বাড়িরাজ্যত্রিপুরার মাটিতে পরীক্ষামূলক আঙ্গুর চাষে সাফল্য, কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত

ত্রিপুরার মাটিতে পরীক্ষামূলক আঙ্গুর চাষে সাফল্য, কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত

কৈলাসহর (ত্রিপুরা), ২১ মে (হি.স.) : এতদিন পর্যন্ত সাধারণ ধারণা ছিল, ত্রিপুরার আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণ আঙ্গুর চাষের উপযোগী নয়। তবে সেই প্রচলিত ধারণাকে কার্যত ভুল প্রমাণ করে পরীক্ষামূলকভাবে আঙ্গুর চাষে সাফল্য পেয়েছে ঊনকোটি জেলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (কেভিকে)। এই সাফল্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যের কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

জানা গেছে, জেলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র, আইসিএআর এবং পুনের ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার ফর গ্রেপস (এনআরসিজি)-এর যৌথ উদ্যোগে এবং নাবার্ডের আর্থিক সহযোগিতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। পুরো প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের উদ্যান বিজ্ঞানী ডঃ রতন দাস।

ডঃ দাস জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে প্রথম এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ত্রিপুরার জলবায়ু, তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং মাটির প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে পুনে থেকে বিভিন্ন জাতের আঙ্গুর এনে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করা হয়। গবেষণার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ন্যাশনাল ডাইরেক্টর অফ হর্টিকালচার।

প্রাথমিক পর্যায়ে একাধিক জাতের আঙ্গুরের চাষ করা হলেও তার মধ্যে একটি বিশেষ জাত অত্যন্ত ভালো ফলন দিয়েছে। শুধু ফলনের ক্ষেত্রেই নয়, আঙ্গুরের স্বাদ ও মিষ্টতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে এই উন্নত জাতের আঙ্গুর রাজ্যের কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বর্তমানে ত্রিপুরায় বাজারে যে আঙ্গুর পাওয়া যায় তার অধিকাংশই বহিঃরাজ্য থেকে আমদানি করা হয়। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের নাসিক অঞ্চল, যা “গ্রেপ সিটি” নামে পরিচিত, সেখান থেকেই দেশের বৃহত্তম পরিমাণ আঙ্গুর উৎপাদিত হয়। এছাড়াও কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা ও তামিলনাড়ুতেও ব্যাপক হারে আঙ্গুর চাষ হয়ে থাকে।

ডঃ রতন দাসের মতে, ভবিষ্যতে যদি ত্রিপুরাতেই বাণিজ্যিকভাবে উন্নতমানের আঙ্গুর উৎপাদন সম্ভব হয়, তাহলে রাজ্যের মানুষ আরও তাজা, পুষ্টিকর ও উন্নত গুণমানের ফল পাবেন। পাশাপাশি কৃষকদের জন্যও এটি একটি লাভজনক চাষে পরিণত হতে পারে।

তিনি আরও জানান, নাবার্ডের সহায়তায় ভবিষ্যতে আরও ১৮টি নতুন জাতের আঙ্গুর ত্রিপুরায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে সেগুলির চাষ করে কোন জাত রাজ্যের আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি উপযোগী এবং লাভজনক হবে তা যাচাই করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, বর্তমানে পরীক্ষাধীন আঙ্গুরের একটি বিশেষ জাতে উচ্চমাত্রার অ্যান্টি-কার্সিনোজেনিক উপাদান রয়েছে, যা ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক বলে মনে করা হয়। এই আঙ্গুর থেকে ঔষধি গুণসম্পন্ন ক্যাপসুলও তৈরি করা হয় বলে জানা গেছে।

ঊনকোটি জেলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের এই উদ্যোগ সফল হলে আগামী দিনে ত্রিপুরার কৃষিক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আসার পাশাপাশি কৃষকদের আয় বৃদ্ধির নতুন পথও খুলে যেতে পারে বলে মনে করছেন কৃষি মহলের একাংশ।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য