স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৮ জুলাই : রাজনৈতিক দাপট আর প্রশাসনিক যোগসাজশে কীভাবে সাধারণ মানুষের জমি লুট হয় তার জ্বলন্ত উদাহরণ এখন প্রতাপগড় মন্ডলের অন্তর্গত আড়ালিয়ার রাজেশ সাহা ও তার অসুস্থ মা মিনতি রানী সাহা। রাজেশ সাহা কিডনি রোগে আক্রান্ত। উন্নত চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজনে নিজেদের জমি বিক্রি করতে গিয়ে জানতে পারলেন, ৩৩ বছর ধরে নিজেদের দখলে থাকা জমি ২০১৫ সালে সিপিআইএম আমলের এক জমি মাফিয়ার নামে বেআইনিভাবে মিউটেশন হয়ে গেছে। ১৯৯২ সালে কেনা জমি, আজ পরের নামে। রাজেশ সাহার মা মিনতি রানী সাহা ১৯৯২ সালে আরালিয়া এলাকায় রেজিস্ট্রির দলিলের মাধ্যমে জমি ক্রয় করেছিলেন। জমি কেনার কিছুদিন পরেই রাজেশের বাবা মারা যান।
এরপর আর্থিক অনটনের কারণে মা-ছেলে অন্যত্র বসবাস শুরু করেন। অভাবের তাড়নায় দীর্ঘদিন জমিটির মিউটেশন করানো সম্ভব হয়নি। অভিযোগ, এই সুযোগটাই কাজে লাগান বাম আমলের কুখ্যাত জমি মাফিয়া ভজন দাস বলে অভিযোগ। অসহায় অসুস্থ রাজেশের অভিযোগ, ২০১৫ সালে চতুরতার মাধ্যমে জমি মাফিয়া ভজন দাস অবৈধভাবে জমিটি নিজের নামে মিউটেশন করে নেয় এবং জমি দখল করে নেয়। এদিকে ২০২১ সালে রাজেশ সাহা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে মা তাকে জমিটি বিক্রির কথা বলেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলতে গিয়ে রাজেশ হতবাক। দেখা যায়, তার মায়ের কেনা জমি এখন রেকর্ডে ভজন দাসের নামে। হতাশ হয়ে রাজেশ এসডিএম সদরের কাছে আরটিআই আবেদন করেন। আরটিআই-এর রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, জমির প্রকৃত মালিক এখনও রাজেশের মা, কিন্তু দখলে রয়েছে নাম জমি মাফিয়া ভজন দাসের। তিনি আরো বলেন বাঁচার জন্য জমিটা বিক্রি করতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু জমি মাফিয়া ভজন দাস সাঙ্গপাঙ্গরা মিলে মিনতি রানী সাহার জমির পর্চা নিজের নামে করে রেখেছে। প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচারের দাবি জানিয়েছে অসহায় রাজেশ সাহা ও তার মা মিনতি রানী সাহা প্রশাসনের কাছে এই জমি ফিরিয়ে দেওয়ার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে মঙ্গলবার এ বিষয়টি সুরাহার জন্য অসুস্থ রাজেশ সাহা এলাকার অভিভাবকদের নিয়ে নিজের মায়ের নামের জায়গাটি পর্যবেক্ষণ করতে গেলে উক্ত জমি মাফিয়া ভজন দাস এবং সাঙ্গপাঙ্গরা মিলে আক্রমণ চালায়। তাতে গুরুতর অভাবে আক্রান্ত হয়েছেন কিডনি রোগে আক্রান্ত রাজেশ সাহা। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনেরও দ্বারস্থ হয়েছেন। অসহায় রাজেশ সাহা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং নিজের মায়ের নামের একমাত্র সম্বল টুকু ফিরিয়ে পাওয়ার আর্জি জানিয়েছেন।

