বাড়িজাতীয়নকশালবাদের অবসান ঘটলেও, নিশ্চিন্তে বসে থাকলে চলবে না : অমিত শাহ

নকশালবাদের অবসান ঘটলেও, নিশ্চিন্তে বসে থাকলে চলবে না : অমিত শাহ

রায়পুর, ১৮ মে (হি.স.): নকশালবাদের অবসান ঘটলেও, নিশ্চিন্তে বসে থাকলে চলবে না, জোর দিয়ে বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বস্তার অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কোনও প্রচেষ্টাই বাকি রাখবে না ভারত সরকার ও ছত্তিশগড় সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোমবার ছত্তিশগড়ের বস্তারের নেতানার গ্রামে ‘জন জন সুবিধা কেন্দ্র’ মডেলের উদ্বোধন করেছেন। এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আজ সত্যিই একটি ঐতিহাসিক দিন। আমি আপনাদের আশ্বাস দিচ্ছি, মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই, এই কেন্দ্রটি, যা বর্তমানে কেবল একটি সরকারি উদ্যোগ বলে মনে হচ্ছে, স্থানীয় জনজাতিদের উপস্থিতি ও হাসিতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। আজ আমি যে ভূমিতে দাঁড়িয়ে আছি, তা নিজেই ভারতের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি পবিত্র তীর্থস্থান। এটি শহীদ বীর গুন্ডা ধুরের জন্মস্থান এবং কর্মক্ষেত্র। আজ তাঁর থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে, নেতানার শিবির, যা ২০১৩ সাল থেকে একটি নিরাপত্তা চৌকি হিসাবে কাজ করে আসছে, আদিবাসী সম্প্রদায়ের কল্যাণে নিবেদিত একটি পরিষেবা কেন্দ্রে রূপান্তরিত হচ্ছে।”

অমিত শাহ আরও বলেন, “যখন নকশালবাদ নির্মূলের প্রস্তাব নেওয়া হয়েছিল, তখন এর উদ্দেশ্য নকশালদের নির্মূল করা ছিল না, বরং এই অঞ্চলের দরিদ্র জনজাতি মানুষের জীবনে বড় শহরগুলিতে উপলব্ধ সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া ছিল। আমি আনন্দিত যে, ‘নিয়াদ নেল্লানার’ নামক একটি প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী, উপ-মুখ্যমন্ত্রী এবং কেদার কাশ্যপ প্রতিটি গ্রামে সস্তা শস্যের দোকান খুলছেন। প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা হচ্ছে। প্রত্যেক দরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। আধার কার্ড এবং রেশন কার্ড দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “ছত্তিশগড় সরকার এবং ভারত সরকার ৩০০০ যুবক-যুবতীকে পুনর্বাসনের জন্য একসঙ্গে কাজ করছে। তাদের মধ্যে ২০০০ জন সম্পূর্ণ নিরক্ষর। এই শিক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে আরএসএস-এর স্বয়ংসেবকরা তাদের পড়তে ও লিখতে শেখাচ্ছেন।”

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “বছরের পর বছর ধরে নকশালরা এই ভুল ধারণা প্রচার করে আসছিল যে, এই অঞ্চলে কোনও উন্নয়ন না হওয়ায় তারা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল। তবে, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই অঞ্চলের উন্নয়ন হয়নি ঠিক এই কারণেই যে, তারা সেখানে অস্ত্র হাতে বসে ছিল। তাদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে এখন উন্নয়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এক বছরের মধ্যে আমরা সরকারকে সরাসরি আপনাদের গ্রামে নিয়ে আসব; কাউকে আর এতদূর রায়পুর যেতে হবে না।” অমিত শাহ বলেন, “আমি আগামীকাল একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সমগ্র দেশকে জানাতে চাই যে, বর্তমানে বস্তারে ১৯৬টি শিবির রয়েছে (মোট প্রায় ২০০টি)। আগামী দেড় বছরের মধ্যে আমরা এই শিবিরগুলির মধ্যে ৭০টিকে ‘সেবা গাঁও’-তে রূপান্তরিত করে জনজাতি কল্যাণের জন্য বিশেষ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদীও বলেছেন, নকশালবাদের অবসান ঘটলেও, আমাদের নিশ্চিন্তে বসে থাকলে চলবে না। নকশালবাদকে তখনই প্রকৃত অর্থে নির্মূল বলে গণ্য করা হবে, যখন আমরা আগামী ৫ বছরের মধ্যে এই সমস্ত গ্রামকে প্রাণবন্ত ও উদ্যমী জনজাতি সম্প্রদায়ে রূপান্তরিত করে এর দ্বারা সৃষ্ট ক্ষতির সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ করতে পারব। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, দুগ্ধ ক্ষেত্র এবং বনজ পণ্য একযোগে কাজ করে এখানে কর্মসংস্থানের এক নতুন যুগের সূচনা করবে। যেখানে দেশের বাকি অংশে স্বাধীনতা এসেছে প্রায় ৭৭-৭৮ বছর আগে, সেখানে আমাদের বস্তার অঞ্চলের জন্য স্বাধীনতার প্রকৃত ভোর উদিত হয় ৩১ মার্চ, ২০২৬-এর পরেই।” তিনি আরও বলেন, “এই বিলম্বের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ আমরা খুব দ্রুত করব; উপরন্তু, ভারত সরকার এবং ছত্তিশগড় সরকার এই অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কোনও প্রচেষ্টাই বাকি রাখবে না।”

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য