বাড়িরাজ্যসুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, অবাধ নির্বাচন নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় সংশয় প্রকাশ করল...

সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, অবাধ নির্বাচন নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় সংশয় প্রকাশ করল বামফ্রন্ট

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৩ এপ্রিল : আসন্ন উপ নির্বাচন এবং এডিসি নির্বাচন নিয়ে যথেষ্ট সংশয় প্রকাশ করল রাজ্যের অন্যতম বিরোধী দল বামফ্রন্ট। শুক্রবার সন্ধ্যায় সিপিআইএম রাজ্য কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে বামফ্রন্টের আহ্বায়ক মানিক দে বলেন, গত এক এপ্রিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন থেকে এক সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়।

এই বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সহমত পোষণ করতে পারল না রাজ্যের বিরোধী দল বামফ্রন্ট। একমাত্র শাসক দল বিজেপি সহমত পোষণ করেছে কমিশনের গ্রহণ করা একাধিক সিদ্ধান্তে। তিনি বলেন ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর আর কোন নির্বাচন হয়নি। অথচ তারপরেও মধ্যপ্রদেশ থেকে ইভিএম মেশিন রাজ্যে আনা হয়েছে। যা নিয়ে যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে সকলের মনে। কারণ জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী নির্বাচনী প্রচারে বলেছেন ভোট যেখানেই দেওয়া হোক না কেন ভোট পড়বে পদ্মফুলে। নির্বাচন দপ্তর মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর কোন ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানা নেই এখন পর্যন্ত। অপরদিকে রাজ্যের নির্বাচন কমিশন ভিভিপ্যাট সহ ইভিএম মেশিন ব্যবহার করতে চাইছে না। ভিভিপ্যাট মেশিন বাদ দিয়ে ইভিএম মেশিন দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করতে চাইছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে এটা সম্ভব নয়। যা ভোটারদের মনে অত্যন্ত সংশয় থাকবে বলে দাবি করেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আরও দাবি করা হয়েছে, এডিসি নির্বাচন এবং উপনির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী যেন ব্যবহার করা হয়। কারণ কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর ভোটারদের আস্থা বেশি থাকে।

 বিগত দিনে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের সামনে বহু ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বলে ভোটারদের আস্থা বেশি কেন্দ্রীয়বাহিনীর উপর। রাজ্য নির্বাচন কমিশন সরাসরি জানিয়েছে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী আসবে না আসন্ন নির্বাচনে। কমিশনের এমন ব্যাখ্যার সঙ্গে বামফ্রন্ট একমত হতে পারেনি। কারণ দেশে এত পরিমাণে সেনা থাকার পরেও কেন রাজ্যে তারা আসবে না? এর পেছনে একটা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করছে বলে দাবি করেন মানিক দে। তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে পুলিং এজেন্ট -এর নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।

যাতে পুলিং এজেন্ট দের নিরাপত্তা দিয়ে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয় এবং ভোটকেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরে আসতে দেয়। কিন্তু এই বিষয় নিয়ে পরিষ্কার কোন কিছুই বলেননি নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারে বাধা নিয়েও বামফ্রন্ট নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এছাড়া আসন্ন নির্বাচনে শাসক দল বিজেপি এবং তিপরা মথা দাদন বিলি করছে। অর্থের বিনিময়ে ভোটারদের প্রভাবিত করছে। তাই বিষয়টি নজরে আনা হয়েছে নির্বাচন দপ্তরের। এছাড়া রাজ্যে প্রত্যেকটি নাকা পয়েন্টে কড়া নজরদারি চালানোর জন্য দাবী করা হয়েছে বলে জানান মানিক দে। আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বামফ্রন্টের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য