Monday, December 5, 2022
বাড়িরাজ্যসিএনজি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পেতেই ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলল শ্রমিক সংগঠন

সিএনজি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পেতেই ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলল শ্রমিক সংগঠন

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২ অক্টোবর :  সিএনজি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পেতেই দিকে দিকে আন্দোলন। মুখ্যমন্ত্রী বাড়ি ঘেরাও করে বের হয়নি সমাধানের সূত্র। ব্যাপক ক্ষোভ শ্রমিকদের মধ্যে। কারণ শারদ উৎসব নিরানন্দে পরিণত হলো শ্রমিকদের। ষষ্ঠীর রাতে এক লাফে সিএনজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হয় ৯ টাকা ৩০ পয়সা।

 বর্তমান সিএনজি গ্যাসের মূল্য হয়েছে ৭৭ টাকা ৩০ পয়সা। এতে সপ্তমীর সকাল থেকে শ্রমিক সংগঠন বি এম এস, বামেদের সংগঠন এবং অটো চালকরা দিকে দিকে আন্দোলন গড়ে তুলে। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে, বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে সামনে, বিমানবন্দরের সামনে এবং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। শ্রমিকদের বক্তব্য সরকার তাদের পেটে লাথি মেরে এই উৎসব নিরানন্দ করে দিয়েছে।

এদিন প্রথমে আন্দোলন গড়ে ওঠে বাধারঘাট সি এন জি গ্যাস ফিলিং ষ্টেশনের সামনে। আগরতলা – সাব্রুম জাতীয় সড়ক অবরোধ করে অটো চালকেরা। সপ্তমীর সকালে রাস্তার উপর অটো রেখে এই সড়ক অবরোধের ফলে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও অন্যান্য যান চালকেরা। দীর্ঘ লাইন পরিলক্ষিত হয় রাস্তার দুধারে। ক্ষুব্ধ অটো চালকদের বক্তব্য গত কয়েক মাসের মধ্যে ধারাবাহিক ভাবে সি এন জি-র মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। শনিবার মধ্যরাত থেকে ফের একাবার কার্যকর হয়েছে নতুন মাশুল। এবার প্রতি কেজি সি এন জি-র মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে ৯ টা ৩০ পয়সা। অথচ অটো চালকদের বক্তব্য সেই অনুপাতে বাড়েনি ভাড়া। ফিটনেস, ট্যাক্স সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে অধিক মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই অবস্থায় সি এন জি-র ভাড়া বৃদ্ধি অটো চালকদের জীবন জীবিকার উপর আঘাত বলে জানান তারা। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।

তারপর এদিন জিবি থেকে নন্দননগর রাস্তা অবরোধ করে অটো চালকেরা। এর জেরে এই সড়কে বন্ধ হয়ে পড়ে যান চলাচল। দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। অটো চালকদের বক্তব্য গত কিছু দিন আগে প্রতি কেজিতে ৫ টাকা করে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি ঘটিয়েছিল টি এন জি সি এল। এরই মধ্যে আচমকা ষষ্ঠীর দিন ফের বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয় ফেরএকবার প্রতি কেজিতে ৯ টা ৩০ পয়সা করে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি সিদ্ধান্তের কথা। এভাবে সি এন জি-র মূল্য বৃদ্ধি ঘটানো হলেও ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি। তাই তাদের দাবি অটোর ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণা দিক সরকার। সমস্যার সমাধান ঘটাক অতিসত্বর। প্রশাসন ও সাধারন মানুষের নজরে নিতে এই সরক অবরোধ বলে জানান অটো চালকেরা। ভাড়া বৃদ্ধি করা না হলে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন ক্ষুদ্ধ অটো চালকেরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছায় পুলিশ। অটো চালকদের সঙ্গে কথা বলেন তারা। কিন্তু কোন সুরাহা হয়নি।

এদিকে  বি এম এসের কর্মী সমর্থক সহ অটো মালিক ও  শ্রমিকরা সিএনজি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির পেছনে মূলত কি কারণ রয়েছে তা জানতে সরাসরি চলে যান মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহার বাড়ির সামনে। দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে রাখি মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি। পুলিশ তাদের বিক্ষোভ প্রত্যাহার করতে বললে একটা সময় রাস্তায় বসে পড়েন অটো চালকেরা। বাড়ানো হয় পুলিশি ব্যবস্থা। তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সাময়িকের জন্য বন্ধ হয়ে পড়ে যান চলাচল। পরে বি এম এস- র এক প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রীর সাথে দেখা করেন। সি এন জি-র মূল্যবৃদ্ধির বিষয় নিয়ে কথা বলেন। ত্রিপুরা প্রাইভেট মজদুর মহাসংঘের পক্ষ থেকে ডেপুটেশন প্রদান করে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা শেষে বেড়িয়ে এসে বি এম এস নেতা অসীম দাস জানান, শনিবার মধ্যরাত থেকে সি এন জি-র মূল্য প্রতিকেজি ৯ টাকা ৩০ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে করে শ্রমিকদের উপর চাপ বেড়েছে। কষ্টের মধ্যে পড়তে হচ্ছে অটো চালকদের। তাই শ্রমিকদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত  প্রত্যাহার করার দাবি জানান তারা। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন পুজোর পরে এই বিষয় নিয়ে জানাবেন। পুজো শুরু হয়ে যাওয়ায় এখুনি সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। বি এম এস শ্রমিক, রাজ্য ও দেশের ক্ষতি চায়না। আগামী দিনে এই দাবি মানবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি। তবে আগামী দিনে দাবি কার্যকর না হলে বি এম এস আন্দোলনে নামবে বলে জানান তিনি।

এদিকে এক শ্রমিক দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে হবে এভাবে যদি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পায় এবং ভাড়া দিতে না পায় তাহলে কিভাবে তারা গাড়ি চালাবে। আরো বলেন বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে সিএনজি গ্যাসের মূল্য ছিল প্রতি কিলো ২২ টাকা। তারপর এই সরকার আসার পর ধাপে ধাপে লাফিয়ে ভাড়া বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে যান চালকদের আরও অভিযোগ সরকার শ্রমিকদের সাথে কথা না বলে মন্ত্রী মাফিক একের পর এক শ্রমিক বিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে চলেছে। তাই এবার আজ সরকারের শ্রমিক বিরোধী সিদ্ধান্ত মানা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা। এবং পূজোর ছুটিতে পরিকল্পিতভাবে এ ভাড়া বৃদ্ধি করে চক্রান্ত করা হয়েছে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে এমনটাই অভিযোগ তুলেন তারা। কিন্তু শ্রমিকরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী যেহেতু পূজোর মধ্যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না তাই তারাও অবরোধ পুজোর পরে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিলে তুলবে। আবার কেউ কেউ অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ যদি রাজ্যের সম্পদ ৩৩ টাকা করে বিক্রি করা যায় তাহলে কেন শ্রমিকদের কাছে এত মূল্য বৃদ্ধি করে বিক্রি করা হচ্ছে ? আচমকা পুজোর প্রাক মুহূর্তে সি এন জি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তে রাজ্য জুড়ে অটো চালকদের মধ্যে ক্ষোভ চরমে। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পরেও এই আঁচ কমার কোন উপক্রম নেই। সাময়িক সময়ের জন্য পথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও এর রেশ আরও বেশ গড়াতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারনা। এদিকে বাম সংগঠন সি আই টি ইউ -এর পক্ষ থেকে টিআরটিসি এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। সরকারের এই নীতি ধিক্কার জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য