দেখতে ছুটে যান বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার, সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার জানান, রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী বিধানসভা কেন্দ্রে এ ধরনের সন্ত্রাস অত্যন্ত নিন্দার জনক। উপমুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন দপ্তরের দুর্নীতির চাপে থাকতে পাচ্ছেন না, তার উপর দিয়ে আবার দলের কর্মীদেরও সংযত রাখতে পারছেন না। রাজ্যের মানুষ এগুলি সব দেখছে। আর এগুলি হিসাব বহির্ভূত বলে ভাবলে ভুল ভাবছে। এভাবে যদি মানুষের ক্ষোভ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে পারবে বলে ভাবে তাহলে ভুল ভাবছে। মানুষ এর জবাব দিতে প্রস্তুত বলে জানান বিরোধী দলনেতা।

এদিকে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী জানান, উপমুখ্যমন্ত্রী বলছেন বাইরে থেকে গুন্ডারা এসে এই দিনের ঘটনা সংঘটিত করেছে তার বিধানসভা কেন্দ্রে। কিন্তু ২০১৮ সালের পর উপমুখ্যমন্ত্রী নিজেই এলাকায় গুন্ডা রাজ কায়েম করে রেখেছে। শেষ পর্যন্ত নিরীহ একজন কৃষককে খুন হতে হলো। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে জানেন তিনি। আরো বলেন বিজেপি বুঝে গেছে তাদের সময় আসন্ন। তাই লুটে রাজত্ব চালাচ্ছে তারা। এর উচিত শিক্ষা দেবে রাজ্যবাসী। তিনি এদিন পুলিশের ভূমিকারও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন সিপাহিজলা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং মহকুমা পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে গত কয়েক মাসে আরো বহুবার অভিযোগ উঠেছে। তারা শাসক দলের হয়ে কাজ করছে বলে কাঠগড়ায় দাঁড় করান তিনি।

তবে শাসকদলের পক্ষ থেকেও এদিন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী জিবি হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি আহত কর্মীদের খোঁজখবর নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিপিআইএম কাঁধে দোষ চাপাতে ভুল করেননি। তিনি বলেন সরকারের উন্নয়ন রুখে দিতে সিপিআইএম এই দিনের ঘটনা সংঘটিত করেছে। বিধায়ক ডাঃ দীলিপ দাস জানান জিবিতে তাদের ৫ জন কর্মী ভর্তি রয়েছেন। তবে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। আহত কর্মীদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেন তিনি। এই ঘটনার জেরে চড়িলাম বাজার এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে টি এস আর এবং পুলিশ।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য