বাড়িরাজ্যজিবি'তে রোগী কল্যাণ শিকেয় ভুয়ো বিলে অর্থ লুটের প্রতিযোগিতা।

জিবি’তে রোগী কল্যাণ শিকেয় ভুয়ো বিলে অর্থ লুটের প্রতিযোগিতা।

স্যন্দন ডিজিটাল আগরতলা ২৭ ফেব্রুয়ারি :-গত কয়েক বছরে জিবি হাসপাতালের পরিষেবার মানের উন্নত হয়েছে। পাঁচটি কিডনির সফল প্রতিস্থাপন হয়েছে। আগামী দিনে লিভার প্রতিস্থাপন সহ নানা জটিল রোগের চিকিৎসা পরিষেবা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু একাংশ কুচক্রীদের কারণে জিবি হাসপাতালে মানুষ সঠিক পরিষেবা পাচ্ছে কি না এখন সেটাই প্রশ্ন। প্রতিটি হাসপাতালে রয়েছে রোগীদের কল্যাণের জন্য রোগী কল্যাণ সমিতি। কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নেই,

রোগীদের কল্যাণের নামে নিজেদের কল্যাণেই ব্যস্ত তথাকথিত রাষ্ট্রবাদী কিছু নেতা। যেমন জিবি হাসপাতালে রোগীদের কল্যাণ কতটা হচ্ছে এখন সেটাই প্রশ্ন। উল্টো ভুয়ো বিলে চলছে লুট। কান পাতলেই শোনা যায় এই ঘটনার খবর। একসময় পাঁচ কোটি টাকার বিনিময়ে জিবি হাসপাতালে বহিরাজ্যের এক বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাকে কাজের বরাত পাইয়ে দেওয়া হয়। জানা গেছে, এই সংস্থা বহু ভুয়ো বিল করে সরকারি অর্থ লুটে নিচ্ছে আর লুটের ভাগ পাচ্ছেন কিছু রাষ্ট্রবাদী নেত্রী। বহিরাজ্যের এস আই

এস নামক এই বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার অধীনে জিবি হাসপাতালে ২৫৬ থেকে ৩০০ জন কর্মী কাজ করছে বলে কাগজে পত্রে দেখানো হয়েছে। এই ৩০০ জনের নামেই টাকা বরাদ্দ হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে কতজন কর্মী তিন শিফটে জিবি হাসপাতালে নিরাপত্তা প্রদানে কাজ করছে সে অঙ্কটা শুনলে অনেকেই আঁতকে উঠবেন। জানা গেছে, সেই সংখ্যাটা ১৫০ থেকে ১৭০ জন। অর্থাৎ তিন শিফটে জিবি হাসপাতালে ১৫০ থেকে ১৭০ জন বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষী কাজ করছেন। কিন্তু প্রতিমাসে

বিল হচ্ছে ৩০০ জনের। তার মানে প্রতিদিন ১৩০ জনের নামে ভুয়ো বিল হচ্ছে। প্রতিদিন ১৩০ জন পিছু ৬০ টাকা করে বেতন ধরলে প্রতিদিন রোজগার হচ্ছে সাত হাজার ৮০০ টাকা। প্রতিমাসে দুই লক্ষ ৩৪ হাজার টাকার মতো ভুয়ো বিল করে লুটে নিচ্ছেন এইসব রাষ্ট্রবাদী নেত্রী ও কিছু কার্যকর্তা। তার মানে রোগীদের কল্যাণের নামে নিজেদের কল্যাণ করা। বহিরাজ্যের এই বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দৌলতে রাষ্ট্রবাদীদের কামাই প্রতিমাসে আর বহিরাজ্যের সংস্থাকে সম্প্রতি আগরতলার সায়েন্স সেন্টারেও কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। তার মানে সায়েন্স সেন্টারে নিরাপত্তার দায়িত্বেও এস আই এস। আবার হাঁপানিয়া ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও ভুয়ো বিলে টাকা লুট চলছে। সেখানেও তিনশতাধিক বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মী নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে বলে জানিয়ে প্রতি মাসে টাকা লুটে নিচ্ছে মনিষ-কাজলের মতো যুব মোর্চার কিছু নেতা। প্রতিমাসে ১০০ জনের বেশি নিরাপত্তা কর্মীর নামে ভুয়ো বিল হচ্ছে। এভাবেই সরকারি অর্থের আদ্যশ্রাদ্ধ চলছে রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতালে। ভাঙাচোরা শয্যাগুলো সংস্কারের জন্য সম্প্রতি অর্থ বরাদ্দ করা হয়। প্রায় তিন হাজারের মতো শয্যা পরে থেকে নষ্ট হচ্ছে। স্টোরে জমা করে রাখা হয়েছিল সেগুলো। হাসপাতালের শয্যা সংস্কারেও অর্থ লুট। এতে অবশ্য জিবি হাসপাতাল চত্বরের বেশ কয়েকটি ওষুধের দোকান জড়িয়ে আছে বলে খবর। জিবি হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি গত বছরখানেক ধরে সাইনবোর্ড সর্বস্ব হয়ে পড়েছে। রোগীদের কল্যাণ করার দায়িত্ব যাকে দেওয়া হয়েছে তার অনভিজ্ঞতা এবং অজ্ঞতার কারণেই রোগীদের কল্যাণ ঠিকভাবে হচ্ছে না বলে অভিযোগ। ফলে বিভিন্ন সময়ে একাংশ চিকিৎসক

ও স্বাস্থ্য কর্মীদের খামখেয়ালিপনা এবং ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। জিবি হাসপাতালে পরিষেবা নিয়ে যাতে কোন ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি না হয় তার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার এবং স্বাস্থ্য দপ্তর। পাশাপাশি চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদেরও যাতে কোন গাফিলতি না থাকে সেদিকেও নজরদারি রাখার জন্য অনেক আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। প্রসঙ্গত বলা যায় জিবি হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন সহ উন্নত মানের চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানেও সচেষ্ট সরকার। অস্বীকার করার উপায় নেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডাক্তার মানিক সাহার চেষ্টায় জিবি হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন হয়েছে তেমনি রেফারও কমেছে। যদিও একাংশ সাধারণ মানুষের বক্তব্য হচ্ছে রোগীকে আটকে রেখে নিজেদের কৃতিত্ব জাহির করার চেষ্টা হচ্ছে। যদিও মাঝেমধ্যে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু যে হচ্ছে না তা কিন্তু নয়। কিছু চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের যে গাফিলতি রয়েছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। একাংশ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে এখন চলছে সরকারি অর্থের লুট বাণিজ্য। তদন্ত করলে কেঁচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে পড়বে বলেই মনে করছেন জিবি হাসপাতালের একাংশ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য