স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২১ মে :ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য শ্যামল কুমার দাসকে হাতে চুড়ি পড়ার পরামর্শ দিল এ.বি.ভি.পি-র নেতৃত্ব। সম্প্রতি ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত বিভিন্ন ডিগ্রী কলেজের চতুর্থ ও ষষ্ঠ সেমিস্টারের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায় বহু ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষায় বসার পরও তাদের অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে।
আবার বহু ছাত্র-ছাত্রীর একাধিক পেপারে বেক এসেছে। ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থ সম্বলিত এই ধরনের একাধিক বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের এক প্রতিনিধি দল ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য শ্যামল কুমার দাসের সাথে সাক্ষাৎ করে। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক রবি শঙ্কর হালদার। তিনি সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিযোগ করেন ত্রিপুরা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য শ্যামল কুমার দাস ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্যার কথা শুনতেই নারাজ।
তিনি কোন প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেন নি। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন। রবি শঙ্কর হালদার প্রফেসর শ্যামল কুমার দাসকে পরামর্শ দেন তিনি যদি কোন কিছু করতে না পারেন তাহলে তিনি যেন হাতে চুরি পড়ে বসে থাকেন। একই সাথে রবি শঙ্কর হালদার হুশিয়ারি দেন ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্যার সমাধান না হলে আগামী দিনে ত্রিপুরা বিশ্ব বিদ্যালয়ে ঘেরাও করা হবে। এদিকে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল প্রকাশের অনিয়ম এবং নম্বরের বিভ্রাটের অভিযোগে বৃহস্পতিবার ফটিকরায় আম্বেদকর কলেজের অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এই বিক্ষোভে প্রায় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী সামিল হন। বিক্ষোভ চলাকালীন ছাত্র-ছাত্রীরা ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ডা : শ্যামল দাসের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং তাঁর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। অভিযোগ—সঠিকভাবে পরীক্ষা দেওয়ার পরও বহু ছাত্র-ছাত্রীকে ফলাফলে অন্যায় ভাবে ব্যাক দেখানো হয়েছে। তারা জানান, আগামী পনেরো দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে—বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। পাশাপাশি কলেজের লাইব্রেরী নিয়মিত খোলা হয় না বলে দাবি করেন তারা। এই ঘটনার খবর পেয়ে ফটিকরায় থানার পুলিশ ও টিএসআর ঘটনাস্থলে ছুটে যান। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপরদিকে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগ উঠেছে শান্তিরবাজার ডিগ্রী কলেজ থেকে! একই দাবিতে সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠন বিক্ষোভ কর্মসূচি সংঘটিত করে। দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য কলেজের অধ্যক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপিও তুলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রশাসন এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট ও লিখিত আশ্বাসের ভিত্তিতে আজকের এই আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন আন্দোলনকারীরা। তবে ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যদি দ্রুত এই সমস্ত টেকনিক্যাল ও প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান না হয়, তবে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর এবং তীব্র আন্দোলনের পথ বেছে নেবে তারা।

