স্যন্দন
ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৬ সেপ্টেম্বর : রাজ্যে কর্মসংস্কৃতির জলাঞ্জলি।
মানুষের ন্যূনতম পরিষেবা পর্যন্ত মিলছে না বিভিন্ন দপ্তর
গুলিতে। এবার ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকায় মৃত্যু
হলো এক গর্ভবতী মহিলার।
মৃতার নাম নুরজাহানারা বেগম। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, কৈলাশহরের আর.জি.এম
মহকুমা হাসপাতালে শনিবার দুপুরে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ভর্তি করানো হয় গর্ভবতী নুরজাহানারাকে। গর্ভবতীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক চিরঞ্জিত বাবু ডেলিভারি করানোর উদ্যোগ নেন নি।
যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় রবিবার ভোরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠে। তখন মহাকুমা হাসপাতাল থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক চিরঞ্জিত বাবু রোগীকে ঊনকোটি হাসপাতালে রেফার করেন। জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসার পর জানতে পারেন শনিবার এবং রবিবার কোন স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হাসপাতালে থাকেন না। তারপর দীর্ঘক্ষণ প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে তরুণী গৃহবধূ। বয়স মাত্র ২৪ বছর। প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুপস্থিতির কারনেই মৃত্যু হয় নুর জাহানারা বেগম ও তার গর্ভস্থ সন্তানের। কারণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন শনি ও রবি ঊনকোটি জেলা হাসপাতালের কোন স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকেন না। শেষ পর্যন্ত তারাও আইজিএম হাসপাতালে রেফার করে দেন।
একটি
জেলা হাসপাতালে যদি সংকটজনক প্রসূতির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ২৪ ঘন্টা এবং
সরকারি ছুটির দিন না থাকেন, তাহলে
সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? সরকারি ছুটির দিন কি সন্তান জন্ম
হয় না রাজ্যে? আর
কত তরতাজা প্রান ঝরে গেলে সরকার এবং দপ্তরের আধিকারিকদের ঘুম ভাঙবে? এখন পর্যন্ত বহু ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন অসহায় পরিবার গুলি। সরকারের উদ্দেশ্যে সুষ্ঠু তদন্ত এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় কোন ঘটনারই তদন্ত হয় না। যাইহোক এই ঘটনারও সুষ্ঠু
তদন্তের দাবি করেছে পরিবারের লোকজন। মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তদন্তের দাবি করেছেন।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান