স্যন্দন
ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৬ সেপ্টেম্বর : অবহেলা উত্তর ত্রিপুরা
জেলার ধর্মনগর পাবলিক লাইব্রেরী নিয়ে দপ্তরের। আগরতলার ঐতিহ্যবাহী বীরচন্দ্র স্টেট সেন্ট্রাল লাইব্রেরির পরই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এই পাবলিক লাইব্রেরী।
প্রতি মাসে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ জন রিডার এবং
প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০
জন উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছাত্রছাত্রী যেখানে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ছুটে আসেন, সেই প্রতিষ্ঠানটি আজ নিজেই এক
চরম অবহেলার প্রদর্শনী। চড়া মূল্যের প্রাইভেট কোচিং কিংবা হাজার হাজার টাকার বই কেনার সামর্থ্য
যেসব নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ঘরের
বেকার ও পাঠকদের নেই,
তাঁদের একমাত্র ভরসাস্থল ছিল ধর্মনগরের এই লাইব্রেরি।
কিন্তু প্রশাসনিক উদাসীনতায় আজ তাদের সেই
মেধার স্বপ্নে ধুলো জমতে বসেছে। ধর্মনগর পাবলিক লাইব্রেরিতে সাজানো হাজার হাজার বই, কিন্তু বই থাকলেও প্রতিযোগিতামূলক
পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার মতো কোনো আপডেটেড বই নেই। লাইব্রেরিতে
নিয়মিত আসা মহিলা পাঠকদের জন্য নির্ধারিত শৌচাগারে নেই। নেই কোনো জলের ব্যবস্থা। ছাদের উপর থাকা জলের ট্যাঙ্কি দীর্ঘদিন ধরে অচল এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার কোনো বালাই নেই। এমনকি লাইব্রেরির বহু ফ্যান ও টিউব লাইট
নষ্ট হয়ে পড়ে থাকলেও তা মেরামতের উদ্যোগ
নেই। একদিকে ডিজিটাল ডিজিটাইজেশনের কথা বলা হলেও, এই লাইব্রেরির দুটি
ডেস্কটপ কম্পিউটার ও একটি মূল্যবান
প্রিন্টার ২০১৪ সালের পর থেকে অচল
অবস্থায় ধুলো খাচ্ছে। সম্প্রতি এক তরুণ পড়ুয়া
নিজ উদ্যোগে কম্পিউটার চালু করে লাইব্রেরির জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল আইডি তৈরি করলেও, পুরো সিস্টেম বিকল থাকায় কাজ আর এগোয়নি। লাইব্রেরির
গ্রিভেন্স বক্সে বা অভিযোগ বাক্সে
বারবার লিখিত সমস্যার কথা জানানো সত্ত্বেও প্রশাসন থেকে কোনো সদুত্তর মেলেনি। লাইব্রেরিয়ান এবং ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের সাধ্যমতো লাইব্রেরিটি সচল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও, সরকারি দপ্তর থেকে কোনো পরিকাঠামোগত সহায়তা আসছে না। উত্তর ত্রিপুরার উজ্জ্বল ও সম্ভাবনাময় ছাত্রসমাজকে
এভাবে পুরনো বইয়ের অভাবে অমানবিকভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ফেলে রাখছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান