স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৯ মে :দীর্ঘদিন ধরে তেলিয়ামুড়া পশ্চিম হাওয়াইবাড়ি এলাকার মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। বারবার অভিযোগ, ফোন, আবেদন—কিছুতেই কাজ না হওয়ায় সোমবার সন্ধ্যায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সরাসরি পৌঁছায় তেলিয়ামুড়া বিদ্যুৎ দপ্তরের ডিভিশন–১ কার্যালয়ে। আর সেখানেই চরম পদক্ষেপ—দপ্তরের কর্মী দেবাশীষ আচার্যকে অফিস কক্ষে রেখেই বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ জনতা।
এলাকাবাসীর স্পষ্ট বক্তব্য—বিদ্যুৎ না এলে তালা খুলবে না! অভিযোগ, জরুরি নম্বরে একাধিকবার ফোন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে অফিসে ছুটে গিয়ে যে চিত্র চোখে পড়ে তা দেখে ক্ষোভ আরো বৃদ্ধি পায়। অফিসে ছিলনা কোন কর্মী! বাধ্য হয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে কর্মীদের জন্য। অবশেষে দেবাশীষ আচার্য অফিসে উপস্থিত হলেও তিনি নাকি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন—এমনটাই দাবি ক্ষুব্ধ জনতার। শুধু তাই নয়, একাধিকবার পশ্চিম হাওয়াইবাড়িতে বিদ্যুতের সমস্যার সমাধানের নাম করে সেখানে ছুটে গিয়ে, কোন ধরনের সারাই না করে বরং বড়মুড়া এলাকায় গিয়ে মদ্যপানে মত্ত হয়ে যান বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা, এমনটাও অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। এদিনের ঘটনার খবর দপ্তরের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের কাছেও পাঠানো হয়। কিন্তু অভিযোগ, তিনি কোনো গুরুত্বই দেননি।
একবারের জন্যও অফিসে এসে জনতার সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন মনে করেননি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ দপ্তরের অফিস তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে, আর ভিতরে আটকে আছেন দেবাশীষ আচার্য নামে একজন কর্মী। তবে বিদ্যুৎ নিগমের বিরুদ্ধে চারিদিকে এ ধরনের উদাসীনতার অভিযোগ উঠে আসছে। অথচ উন্নয়নের ঢাক ঢোল পিটিয়ে দপ্তরের অভিভাবক এদিক-ওদিকে ঘুরছেন। কিন্তু বাস্তবে বিদ্যুৎ পরিষেবার যে কতটা বেহাল অবস্থা সেটা বলার অপেক্ষায় রাখে না বিক্ষোভকারীদের মুখ থেকে অভিযোগ শোনার পর। এমনটাই গুঞ্জন ভোক্তাদের মুখেমুখে।

