স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২১ এপ্রিল :এডিসির ফলাফল ঘোষণার পর থেকে মার খাচ্ছে শাসক দলের কর্মী, আত্মগোপন করে বাঁচতে হচ্ছে কর্মীদের। লজ্জাজনক ঘটনা দেশের মধ্যে। দেশের কোন রাজ্যে নির্বাচনের পর কখনো কোন শাসক দল আক্রান্তের ঘটনা সামনে আসেনি। কিন্তু ডবল ইঞ্জিন সরকারের জামানায় ত্রিপুরার শাসকদল বিজেপি সেই লজ্জা জনক ঘটনার সাক্ষী হয়ে দেখাল। তাও শরিক বন্ধু তিপরা মথার হাতে।
যা রীতিমতো পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের আগে বড়সড় মাইলেজ বিরোধী শিবিরের জন্য। এবার দুষ্কৃতিকারীরা আগুন লাগিয়ে দিল বিজেপি কার্যালয়ে। ঘটনা সোমবার রাতে সাব্রুম মহকুমার মনু বনকুল ভারতীয় জনতা পার্টির কার্যালয়ে। জানা যায়, মনুবনকুলের বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির শক্তিকেন্দ্র ও বিজেপি কার্যালয় সহ বেশ কিছু কর্মীদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল তিপ্রা মথা আশ্রিত দুস্কৃতিরা বলে অভিযোগ।
পরিস্থিতির চাপে একাধিক বিজেপি কর্মী-সমর্থক বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন একাধিক জায়গায় মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান ৩৯ মনু বিধানসভা কেন্দ্রে বিধায়ক মাইলাফ্রু মগ ৪০ সাব্রুম প্রাক্তন বিধায়ক শংকর রায়, মন্ডল সভাপতি সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। প্রথমে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বাড়ি সহ ক্ষতিগ্রস্ত দলীয় কার্যালয়টি পরিদর্শন করেন। তারা বলেন গত 17 এপ্রিল ভোটের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর থেকে এ ধরনের ঘটনা সারা রাজ্যে সংঘটিত হচ্ছে। তিপরা মথার সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মন বলছেন, থানসা, কিন্তু থানসার এই নমুনা অত্যন্ত নিন্দা জনক। তবে এবার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে বলে সরাসরি সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরায় জানিয়ে দিলেন। পাল্টা প্রতিরোধ করে তোলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরায় দাবি করলেন মন্ডল সভাপতি সহ স্থানীয় বিজেপি নেতারা।
কিন্তু হাস্যকর ঘটনা হলো সবকিছু সর্বস্বান্ত করে ফেলার পর কি এই ধৈর্যের বাঁধ ভাঙবে? তবে আতঙ্কিত বিজেপির নেতারা বলেন এখন এই ঘটনাগুলির ইতি টানা প্রয়োজন। অভিযোগগুলি প্রদেশ নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। তাদের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় আছেন তারা। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের পর বাইক বাহিনী সৃষ্টি হয়েছিল রাজ্যে। বাইক বাহিনীর আতঙ্ক তাড়া করেছিল রাজ্যের তৎকালীন প্রধান বিরোধীদল বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসকে। দিকে দিকে আক্রান্তের অভিযোগ। সেই বাইক বাহিনী পর্যন্ত এবার দিকনির্দেশনা হারিয়েছে একমাত্র শাসক দলের সাংগঠনিক দুর্বলতায়। আর সেই সুযোগ নিয়েছে মথা। রক্ষার কবজ নেই বিজেপি-র কর্মীদের! কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল দলের যখন জরুরি অবস্থা চলছে পাহাড়ের আনাচে-কানাচে তখন নেতা-মন্ত্রীরা ভিআইপি গাড়ি দিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে একই সারিতে বসছেন

