স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১২ এপ্রিল : কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া রবিবার সকাল থেকে রাজ্যের পাহাড়ে শুরু হয়েছে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া। উৎসবের মেজাজে হচ্ছে টিটিএএডিসি-র ভোট গ্রহণ। ৪ নং করমছাড়া কেন্দ্রের ৩ নং বুথে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন মন্ত্রী সান্তনা চাকমা। এদিন সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। পরে তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করে বলেন, গ্রামের পরিবেশ সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। মন্ত্রী হলেও নিজেকে সাধারণ নাগরিক হিসেবে মনে করেন। তাই অন্যান্য ভোটারদের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে তাড়াহুড়ো না করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন বলে জানান মন্ত্রী সান্তনা চাকমা।
তিনি বলেন, অত্যন্ত আশাবাদী ভোটাররা সবকা সাথ সবকা বিকাশের দিশায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। এ নির্বাচনে এডিসি-তে বিজেপি নেতৃত্বে সরকার গড়বেই। এদিন সকালবেলা সোনাই বাজার ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে গিয়ে ভোট দিলেন মথার হেভিওয়েট প্রার্থী রবীন্দ্র দেববর্মা। তিনি ১৩ সিমনা তমাকারি আসনের তিপ্রা মথার প্রার্থী। নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে বলেন, ১৯৮৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তিনি ৯ বার প্রার্থী হয়েছেন। রবিবার নিজের ভোট নিজের দিতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। এবারকার নির্বাচন আলাদা। জয় নিয়ে তিনি ১০০ শতাংশের বেশি আশাবাদী। কোন রাজনৈতিক দলের ভোট এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়নি।
মন্ত্রী রতন লাল নাথের উত্থাপন করা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ পর্ব চলছে বলে দাবী করেন তিনি। তিনি আরো দাবি করেন সকাল বেলা কিছু ভোটকেন্দ্রে সমস্যার সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল কেউ কেউ। কিন্তু তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে দেওয়া হয়। ১৪ মান্দাই পুলিনপুর আসনের অভিরাম স্কুলে ভোট দিলেন তিপরা মথার সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ। ভোটারদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিলেন তিনি। এদিন ভোট দিতে গিয়ে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ বলেন, যারা ভাবছে রাজনৈতিক দলগুলি মারপিট করছে সেটা ভুল, তিপ্রাসা – তিপ্রাসাকে আক্রমণ করছে। যেদিন তিপ্রাসা – তিপ্রাসাকে আক্রমণ করবে না, সেদিন থানসা হবে। পাশাপাশি তিনি বলেন কেউ যদি তার মা এবং বাবাকে নিয়ে কথা বলে তাহলে এর জবাব দিতে জানে। তবে নির্বাচনে কোনোভাবেই মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করা হয়নি বলে জানান তিনি। সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তিনি গুরুতর অভিযোগ করে বলেন সিপিআইএমের পুলিং এজেন্টকে বাধা দিয়েছে তিপরা মথা। তিনি বলেন একই ঘটনা হয়েছে শান্তিরবাজার রামরাইবাড়ি এলাকায়। কিন্তু ভোটকেন্দ্র ছাড়েনি ভোটাররা। পরবর্তী সময়ে আধা সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। চাম্পাহাওর- কুলাই নির্বাচনি কেন্দ্রে তুলাশিখর রাজনগর ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে ভোট দিলেন রাজ্যের বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা।
তিনি ভোট দিয়ে অত্যন্ত খুশি। সমস্ত ভোটারদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন এই কেন্দ্রে তিনিই প্রথম ভোট দিয়েছেন। ১১ মহারানী তেলিয়ামুড়া নির্বাচনী কেন্দ্রের বলরাম দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে ভোট দিলেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির জয় নিয়ে আশাবাদী। কিন্তু তিনি পুলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। ১৫ জিরানিয়া আসনের তিপরা মথা সমর্থিত প্রার্থী জগদীশ দেববর্মা ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সংবাদ মাধ্যমকে এক সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ হয়। কোথাও ভোটাররা বাধা প্রাপ্ত হওয়ার অভিযোগ নেই। রবিবার সকাল থেকে রাজ্যের পাহাড়ে শুরু হয়েছে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া। উৎসবের মেজাজে হচ্ছে টিটিএএডিসি-র ভোট গ্রহণ। ১৫ জিরানিয়া আসনের দীনবন্ধু পাড়া জে বি স্কুলে ভোট দিলেন প্রদেশ বিজেপি -র সাধারণ সম্পাদক তথা বিজেপি দামছড়া-কচুছড়া প্রার্থী বিপিন দেববর্মা। তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করে বলেন, এডিসিতে যে সরকার পরিবর্তন হতে চলেছে তাকে রাজ্যের মানুষ স্বাগত জানাবে। বিশেষ করে দুর্নীতি যুক্ত সরকারকে বিসর্জন দিতে প্রস্তুত হয়ে আছে। তাই আজকের পবিত্র দিনে উৎসবের মেজাজে মানুষ ভোটদানে অংশ নিয়েছে। পাশাপাশি ভোটাররা মনে করছে এবারকার নির্বাচন কোন আবেগ দিয়ে নয়, যারা প্রকৃতভাবে জনজাতিদের উন্নয়ন করবে তাদের জয়ের প্রয়োজন। ২০ কিল্লা বাগমা আসনের তিপরা মথা দলের প্রার্থী তথা সিইএম পূর্ণচন্দ্র জমাতিয়া মৈথুলুং স্কুলে নিজের ভোটাধিকার প্রদান করেন। তিনি বলেন, এডিসি এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য গত পাঁচ বছর অনেক চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি পরিকাঠামগত উন্নয়নের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী দিন খুব দ্রুত এ কাজগুলি সম্পন্ন হবে বলে আশা ব্যক্ত করুন তিনি। ভোট দিলেন ১৫ জিরানিয়া সিপিআইএম প্রার্থী তথা প্রাক্তন মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য রাধা চরণ দেববর্মা তিনি অভিরাম সিনিয়র বেসিক স্কুলে তার ভোট প্রদান করেন। সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন আসনে মানুষের মধ্যে ভয় ভীতি কাজ করছে। কিন্তু মানুষ ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। সুতরাং, মানুষ যা সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই মাথা পেতে গ্রহণ করা হবে।

