স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৮ মে : রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হল প্রাক্তন মন্ত্রী কালিদাস দত্তের। সোমবার ধর্মনগর মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। জানা যায়, ত্রিপুরা সরকারের প্রাক্তন ভূমি রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের মন্ত্রী তথা ধর্মনগর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক কালিদাস দত্ত রবিবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিট নাগাদ প্রয়াত হন।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তাঁর প্রয়াণের খবরে ধর্মনগর নয়াপাড়া এলাকা সহ সমগ্র বিধানসভা কেন্দ্রজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ধর্মনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ও ত্রিপুরা সরকারের ভূমিরাজস্ব ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন কালিদাস দত্ত।পরিবার সূত্রে জানা যায়, বার্ধক্যজনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই থাকতেন। রবিবার বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ হঠাৎ তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করেন। এরপর দ্রুত তাঁকে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুকালে তাঁর পাশে স্ত্রী ও মেয়ে উপস্থিত ছিলেন। প্রয়াত মন্ত্রী তথা ধর্মনগরের বিধায়ক কালিদাস দত্তের মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই কংগ্রেস কর্মী-সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকার সাধারণ মানুষ নয়াপাড়া স্থিত তাঁর বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেন। সোমবার সকালে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা, কৈলাশহরের বিধায়ক বিরোজিৎ সিনহা, ধর্মনগরের বিধায়ক জহর চক্রবর্তী, সহ কংগ্রেসের সকল নেতাকর্মী সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। দুপুর একটার নাগাদ তাঁর মরদেহ প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় নোয়াপাড়া ক্লাবে এবং সেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে তারপর ধর্মনগরের কংগ্রেস ভবনে নিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করা হয়। তারপর কংগ্রেসের ফেডারেশন অফিসের তারপর উনার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল দিননাথ নারায়ণী বিদ্যামন্দির স্কুলে উনার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে সকলকর্মী, ছাত্র-ছাত্রী ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন।
তারপর নিয়ে যাওয়া হয় শ্মশানে। শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার পর ওখানে উপস্থিত ছিলেন মহকুমা শাসক দেবযানী চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার কমল দেববর্মা, বিধায়ক জহর চক্রবর্তী, কংগ্রেসের জেলা সভাপতি দ্বিগবিজয় চক্রবর্তী, চয়ন ভট্টাচার্য সহ কংগ্রেসের নেতা কর্মীরা। শ্মশানে গার্ড অফ অনার দেওয়ার পর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে।

