বাড়িরাজ্যমামলা না নেওয়ায় রাজ্য সরকারের কাছে জবাব চাইলো উচ্চ আদালত

মামলা না নেওয়ায় রাজ্য সরকারের কাছে জবাব চাইলো উচ্চ আদালত

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৭ মে : থানা মামলা না নেওয়ার অভিযোগ বিভিন্ন সময় উঠে আসছে আক্রান্ত, নির্যাতিত অসহায় মানুষের মুখ থেকে। কিন্তু এটা যে কত বড় গুরুতর অপরাধ সেটা আন্দাজ করতে পারে না রাষ্ট্রপতি কালার্স প্রাপ্ত একাংশ পুলিশ আধিকারিক। রাষ্ট্র বাদীর হয়ে কাজ করতে গিয়ে এই ধরনের অপরাধ করে চলেছেন একটা বড় অংশের পুলিশকর্মী। যার পরিনামে এবার রাজ্য সরকারকে জবাবদিহি করছে উচ্চ আদালত।

 এবার মামলা না নিয়ে আইন বিরোধী কার্যকলাপে জড়িয়ে গেল পূর্ব আগরতলা থানার পুলিশ। ১২ এপ্রিল জবাব চাইলো উচ্চ আদালত। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মন। তিনি জানান গত ৪ এপ্রিল বনমালীপুর এলাকার রত্না রায়ের বাড়িতে প্রবেশ করে দুষ্কৃতিকারীরা রত্না রায়ের ছেলে সৈকত রায়কে মারধর করেছে। ছেলেকে বাঁচাতে আসলে মা বাবাও দুষ্কৃতিকারীদের হাতে আক্রান্ত হয়। তারপর জোর করে সৈকতকে পূর্ব আগরতলা থানায় নিয়ে আসে দুর্বৃত্তরা। থানায় এনে সৈকতকে আবারও মারধর করে এবং তার গোপনাঙ্গে আঘাত করে। পরবর্তী সময় ৬ এপ্রিল পূর্ব আগরতলা মহিলা থানায় মামলা করতে যান রত্না রায়।

 তখন মামলা নেয় নি পুলিশ। তারপর বিষয়টি রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক এবং জেলা পুলিশ সুপারকে জানিয়ে মামলা গ্রহণ করাতে পারেনি রত্না রায়ের পরিবার। পরবর্তী সময় ত্রিপুরা হাইকোর্টে একটি রিট মামলা করেন রত্না রায়। বুধবার উচ্চ আদালতের বিচারপতি এম এস রামচন্দ্র রাও এবং বিচারপতি বিশ্বজিৎ পালিতের ডিভিশন ব্যাঞ্চে মামলাটি উঠে। আদালতের বক্তব্য অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও মামলা না নিয়ে পুলিশ আইন বিরোধী কাজ করেছে। উচ্চ আদালত ১২ এপ্রিল মামলার পুনরায় তারিখ দিয়েছে। রাজ্য সরকারকে জবাবি হলফনামা দিতে বলেছে।

পাশাপাশি উচ্চ আদালত পশ্চিম ত্রিপুরার মুখ্য বিচার বিভাগীয় বিচারপতিকে নির্দেশ দিয়েছেন অবিলম্বে পূর্ব আগরতলা থানায় গিয়ে ৪ এপ্রিল থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে হেফাজতে রাখার জন্য। সে অনুযায়ী উচ্চ আদালতের নির্দেশে বুধবার থানার সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড সংগ্রহ করে হেফাজতে রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, রত্না রায়ের বাড়িতে নির্মাণ কাজ চলছে। টাস্কফোর্স দিয়ে এই কাজ বন্ধ করে রেখেছিলেন আগরতলা পুর নিগমের কর্মী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। দাবি করেছিলেন দুই লক্ষ টাকা দিতে। এই টাকা না দেওয়ায় রত্না দেবীর ছেলে সৈকতকে মারধর করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য