স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৬ সেপ্টেম্বর : পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা দপ্তর ভুয়ো ডিগ্রি ও দুর্নীতির অভিযোগে সেই রাজ্যের প্রায় ৪৫০টি বিএড কলেজকে কারণ দর্শানোর বা শো-কজ নোটিশ পাঠিয়েছে। সেই রাজ্যের মোট ৬০২ টি বিএড কলেজের মধ্যে প্রায় ৪৫০টি কলেজকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ২১ দিনের মধ্যে উত্তর দিতে বলা হয়েছে। পরিদর্শনে দেখা গেছে ৫৩ টি কলেজের কোনো বাস্তব অস্তিত্বই নেই। ১৭ টি কলেজ ফ্ল্যাট বা ড্রয়িং রুমের ঠিকানায় চলছে এবং এনসিটিই -এর নিয়ম মানছে না। মোট ২৬৫ টি কলেজকে পুরোপুরি 'অচল' বা মানহীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আসাম ও সিকিম সহ প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের কিছু বিএড কলেজের ডিগ্রি নিয়ে প্রশ্ন তুলে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, ক্লাস না করেই টাকা দিয়ে ডিগ্রি কেনা হচ্ছে।
ত্রিপুরা
থেকেও বহু যুবক-যুবতী ২০১৫ -র পর পশ্চিমবঙ্গে
গিয়ে নামী ও বেনামী কলেজ
থেকে ডিগ্রী অর্জন করে রাজ্যে ফিরেছে। ত্রিপুরা সরকার কোনরকম তদন্ত না করে টেট
উত্তীর্ণদের চাকুরী দিয়ে চলেছে। চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গের সরকার পরিবর্তনের পর ব্যাপক দুর্নীতির
বিষয়টি যখন সামনে আসে তখন কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিকে চিঠি দিতেই নড়েচড়ে বসল ত্রিপুরা সরকার। এর প্রভাব ত্রিপুরার
যুবক-যুবতীদের উপর করতে পারে। সন্দেহ রয়েছে সেসব কলেজ থেকে ডিগ্রি অর্জন করে বহু ছেলে মেয়ে রাজ্যে সার্টিফিকেট নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে
বহু ছেলে মেয়ে সারা বছর কলেজের কোন ক্লাস না করে নির্দিষ্ট
একটা সময়ের পর কলেজে গিয়ে
পরীক্ষায় বসে সার্টিফিকেট নিয়ে এসেছে বলে খবর। এই বিষয় নিয়ে
রবিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কোথা থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে এসে পরীক্ষায় বসবে, এটা কোনভাবেই হতে দেবে না সরকার। যদি
কেউ এমন করে থাকে তাহলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কারণ ভুয়া ডিগ্রী কলেজ থেকে যদি সার্টিফিকেট নিয়ে আসে এবং চাকরি পায় তাহলে গুণগত শিক্ষার উপর প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়ে দেন যারা চাকরি করছেন তাদের বিষয়েও সরকার আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেবে। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য নিয়ে কোন অবস্থাতেই আপোষ করা হবে না। এমনটাই সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, যদি পশ্চিমবঙ্গের ভুয়া ডিগ্রী কলেজ গুলি থেকে রাজ্যের যুবক-যুবতীরা এবং বর্তমানে চাকরিরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে একটা অংশ সার্টিফিকেট গ্রহণ করে থাকে তাহলে আগামী দিন তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। আইনি বেড়াজালে তাদের সার্টিফিকেট সবার আগে বাতিল হবে। যারা চাকরি করছেন তাদের চাকরি হারাতে হবে, আর যারা সার্টিফিকেট
নিয়ে পরীক্ষায় বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে তাদের সার্টিফিকেট ভুয়া বলে গণ্য হবে দপ্তরের কাছে। এই বিষয় নিয়ে
মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন বলে সূত্রের খবর।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান