আগরতলা, ২৭ জুন (হি.স.) : বিদ্যুৎ পরিষেবার বেসরকারিকরণের বিরোধিতায় দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু করল ইলেকট্রিসিটি এমপ্লয়িজ ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (ইইএফআই)। সেই লক্ষ্যে শনিবার আগরতলায় ছাত্র-যুব ভবনে অনুষ্ঠিত হলো সংগঠনের পূর্বাঞ্চলীয় (ইস্টার্ন রিজিওনাল) কমিটির বৈঠক। বৈঠকে ত্রিপুরাসহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং বিদ্যুৎ পরিষেবার বর্তমান পরিস্থিতি, কর্মচারীদের সমস্যা ও বেসরকারিকরণের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
বৈঠকের উদ্বোধন করেন ইলেকট্রিসিটি এমপ্লয়িজ ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার সর্বভারতীয় সভানেত্রী বেলা পাত্র। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি সুভাষ লাম্বা-সহ বিভিন্ন রাজ্যের নেতৃবৃন্দ।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, অসম ও মেঘালয় থেকে মোট ১৯ জন প্রতিনিধি বৈঠকে যোগ দেন। এছাড়াও আয়োজক রাজ্য ত্রিপুরার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দেশের বিদ্যুৎ পরিষেবার বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে কর্মরত বিদ্যুৎ কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা, কর্মপরিবেশ, জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, অভাব-অভিযোগ এবং পরিষেবার মানোন্নয়নের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া বিদ্যুৎ পরিষেবার বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, বিদ্যুৎ খাতে বেসরকারিকরণ হলে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়তে পারে, একই সঙ্গে কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা ও পরিষেবার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুব্রত গাঙ্গুলী জানান, বিদ্যুৎ পরিষেবার বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আন্দোলনের রূপরেখা সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সভায় চূড়ান্ত করা হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন রাজ্যে গণআন্দোলন, প্রচার কর্মসূচি ও প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ পরিষেবা একটি অত্যাবশ্যকীয় জনপরিষেবা। তাই এই খাতকে শক্তিশালী করতে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শূন্যপদ পূরণ, কর্মীদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া এবং জনস্বার্থ রক্ষায় সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
বৈঠক শেষে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, বিদ্যুৎ পরিষেবাকে জনমুখী ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যবস্থার অধীনেই রাখার দাবিতে আগামী দিনে সর্বস্তরের বিদ্যুৎ কর্মী ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

