Saturday, September 19, 2026
বাড়ি রাজ্য ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ ত্রিপুরায়: মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা

১৭ সেপ্টেম্বর থেকে মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ ত্রিপুরায়: মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা

১৭ সেপ্টেম্বর থেকে মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ ত্রিপুরায়: মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৪ সেপ্টেম্বর :প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন এবং সাংবিধানিক পদে তাঁর ২৫ বছরের জনসেবা পূর্তি উপলক্ষে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ পালন করবে ত্রিপুরা সরকার। সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা।

১৭ সেপ্টেম্বরকে অনুপ্রেরণার দিন হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘জন সেবা হি প্রভু সেবা’ ভাবনাকে সামনে রেখে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জনসেবা, জনকল্যাণ এবং সুশাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এই অভিযানে।

ডা. সাহা বলেন, সাংবিধানিক নেতৃত্বে নরেন্দ্র মোদির যাত্রা শুরু হয় ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর, যখন তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জনজীবনে ২৫ বছর পূর্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং এই উপলক্ষে জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তা পালন করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যে এই অভিযানের আওতায় মোট ১২টি কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

অভিযানের উদ্বোধনী কর্মসূচি ‘আশীর্বাদ বার্তা প্রদীপ’ অনুষ্ঠিত হবে ১৭ সেপ্টেম্বর। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টায় রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, গ্রাম, শহর ও সাধারণ মানুষের বাড়িতে ৬ লক্ষেরও বেশি মাটির প্রদীপ জ্বালানো হবে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের তৈরি প্রদীপ রেশন দোকান, পঞ্চায়েত কার্যালয় এবং ভাগ্য মন্দির কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ, জগন্নাথ দিঘি, লক্ষ্মীনারায়ণ দিঘি, মাতাবাড়ি ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির, কালীবাড়ি দিঘি, নীরমহল এবং ঊনকোটি কলাক্ষেত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও বিশেষ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হবে।

ভিলেজ কমিটি নির্বাচন চলায় বাকি কর্মসূচিগুলি ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

‘মেরে স্বপ্ন কা ভারত’ কর্মসূচির আওতায় রাজ্যের ৪,৯৪৫টি স্কুলে অঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি উন্নত ভারতের ভাবনা নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বক্তৃতা প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হবে।

‘নমঃ সেবা: আনকহি কাহানিয়াঁ’ কর্মসূচির মাধ্যমে পথনাটিকার সাহায্যে বিভিন্ন সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ও জনসেবার বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রায় ১৮ থেকে ২০ জন শিল্পী নিয়ে গঠিত নাট্যদল স্থানীয় ভাষায় স্কুল, কলেজ, পঞ্চায়েত এবং অন্যান্য জনসমাগমস্থলে পথনাটিকা পরিবেশন করবে।

অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ‘আঙন মিলন সেবা’। এর আওতায় রাজ্যের সব ১০,৪৭৯টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অঙ্গনওয়াড়ির পরিষেবা এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প সম্পর্কে উপভোক্তা ও অভিভাবকদের জানানো হবে। পাশাপাশি কোথাও কোনও পরিষেবার ঘাটতি রয়েছে কি না তা চিহ্নিত করে বকেয়া সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।

‘সেবা কি কহানি’ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, জল জীবন মিশন, আয়ুষ্মান ভারত, পিএম-কিষাণ এবং পিএম গরিব কল্যাণ যোজনার মতো বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন। সরকারি সহায়তা তাঁদের জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন এনেছে, সেই বিষয়ও তাঁরা তুলে ধরবেন।

‘সেবা জ্যোতি কলশ যাত্রা’ কর্মসূচির আওতায় সেবার মশাল নিয়ে পদযাত্রার পাশাপাশি সাইকেল ও মোটরসাইকেল র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় ১,১৯৩টি গ্রাম এবং ২১টি শহর ও নগর এই কর্মসূচির আওতায় আসবে। যুবসমাজের অংশগ্রহণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ‘বিকশিত ভারত’-এর ভাবনাকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরতে একটি কলশও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে স্থাপন করা হবে।

এছাড়াও দেশ গঠনে সাধারণ মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে সামাজিক কাজে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হবে। উদ্ভাবন, সুশাসন এবং জনঅংশগ্রহণকে কেন্দ্র করেও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জনধন অ্যাকাউন্ট, উজ্জ্বলা সংযোগ, দরিদ্রদের জন্য আবাসন, আয়ুষ্মান ভারত, সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর (ডিবিটি), পরিকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল ইন্ডিয়া, জিএসটি এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপকে তাঁর সরকারের মেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেন।

অভিযানের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়কে নোডাল মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে কর্মসূচি তদারকির দায়িত্ব পালন করবেন গার্ডিয়ান মন্ত্রীরা। বিধায়ক এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরাও নজরদারির কাজে অংশ নেবেন।

কর্মসূচির কর্মপরিকল্পনা তৈরি এবং বাস্তবায়ন পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি, উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক এবং জেলাশাসকদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দফতরকে এই অভিযানের নোডাল দফতর করা হয়েছে।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha