Wednesday, August 17, 2022
বাড়িরাজ্যএটা অনাকাঙ্ক্ষিত, গণতন্ত্র বিরোধী এবং সংবিধান বিরোধীদের জয় : জীতেন্দ্র

এটা অনাকাঙ্ক্ষিত, গণতন্ত্র বিরোধী এবং সংবিধান বিরোধীদের জয় : জীতেন্দ্র

আগরতলা। ২৮ নভেম্বর। রাজ্যের সাধারণ মানুষ বলছে তাদের জীবনে এমন নির্বাচন আগে কখনো দেখেনি। কিন্তু এ নির্বাচনের জয় অনাকাঙ্ক্ষিত, গণতন্ত্র বিরোধী এবং সংবিধান বিরোধীদের জয়। এমনটি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। গত সাড়ে তিন বছর ধরে অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সন্ত্রাস চলছে রাজ্যে। আগরতলা পুর নিগমে নির্বাচকমণ্ডলীর প্রকৃত রায় প্রতিফলিত হয়নি। এটি রাজ্যের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ গণতন্ত্র প্রিয় মানুষের দায়বদ্ধতা এখন বেড়ে গেছে।

গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করার জন্য মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অন্ধকার থেকে বের হয়ে আসার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। কারণ মানুষ নিরাপদে ভোট দিতে পারেনি। মানুষ লড়াই করে ভোট দিয়েছে। তাই সেসব ভোট দাতাদের প্রতি অভিনন্দন জানিয়ে বামফ্রন্ট গণনা কেন্দ্রে গেছে। রাজ্যের পাঁচটি নগরের বহু ওয়ার্ডে বামফ্রন্ট এজেন্ট দিতে পারেনি। তাই এই ভোট বামফ্রন্টের অনুকূলে নয় এমনটাই অভিমত ব্যক্ত করলেন জীতেন্দ্র চৌধুরী। তিনি বলেন কয়েকটি ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেস সিপিআইএম থেকে বেশি ভোট পেয়েছে বলে রাজ্যের পুর ও নগরে প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস হয়ে গেছে তা ভাবার কোন কারণ নেই। এটা আত্মতুষ্টি লাভ করা ছাড়া আর কিছু নয়। ১৯৮৮-১৯৯২ সালে এমনই একটা অভিজ্ঞতা সম্মুখীন হয়েছিল রাজ্যের মানুষ। অভিজ্ঞতার রাজ্যের মানুষ নির্বাচনী সন্ত্রাসের আমদানি হয়েছিল। এখনো সেটাই হচ্ছে রাজ্যে। তৎকালীন সময়ে বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সুস্মিতা দেবের পিতা সন্তোষ মোহন দেব লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। তখন রাজ্যে গণতন্ত্র এবং সংবিধানের উপর সংকট নেমে এসেছিল। তিন শতাধিক বামফ্রন্ট কর্মী-সমর্থকের খুন হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বামফ্রন্ট রাজ্যের মানুষকে নিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। আগামী দিনেও রাজ্যের মানুষকে নিয়ে বামফ্রন্ট গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে। আর এ পুর ও নগর নির্বাচনে যদি সিপিআইএম না থাকতো তাহলে বামফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীরাই জয়ী হতেন।

জীতেন্দ্র চৌধুরী বলেন মুখ্যমন্ত্রী শাসক দলের হয়ে সারা দেশের সামনে নিজেকে এবং রাজ্যকে কালিমালিপ্ত করেছেন। ভোট কি রকম হয়েছে তা পূর্বে ভোট হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের সামনে এসে রাজ্যবাসীকে জানাতেন, এবং বলতেন উৎসবের মেজাজে ভোট হয়েছে। কিন্তু রাজ্যে পুর এবং নগর সংস্থান নির্বাচন সংঘটিত হওয়ার পর ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবকে রাজ্যবাসী সামনে এসে অভিনন্দন জানাতে ২৪ ঘণ্টা সময় লেগে গেছে। অর্থাৎ গণতন্ত্রের মৃত্যু পরোয়ানা কিভাবে জারি করতে হয় তা করছে বিজেপি।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য