সাব্রুম (ত্রিপুরা), ২৭ এপ্রিল (হি.স.) : মুহূর্তের ঝড়, আর তাতেই ভেঙে গেল বহু বছরের পরিশ্রমে গড়া স্বপ্ন। দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম মহকুমায় রবিবার রাতে আছড়ে পড়া প্রবল ঝড় যেন সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে গেল। দমকা হাওয়া আর ঝড়বৃষ্টির তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বটতলি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার পানচাষীরা।
চোখের সামনে ভেঙে পড়েছে পানের বরজ—যে বরজই ছিল তাঁদের জীবনের একমাত্র ভরসা। আচমকা নেমে আসা ঝড়ের তীব্রতায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই মাটিতে মিশে যায় বিস্তীর্ণ চাষের জমি। বহু কষ্ট, পরিশ্রম আর আশা নিয়ে গড়ে তোলা বরজগুলি এখন শুধুই ধ্বংসস্তূপ—চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ভাঙা বাঁশ, ছেঁড়া জাল আর নষ্ট হয়ে যাওয়া পানগাছ।
ক্ষতিগ্রস্ত চাষী অর্জুন দে চোখে জল নিয়ে বলেন, “ঝড়ের কয়েক মিনিটেই সব শেষ হয়ে গেল। এতদিনের পরিশ্রম, সব মাটি হয়ে গেল। এখন কীভাবে সংসার চালাব, কিছুই বুঝতে পারছি না।” তাঁর কণ্ঠে ছিল অসহায়তা, ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ।
একইভাবে ভেঙে পড়েছেন চাষী দিলীপ দাসও। তিনি বলেন, “এই বরজটাই ছিল আমার সবকিছু। আর কোনও উপার্জনের পথ নেই। এখন তো পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে গেলাম।” কথার মাঝেই স্পষ্ট হয়ে উঠছিল তাঁর অসহায় যন্ত্রণা।
এই আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুধু ফসল নষ্ট করেনি, কেড়ে নিয়েছে বহু পরিবারের জীবিকার নিশ্চয়তা। ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা এখন সরকারের দিকে তাকিয়ে আছেন। তাঁদের আবেদন, দ্রুত আর্থিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের একটাই আশা—সরকার দ্রুত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে, আর সেই ভরসাতেই হয়তো আবার নতুন করে বাঁচার লড়াই শুরু করতে পারবেন তাঁরা।

