স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৩ এপ্রিল : জমকালো অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ বনদপ্তরের আধিকারিকরা এবং দপ্তরের অভিভাবক। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে মৃত্যু হল দুই হাতির। কিন্তু প্রতিবছর জাঁকজমক ভাবে ঘটা করে রাজ্যে অনুষ্ঠিত হয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে সচেতনতা মূলক কর্মসূচি। অথচ রাজ্যের বনদপ্তর বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য কতটা কাজ করছে সেটা আরো একবার প্রমাণ হলো! রাজ্যে প্রথমবারের মতো যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটা হল তিন দিনে দুটি হাতির মৃত্যু হয়েছে। এমন ঘটনা রাজ্যের ইতিহাসে হয়তো প্রথমবার ঘটেছে। প্রথম ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে গত আট এপ্রিল পেচারথলের আন্দারছড়া এলাকায়। জঙ্গলের মধ্যে ১৪ বছরের হাতে দিন মৃত্যু হয়।
দ্বিতীয় ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে ১০ এপ্রিল ঠান্ডা ছড়া এলাকায়। ৪৫ বছরে হাতিটি জঙ্গলের মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তার সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে চার বছরের হাতি শাবক। কি কারনে হাতি দুটির মৃত্যু হয়েছে সেটা নিয়ে এখন পর্যন্ত রাজ্যের বনদপ্তর মুখ খুলতে চাইছে না। তবে স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে দিন দিন বনাঞ্চলে সংখ্যা কমে যাচ্ছে। পাল্লা দিয়ে কমছে বনাঞ্চলের খাবার। যার ফলে মৃত্যু হতে পারে দুটি হাতির। নাহলে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি এলাকায়। এছাড়াও হাতে দুটিকে এলাকার মানুষ কখনো অসুস্থ থাকতেও দেখে নি। তাহলে কি কারনে হাতি দুটির মৃত্যু হবে সেটা প্রশ্ন অনেকের। কেউ কেউ সন্দেহ করছে চোরাশিকারিদের।
অনেকের বক্তব্য হাতি দুটি মৃত্যুর পর দাঁতের সন্ধান পাওয়া যায়নি। হাতির সংখ্যা দিন দিন রাজ্যে হ্রাস পাচ্ছে সেটা বলার অপেক্ষায় রাখে না। রাজ্য সরকার এবং প্রশাসনের চরম গাফিলতি এবং উদাসীনতার কারণে হাতি প্রবন এলাকাগুলি যেন খালি হয়ে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয় ময়না তদন্তের রিপোর্ট সামনে আনে কিনা সংশ্লিষ্ট দপ্তর। “গাছ লাগাও প্রাণ বাঁচাও, একটি গাছ একটি প্রাণ” -এগুলি এখন মানুষের কাছে ডায়লগ বলে মনে হয়। পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীর দাবি হাতি দুটির কিভাবে মৃত্যু হয়েছে সেটা যেন উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত হয়। তবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য সঠিকভাবে পরিচর্যার প্রয়োজন রয়েছে। সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না এবং দপ্তরের অভিভাবককেও এ বিষয়ে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

