বাড়িরাজ্যদৃষ্টিহীন কর্মীকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে আউটসোর্সিং কম্পানি এবং দপ্তর, মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ...

দৃষ্টিহীন কর্মীকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে আউটসোর্সিং কম্পানি এবং দপ্তর, মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সহযোগিতা চাইলেন

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৬ এপ্রিল : কর্ণ ব্যানার্জি একজন দৃষ্টিহীন ব্যক্তি। পরিবার-পরিজন কেউ নেই। পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের সহযোগিতা চাইলে শুনতে হয় হুমকি-ধমকি। দীর্ঘ তিন মাস ধরে তিনি বেতন বঞ্চনার শিকার। জানা যায়, গত এক বছর আগে সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের অধীনে থাকা একটি সংস্থার মাধ্যমে নরসিংগড় স্থিত ব্লাইন্ড স্কুলে পি আই -এর চাকরি পান। চাকরি পাওয়ার পর থেকে প্রতিমাসে সাড়ে নয় হাজার টাকা দিয়ে কিছুদিন ভালোভাবেই জীবন যাপন করছিলেন।

 তিনি কিন্তু গত দু-তিন মাস ধরে সংস্থার তরফ থেকে তাকে কোন বেতন দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। বারবার দপ্তরের অফিসে আসছেন, দপ্তর থেকে অধিকর্তা জানিয়ে দেয় বেতনের ফান্ড তারা দিয়ে রেখেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থার ফান্ডে। পরে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মী তমাল চক্রবর্তী ফোন করে কর্ণ ব্যানার্জিকে বলেন, “অধিকর্তার কাছে গিয়ে কি লাভ হয়েছে? তোমার বেতন অধিকর্তা দেবে, নাকি আমরা দেব? আমি দেখে দেব তুমি কিভাবে বেতন পাও! তুমি ছয় মাসেও বেতন পাবে না।” কিন্তু তার সাথে যারা চাকরি করেন তাদেরকেও চলতি মাসের গত ১৩ তারিখ সংস্থার তরফ থেকে বেতন দিয়ে দিয়েছে। বাধ্য হয়ে তিনি আজও সমাজকল্যাণ সমাজ শিক্ষা দপ্তরের অফিসে আবার আসেন এবং আধিকারিকদের সাথে কথা বলেন। তারপর তিনি সমস্যাগুলি সংবাদমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেন। তিনি যে সংস্থার অধীনে কাজ করেন এই সংস্থার নাম হল এ আর কে ইনফরমেটিক্স প্রাইভেট লিমিটেড।

 তিনি সমাজকল্যাণ সমাজ শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রীর কাছেও আবেদন জানিয়েছে। তাকে যেন সহযোগিতা করেন। কারণ বিনা বেতনে তিনি অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। দুবেলা ভাত খাওয়ার মত টাকা নেই। তাই বিষয়টি যেন তিনি দেখেন। উল্লেখ্য, ব্যাঙের ছাতার মত রাজ্যের বহু সংস্থা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আউটসোর্সিং এর নাম করে বেকার যুবক-যুবতীদের সঙ্গে এভাবে ছিনিমিনি খেলে চলেছে। তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, নজরদারির অভাব রয়েছে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের। নিরুপায় হয়ে দপ্তরের দারস্থ হলেও কাজের কাজ কিছুই হয় না। জনগণের পয়সা দিয়ে উন্নয়নের নাম করে নিজেদের পকেট ভরছে। এভাবেই আদ্রশ্রাদ্ধ করছে সরকারি অর্থ। এমনটাই অভিযোগ উঠে বিভিন্ন দপ্তরের কান পাতলে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে নিয়োগ হওয়া কর্মীদের কাছ থেকে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য