স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৮ মার্চ : বামেদের বিধানসভা অভিযান শুরুর আগেই ঘেরাও করে ব্যর্থতার পরিচয় দিল সদর মহকুমা পুলিশ প্রশাসন। ১২ দফা দাবিতে বুধবার সকাল সাড়ে এগারোটার নাগাদ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সামনে থেকে শুরু হয় সারা ভারত কৃষক সভা, উপজাতি গণমুক্তি পরিষদ ও ত্রিপুরা ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের বিধানসভা অভিযান কর্মসূচি। কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবপ্রসাদ রায়ের নেতৃত্বে লোক দেখানো শতাধিক পুলিশ এবং টিএসআর কর্মী দিয়ে রণ সাজে সজ্জিত ছিল।
এবং মিছিলের মুখে ব্যারিকেড দিয়ে রাখে। কিন্তু সদর মহকুমা পুলিশ প্রশাসনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে মিছিল ওরিয়েন্ট চৌমুহনি দিকে মুখ করে শুরু হয়ে যায়। পুলিশ বামপন্থী কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সদর মহকুমা প্রশাসনের নেতৃত্বে থাকা পুলিশ এবং টিএসআর কর্মীরা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এদিন। পুলিশের বাধা এড়িয়ে মিছিল এগিয়ে যায় বিধানসভার দিকে। পরে মিছিলটি রাজধানীর উত্তর গেট এলাকায় যাওয়ার পর আটকে ফেলতে সক্ষম হয় পুলিশ প্রশাসন। মিছিলে অংশগ্রহণ করেন সারা ভারত কৃষক সভার সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষ্ণান, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জীতেন্দ্র চৌধুরি, সারা ভারত কৃষক সভার রাজ্য সম্পাদক পবিত্র কর, উপজাতি গণমুক্তি পরিষদের সম্পাদক রাধাচরণ দেববর্মা, ত্রিপুরা ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের সম্পাদক শ্যামল দে সহ অন্যান্যরা। পবিত্র কর সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান মুখ্যমন্ত্রী ও মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের নিকট চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারপরও তাদের মিছিলকে আটকে দেওয়া হয়েছে। ওনার পোশাক ছিঁড়ে ফেলে হয়েছে।
ঘড়ি ও চশমা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। তার বিচার হবে। বিজেপির পতন শুরু হয়েছে। মানুষ জেগেছে। এদিকে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষাণ সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ডাবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে মহিলা, কৃষক, শ্রমিক সহ সবার অবস্থা বেহাল। বিশেষ করে কৃষকদের ন্যায্য পাওনা মিলছে না। আরো উদ্বেগজনক বিষয় হলো মন রেগা আইন বাতিল করে জি রাম জি আইন নিয়ে এসেছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য চারটি শ্রমকোড এনেছে। অপরদিকে নয়া বিদ্যুৎ আইন নিয়ে এসে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করছে। তাই এর বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তিনি। পাশাপাশি সরকারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। সরকারি কর্মচারীদের সপ্তম বেতন কমিশন এবং শূন্য পদপূরণের প্রতিশ্রুতি গত আট বছরে পালন করেনি বলে দাবি করেন তিনি। এদিন মিছিলে বামপন্থী সংগঠনগুলির কর্মী সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল বেশ লক্ষণীয়।

