Saturday, September 19, 2026
বাড়ি রাজ্য আত্মসমর্পণকারী জঙ্গি আন্দোলনে স্তব্ধ জাতীয় সড়ক এবং রেলপথ, জনজীবন বিপর্যস্ত, সরকারের ভূমিকায় পরিবহন শ্রমিকরা হতাশ

আত্মসমর্পণকারী জঙ্গি আন্দোলনে স্তব্ধ জাতীয় সড়ক এবং রেলপথ, জনজীবন বিপর্যস্ত, সরকারের ভূমিকায় পরিবহন শ্রমিকরা হতাশ

আত্মসমর্পণকারী জঙ্গি আন্দোলনে স্তব্ধ জাতীয় সড়ক এবং রেলপথ, জনজীবন বিপর্যস্ত, সরকারের ভূমিকায় পরিবহন শ্রমিকরা হতাশ

 

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। সেপ্টেম্বর : চুক্তি রূপায়ণের দাবিতে শুক্রবার সকাল থেকে বনধ শুরু করেছে আত্মসমর্পণকারী কুখ্যাত বৈরী সংগঠন। জাতীয় সড়ক এবং রেলপথ অবরোধ করে তারা ১১ দফা দাবি উত্থাপন করেছে রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে। সড়ক অবরোধের প্রভাব পড়ছে রাজ্যের বিভিন্ন মোটরস্ট্যান্ড গুলিতে। এদিন সকাল থেকে খোয়াই, ধলাই, উত্তর ত্রিপুরা এবং ঊনকোটি জেলায় বন্ধ আগরতলা থেকে যান চলাচল। আগরতলা চন্দ্রপুর স্থিত আই এস বি টি - মধ্যে দেখা গেছে যাত্রী দুর্ভোগ। জানা যায়, ১১ দফা সুনির্দিষ্ট দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আত্মসমর্পণকারী প্রাক্তন জঙ্গি সংগঠন এন.এল.এফ.টি এবং .টি.টি.এফ -এর আহ্বানে আয়োজিত ৭২ ঘণ্টার পথ রেলপথ অবরোধ কর্মসূচিতে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়ক।

আজ শুক্রবার সকাল থেকেই আগরতলা-হেজামারা জাতীয় সড়কের খোয়াই চৌমুহনী, বিগু দাস পাড়া এবং বড়মুড়া পাহাড় চত্বরে শুরু হয়েছে এই তীব্র আন্দোলন। অবরোধের ফলে জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকাগুলিতে শত শত পণ্যবাহী গাড়ি, যাত্রীবাহী বাস ছোট যানবাহন আটকে পড়ে এক তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে রেলপথ অবরোধের কারণে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দূরদূরান্তের সাধারণ রেলযাত্রী নিত্যযাত্রীরা।আন্দোলনকারীরা রাস্তার উপর টায়ার কাঠ জ্বালিয়ে তীব্র প্রতিবাদ প্রকাশ করছেন। পরিস্থিতি যাতে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকে, সেজন্য বরমুড়া খোয়াই চৌমুহনী সহ সমগ্র স্পর্শকাতর এলাকায় বিশাল পুলিশ ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো এলাকায় থমথমে চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আন্দোলনস্থল থেকে এক প্রাক্তন বৈরী নেতা রাজ্য প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আত্মসমর্পণকারী উগ্রপন্থীদের সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পুনর্বাসন, আর্থিক সাহায্য ১১ দফা দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আন্দোলন আরও তীব্র রূপ নেবে। এক প্রাক্তন জঙ্গি নেতৃত্ব জানান, সরকার যদি তাদের দাবি দেওয়ার প্রতি নজর দিত তাহলে তাদের এভাবে সড়ক অবরোধ করতে হতো না।

 গত ১২ জুন তারা সড়ক অবরোধ করেছিল। কিন্তু জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার আশ্বাস পেয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু গত দুমাসে তাদের দাবিদাওয়ার প্রতি কোন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাই পুনরায় তারা সড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছে। খোয়াই চৌমুহনিতেও সড়ক অবরোধকারী জঙ্গী নেতারা জানিয়েছেন সরকার ৭২ ঘন্টার মধ্যে সমস্যা সমাধানের রাস্তা খুঁজে না বের করলে আন্দোলন নির্ধারিত সময় অব্যাহত থাকবে। এদিকে চন্দ্রপুর আইএসবিটি থেকে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী গাড়ি বন্ধ থাকায় মানুষ সরকার এবং এই জঙ্গি সংগঠন গুলির উপর বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ১৫ দিন, এক মাস পরপর চলছে এভাবে সড়ক অবরোধ এবং বনধ। গাড়ি চালকরা তাদের কারণে গাড়ি চালাতে পারছে না। যাত্রীরা মোটরস্ট্যান্ড গুলিতে আসতে চাইছে না। কারণ সকলের মধ্যেই আতঙ্ক কাজ করছে। কারণ যারা সড়ক অবরোধ এবং বনধের করছে তারা জঙ্গি। এই জঙ্গিদের দুদিন পর পর নাটক আর সহ্য হচ্ছে না। দ্রব্যমূল্য আঁকাশ ছোঁয়া, সংসার পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবহন শ্রমিকরা। এর মধ্যে দিয়ে সরকারের জামাই আদরে ঘরে ফেরা জঙ্গিদের এই ধরনের নাটক শ্রমিকদের পেটে লাথি পড়া ছাড়া আর কিছু নয়।  উল্লেখ্য, রাজ্যের প্রধান শাসকদল এবং জোট শরিক দলের মধ্যে দিল্লিতে যখন আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর আহবানে প্রধান শাসকদল এবং জোট শরিক দলের বৈঠক চলছে তখন রাজ্যের মধ্যে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে আছে। কিছুদিন পর পর তাদের নাটক দেখে মানুষ অত্যন্ত হতাশাগ্রস্ত।

 

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha