স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৩ জুন : কৈলাসহরে জমি সংক্রান্ত বিবাদে গত ঊনিশ জুন দুই ভাই খুনের পর এবার ফটিকরায় থানা এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিবাদে ষাট বছরের এক অসহায় কৃষককে শাসক দলের প্রাক্তন প্রধান বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। শাসক দলের প্রাক্তন প্রধানের দ্বারা বেধড়ক মারধর খেয়ে গুরুতর জখম হয়ে অসহায় কৃষক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও ঘটনার চারদিন অতিক্রান্ত, অথচ পুলিশ মামলা নিতে চাইছে না। জানা যায়, ঊনকোটি জেলার ফটিকরায় থানার অন্তর্গত গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের এক নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা সুখলাল দে। তিনি পেশায় কৃষক। ঘটনার বিবরণে সুখলাল দে-এর ছেলে সুজয় দে জানায় যে, ফটিকরায় থানার অন্তর্গত গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের এক নং ওয়ার্ড এলাকায় তাদের বাড়ির পাশ দিয়ে মাটির রাস্তা রয়েছে। সেই মাটির রাস্তা দিয়ে কেবলমাত্র মৃত্যুঞ্জয় সিনহা এবং মৃত্যুঞ্জয় সিনহার পরিবারের সদস্যরা যাতায়াত করে থাকেন।
সম্প্রতি মাটির ছোট রাস্তাটি বড় করার জন্য জায়গা ছাড়ার জন্য সুখলালকে চাপ দেয় মৃত্যুঞ্জয় সিনহা। কিন্তু বিনামূল্যে জায়গা দিতে নারাজ ছিলেন সুখলাল। এরপর থেকেই সুখলালকে দিবারাত্রি পরোক্ষ ভাবে এবং প্রত্যক্ষ ভাবে হুমকি দেবার পরও জায়গা দিতে রাজি না হওয়াতে গত শুক্রবার রাতে বাজার থেকে ফেরার পথে মৃত্যুঞ্জয় সিনহা সুখলালকে রাস্তায় একা পেয়ে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করায় সুখলালের পেটে, বুকে, কানে ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। মার খেয়ে সুখলাল কোনো রকম ভাবে বাড়িতে ফিরলে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ফটিকরায় প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক সুখলালের অবস্থা দেখে হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়াতে ফটিকরায় প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসকরা সুখলালকে রবিবার সকালে কৈলাসহরের ভগবান নগর এলাকায় অবস্থিত ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে রেফার করেন।
সুখলালের ছেলে সুজয় জানান, তার বাবার বুকে এবং পেটে এখনও ব্যাথা কমে নি। তিনি এখনও ভালো করে কথা বলতে পারছেন না। শনিবারে ফটিকরায় থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও এখন অব্দি পুলিশ লিখিত অভিযোগের রিসিভ কপি দেয়নি এবং মামলাটি রেজিষ্ট্রিও করেনি বলে অভিযোগ। সোমবার তার মা ফটিকরায় থানায় গিয়ে মামলাটি রেজিষ্ট্রি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ফটিকরায় থানার পুলিশ সুজয়ের মাকে উল্টো হুমকি দিয়েছে। পুলিশ বলেছে চুপ থাকার জন্য এবং নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে নেওয়ার জন্য। অসহায় পরিবার ন্যায্য বিচার পাচ্ছেন না বলে সংবাদ মাধ্যমে সামনে দাবি করলেন। অন্যদিকে আক্রমণকারী মৃত্যুঞ্জয় সিনহা গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি দলের প্রাক্তন প্রধান হবার সুবাদে মৃত্যুঞ্জয় সিনহা যেভাবে বলছে ফটিকরায় থানার পুলিশ সেভাবে চলছে। স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় যে, আক্রমণকারী মৃত্যুঞ্জয় সিনহা প্রকাশ্যেই এলাকায় ঘুরাফেরা করছে এবং প্রতিদিন সন্ধ্যায় থানায় এসে পুলিশের সাথে শলাপরামর্শ করছে।

